চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

চট্টগ্রামে চাঁদা দিয়েই ঢুকছে গরু!

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৫ ২৩:৩৯:২৭ || আপডেট: ২০১৭-০৮-২৬ ১৪:৪৫:০৩

ইব্রাহিম খলিল
প্রধান প্রতিবেদক, সিটিজি টাইম্‌স 

চট্টগ্রাম মহানগরের সবকটি পশুর বাজারে কোরবানির গরুবাহী গাড়ি ঢুকাতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হচ্ছে। যা গরু প্রতি ৩ হাজার টাকারও বেশি পড়ছে। আর এই চাঁদার টাকা তুলতে গরু বিক্রীর উপর প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন বেপারীরা।

বেপারীরা জানান, নগরীর সিটি গেইট, একে খান, শাহ আমানত সেতু, পাহাড়তলি, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট মোড়সহ বেশ কয়েকটি স্থানে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এছাড়া হাট কর্তৃপক্ষকেও পরিশোধ করতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

শুক্রবার সকালে নগরীর সাগরিকা বাজার ঘুরে দেখার সময় চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিচ জানান, রাতে অনেক কষ্ট করে গরুর ট্রাক নিয়ে সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর সিটি গেইটে পৌছালে একদল লোক গরু প্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করে। পরে অবশ্য কমবেশি কিছু দিলে গাড়ি ছেড়ে দেয়।

একইভাবে একে খান এলাকায় গরু প্রতি ৫০০ টাকা চাঁদা নিয়ে গরুবাহী ট্রাক ছাড়ে। পাহাড়তলি এলাকায়ও একইহারে চাঁদা দিতে হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের শাহ আমানত সেতু ও কাপ্তাই রাস্তার মাথায়ও একইহারে চাঁদা দিতে হয়েছে।

এছাড়া সাগরিকা বাজারে প্রবেশের পর বাজার কর্তৃপক্ষ গাড়ী প্রতি ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নিচ্ছে। সব মিলিয়ে গরু প্রতি তিন হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে। আর এই টাকা তুলতে বেশি দামে গরু বিক্রয় করতে হবে বলে জানান ব্যবসায়ী ইদ্রিচ।

এ সময় সাগরিকা বাজারে যশোর থেকে আসা মো. আসাদ মিয়া, সিরাজগঞ্জ থেকে আসা শাহ আলম, বিবির হাটে আসা খুলনার গরু ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান, রংপুর থেকে আসা শরীফ প্রধান, লক্ষীপুর থেকে আসা আতিকুল্লাহও চাঁদা দেওয়ার কথা জানান।

কারা চাঁদা নেয়? জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা তো কাউকে চিনি না। দূর-দূরান্ত থেকে আসি। টাকা ছাড়া তারা গাড়ি ছাড়ে না। হাটবাজার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি।

এছাড়া এবার গরুর গাড়িপ্রতি হাট কর্তৃপক্ষের টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছর প্রতিগাড়ির গরুর বিপরীতে টাকা দিতে হতো ৪০ হাজার। এবার ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। তবে গরু বিক্রি হলেই হাট কর্তৃপক্ষের টাকা পরিশোধ করেন ব্যবসায়ীরা।

বিবিরহাটে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গরু ব্যবসায়ী বলেন, আমরা লোকসানে গরু বিক্রি করবো না। চট্টগ্রামে ঢুকতেই গরুপ্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। আবার গাড়িপ্রতি হাট কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হবে ৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতিটি গরুতে আমাদের অতরিক্ত খরচ হয় তিন হাজার টাকা।

তিনি আরো বলেন, এই তিন হাজার টাকা আমরা ক্রেতাদের কাছ থেকে কম নিতে পারতাম। কিন্তু লাভ করতে গেলে ওই টাকা পুষিয়ে বিক্রি করতে হবে। এখানে আমরা কাউকে চিনি না। হাট-বাজার কর্তৃপক্ষকে আমরা আগেই বিষয়টা জানাই। কিন্তু তারা প্রশাসনকে জানায় কি না আমরা জানি না।

সাগরিকা বাজারের ইজারাদার মো. জামশেদ খান বলেন, ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। গরুর দাম বৃদ্ধির জন্য অজুহাত খুঁজছে তারা। তারা নির্দিষ্ট করে আমাদের লিখিত অভিযোগ করে জানালে প্রশাসন অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রশাসনের সাথে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আমরা চাঁদাবাজির কোন খবর পাইনি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. ইকবাল বাহার এ প্রসঙ্গে বলেন, পশুবাহি ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে আমাদের কেউ জানায়নি। বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ