চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

কুরবানির শিক্ষা থেকে মানবতা জাগবে কি!

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-৩১ ১১:১৫:৩৭ || আপডেট: ২০১৭-০৮-৩১ ১৫:১৬:৫৯

আই যাইয়ুম রেঙ্গুন শ–রত, তোয়াল্লায় আইন্নম কি (অর্থাৎ আমি যাব রেঙ্গুন শহরে তোমার জন্য কি আনব)। এটি ছোটকালে শোনা খুবই জনপ্রিয় একটি গান। ঐ সময়ে মাইকে এবং মানুষের মুখে মুখে শুনতাম। এছাড়াও তখন মুরুব্বিরা বলতে শুনতাম একসময় এদেশের মানুষ অর্থোপার্জনের জন্য রেঙ্গুন শহরে যেতেন। তারমানে বুঝা যায়, তৎকালীন রেঙ্গুন বা বার্মা তথা আজকের মায়ানমারের সাথে আমাদের সম্পর্ক অনেক পুরনো এবং আন্তরিক। সেই মায়ানমারের মুসলমানরা আজ স্বদেশেই ইতিহাসের নিকৃষ্টতম নির্যাতনের শিকার।আরবি ক্যালেন্ডারের হিসাবে এখন জ্বিলহজ মাস। এ মাসেই আছে মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি। যার নাম ঈদুল আযহা। এ ঈদুল আযহাতেই আছে মুসলমানদের ইতিহাসে ত্যাগের নিদর্শন “কুরবানি”। ত্যাগের এ শিক্ষা থেকে মুসলমানদের জেগে উঠার সুযোগ আছে।

রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্যাতনের যে ভয়াবহ বর্ণনা সেটা লিখে অযথা লেখার কলেবর বাড়াতে ইচ্ছুক নই। কারণ, মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে বিশ্ববাসী মুহুর্তেই সব জানতে পারছে। তবে একটা কথা বলতেই হচ্ছে তাহলো, অবুঝ শিশুদের উপরও যে নির্যাতন করা হচ্ছে সেটা কি জঘন্যতম অমানবিক নয়? নারী, শিশুসহ মায়ানমারের মুসলমানদের উপর অত্যাচারের বদলা তাদের পেতেই হবে। মুসলমানদের সমৃদ্ধ ইতিহাস অন্তত তাই বলে। ভয় পাওয়া জাতি মুসলমান নয়। ধৈর্যের সাথে নির্যাতন সহ্য করে জীবন বিলিয়ে দেয়ার নজির আমাদের আছে। সেই ত্যাগের নজিরই মুসলমানদের ভরসা।

আগষ্ট মাস। আমাদের শোকের মাস। শোকর এ মাসে আমরা বলতে পারি, ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা লাভ করলেও এ স্বধীনতার পেছনে রয়েছে বহু ত্যাগ, বহু নির্যাতন, বহু সহযোগিতা। ত্যাগ, নির্যাতন দিয়ে আমরা কষ্ট বুঝি। আর সহযোগিতা পেয়ে সহযোগিতা করার মর্ম বুঝি। ও আমার প্রাণের বাংলাদেশ, ও আমার হৃদয়ের বাংলাদেশ, ও আমার অহংকারেরর বাংলাদেশ, ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ স্বাধীনতা রক্ষা করেছিলো মানবতা রক্ষার্থে। আজ যখন পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে মানবতা ভূলুন্ঠিত হচ্ছে তখন কি আমরা আবারও পারিনা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সহযোগিতার হাত বাড়াতে?

ও বাংলাদেশের জনগন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের এ সমস্যা বাংলাদেশ-ভারত বা বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সমস্যা নয়। এ দুটি দেশ সংশ্লিষ্ট কিছুু হলেই এদেশের মানুষের মধ্যে সমর্থনের দিক দিয়ে স্পষ্ট ভাগ দেখা যায়। সেটা হয়ত রাজনৈতিক অথবা আবেগের কারণে। কিন্তু মায়ানমারের চলমান সমস্যা রাজনৈতিক বা আবেগী নয়; মানবতা লংঘনের সমস্যা। লংঘিত মানবতা রক্ষার্থেই ধর্ম-বর্ণ এবং রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সামনে আগানো প্রয়োজন। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মায়ানমার সরকারকে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ নির্যাতন বন্ধে প্রচেষ্টা চালাতে পারে। এক্ষেত্রে অবশ্য আমরা শুভলক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী দুজনেই মায়ানমারের চলমান সমস্যায় ব্যাথিত এবং সমাধানে আন্তরিক। যা মিডিয়া মারফতে মনে হয়েছে।

লেখার শুরুতেই দেয়া গাণের লাইনটা মানুষের মুখে মুখে এমনি হয়নি। নিশ্চয়ই একসময় আমাদের দেশের মানুষ মায়ানমারে সুবিধার পাশাপাশি আন্তরিকতা পেয়েছিল। তাদের ঐ সময়কার উপকার এবং আন্তরিকতার বিনিময়ে হলেও মায়ানমারের চলমান বিষয়টা বিবেচনায় নেয়া উচিত। এতে কোন ধর্ম-বর্ণ বা রাজনীতি নয়; মানবতা আগে।

লেখক: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (নোমান) ,পাঠক ফোরাম প্রধান , সিটিজি টাইমস ডটকম, কলামিস্ট এবং শিক্ষক, মির্জাখীল আনোয়ারে রহমানিয়া আদর্শ দাখিল মাদরাসার, সাতকানিয়া, চট্রগ্রাম।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ