চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

এশিয়ার বাতাসে বারুদের গন্ধ তীব্র হচ্ছে

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-১৮ ১০:৪৬:৪৮ || আপডেট: ২০১৭-০৮-১৮ ১০:৪৬:৪৮

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যখন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর্যায়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তখন হিমালয়ের পাদদেশে ভারত ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কে উত্তেজনার পারদও চড়ছে। এই মুহূর্তে এশিয়ার বাতাসে বারুদের গন্ধ দিন দিন তীব্র হচ্ছে। দু’দেশের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন পোস্ট একটি বিশ্লেষণমূলক নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।

যেখানে বলা হয়, গত দুই মাস যাবৎ হিমালয়ের মালভূমিতে টানটান উত্তেজনা নিয়ে অবস্থান করছে দু’দেশের নিরাপত্তা বাহিনী। ভারতের ঘনিষ্ট ভুটানের অভিযোগের পর থেকেই উত্তেজনার শুরু। ভুটান অভিযোগ করে, চীনের সেনাবাহিনী তাদের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করছে। সঙ্গে সঙ্গেই ভারত দাবি করে, ওই অঞ্চল থেকে দু’পক্ষেরই সরে যাওয়া উচিত।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, একমাত্র সংলাপের মাধ্যমেই এই বিতর্ক এড়ানো সম্ভব। কিন্তু চীন জোর গলায় দাবি করে, ডোকলাম এলাকায় তারা ন্যায্যভাবেই সড়ক নির্মাণ করছে। সেই ভূমি তাদের নিজেদের বলেও দাবি করে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, দু’পক্ষের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ক্ষোভের সঙ্গে দেশটি জানায়, ওই অঞ্চলে ভারত যেভাবে প্রতিদিন অবৈধ অনুপ্রবেশ করছে তা অদূরদর্শিতার লক্ষণ। দিল্লিকে তারা সাফ জানিয়ে দেয়, শান্তি বজায় রাখতে অবিলম্বে ডোকলাম এলাকা ভারতীয় সীমান্তবাহিনী ত্যাগ করুক।

ভারত ও চীনের দুই হাজার ২২০ মাইল সীমান্ত এলাকা নিয়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন ঘটনা নয়। তবে উত্তেজনা থাকলেও গত অর্ধশতকেও সেখানে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, দু’দেশের সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিশ্বমহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধ দু’দেশের সম্পর্ক নিম্নগামী। এর মাঝে আবার চীন তাদের ভূখণ্ডের অখণ্ডতার বিষয়ে এই অঞ্চলে সরাসরি হুমকিও দিয়েছে। এদিকে এবারই প্রথম দু’দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনে তৃতীয় দেশ হিসেবে ভুটানও জড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এশিয়ার এই পার্বত্যাঞ্চলে সংঘাত শুরু হলে তা ভয়াবহ আকার নেবে। এমনিতেই জম্মু ও কাশ্মীরের লাদাখে বিচ্ছিন্নতাকামীদের সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী যুদ্ধে জড়িয়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে রয়েছে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়।

এই বিষয়ে লন্ডনের রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউটের কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ শশাঙ্ক যোশি বলছেন, ‘সীমান্ত নিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত ৩০ বছরে ভারত ও চীনের মধ্যে সঙ্কট এতটা মারাত্মক পর্যায়ে যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘এশিয়ার জনবহুল দু’টি দেশের ক্রমবর্ধমান ভূতাত্ত্বিক প্রতিযোগিতা এই অঞ্চলে অচলাবস্থার সৃষ্টি করতে পারে এবং এই প্রভাবটা খুব স্পষ্টভাবে দেখা দিতে পারে। দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের অবস্থান শক্তিশালী করার মাধ্যমে মহাদেশজুড়ে তাদের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনারও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।’

শশাঙ্ক আরও বলেন, ‘এশিয়ায় তাদের আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচক চোখে দেখছে না ভারত। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভারত এই আধিপত্যের বিরোধিতা করবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করবে।’

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ