চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

চট্টগ্রামে পৃথক ঘটনায় একদিনে নিহত ১৩

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২০ ২১:৪০:৫২ || আপডেট: ২০১৭-০৮-২০ ২১:৫৯:৩২

চট্টগ্রামে একদিনে পৃথক ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিবাগত থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে,  নগরীর শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে টোল প্লাজার সামনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দ্রুতগামী একটি বাস একটি সিএনজি অটোরিকশাকে চাপা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন মো. সোহেল (৩৫), তার স্ত্রী বৃষ্টি এবং তাদের দুই শিশু সন্তান সাবরিন (৫) ও সাবরুন (৩)।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার ( বন্দর) আরেফিন জুয়েল বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত অপরজন অটোরিকশার চালক। অটোরিকশা চালক হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা গেছেন।

নিহত অটোরিকশা চালকের নাম সুরুজ (৫৫)। দুর্ঘটনার পর বাস ফেলে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে বলে জানান এসআই জাবেদ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার ফায়ার স্টেশন এলাকায় বাসের ধাক্কায় ব্যাটারি চালিত রিক্সার একজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। রোববার সকাল ৮টায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে যুবকটির পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ। তবে তার বয়স আনুমানিক ২৫ বছরের মতো বলৈ জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বাসটিকে আটক করলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলাব্রত দাস জানান, বায়েজিদ ফায়ার স্টেশনের পূর্ব পাশে ড্রাইভার কলোনির সামনে ব্যাটারি চালিত একটি রিক্সাকে বাস থাক্কা দিলে এক যুবক গুরুতর আহত হন। আশংকাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

অন্যদিকে, নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় শনিবার দিনগত রাত ১টার দিকে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে তাসলিমা আক্তার নামে (২৩) এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত তাসলিমা কুমিল্লা জেলার কান্দিরপাড় এলাকার বাসিন্দা রোশন আলীর মেয়ে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলাব্রত দাস বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাসলিমাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছেলে বন্ধুর সঙ্গে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যান তাসলিমা। সেখান থেকে ফেরার পথে মোটরসাইকেলের পেছন থেকে পড়ে যান। এসময় পেছন থেকে আসা একটি লরি তাকে ধাক্কা দেয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

আমাদের মিরসরাই প্রতিনিধি এম মাঈন উদ্দিন জানান,  মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় জাকির হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। শনিবার (১৯ আগষ্ট) দিবাগত রাত সাড়ে বারোটায় উপজেলার ১২ নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের পূর্ব পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে। নিহত জাকির হোসেন উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পূর্ব খৈয়াছড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের বড়তাকিয়া যাত্রি ছাউনির সামনে একটি দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

এই ব্যাপারে খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোপাল চন্দ্র চৌধুরী জানান, উক্ত দুর্ঘটনা ঘটার পর রাত ২টার সময় ঘটনাস্থল থেকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী আমাকে বিষয়টি ফোনে জানায়। এছাড়া আমি রবিবার সকালে দুর্ঘটনা স্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। স্থানীয় লোকজন আমাকে জানিয়েছে, নিহত জাকির হোসেন শনিবার রাতে বড়তাকিয়া যাত্রী ছাউনির পাশে একটি দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক পাহারার দায়িত্বে নিয়েজিত ছিলো। রাত সাড়ে বারোটার সময় ওই দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটিকে ঢাকামুখি একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দিলে জাকির হোসেন গুরুতর আঘাত পায়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে মিরসরাই মাতৃকা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। আমি যতটুকু জানি, সামান্য টাকার বিনিময়ে জাকির হোসেন মাঝেমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড়তাকিয়া অংশে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ির পাহারার দায়িত্ব নেয়।

এই বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এস আই) শফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতে বড়তাকিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনা আমি শুনেছি। তবে নিহত ব্যক্তিটির পরিচয় এবং তিনি দুর্ঘটনা কবলিত কোন গাড়ির পাহারার দায়িত্বে ছিলো কিনা সে সর্ম্পকে আমি অবগত নই।

এদিকে, চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতু এলাকার কর্ণফুলী নদী থেকে মধ্য বয়সী এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া অজ্ঞাত এ নারীর আনুমানিক বয়স ৪০ বছর হবে বলে জানায় পুলিশ।শনিবার রাতে কালুরঘাট সেতুর ৫০০ গজ দুর থেকে লাশটি ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। তবে তার পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চান্দগাঁও থানার ওসি মো. আবুল বাশার জানান, নদীতে এক নারীর লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানে হয়েছে।

আমাদের বোয়ালখালী প্রতিনিধি জানান,  পাহাড়ের চূড়ায় শ্রমিক মো. মাসুদ (৩০) কাজ করছিলেন লেবু বাগানের জন্য বাঁশ কাটার। আকষ্মিক পা পিছলে তিনি পড়ে যান নিচে। উদ্ধারের সময় অজ্ঞান দেখে প্রায় সবাই আঁচ করতে পারেন মাসুদ হয়তো আর নেই।

তবুও ‘যদি বাঁচানো যায়’ এমন আশায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল তার নিথর দেহ। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রোববার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ঘটনাটি ঘটে বোয়ালখালী উপজেলার আহলা-করলডাঙ্গা পাহাড়ে। সেখানে একটি লেবু বাগানের শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন মাসুদ। লেবু গাছ যাতে ঝুলে না পড়ে সেজন্য শক্তি হিসেবে বাঁশ লাগানো হয়।সেই বাঁশ কাটছিলেন মাসুদ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের মেডিকেল ১ এর সহকারী উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘হাসপাতালে আনার পর পরেই মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। মাসুদ নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রাউটিয়ার মোক্তার উদ্দিনের পুত্র।’

অপরদিকে, চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন এলাকায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে স্বামী সাইফুল পলাতক রয়েছেন। রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নিহত জরিনা আক্তার (৩৫) ভোলা জেলার লালমোহন এলাকার সাইফুল শেখের স্ত্রী। সে শেরশাহ এলাকার এসিয়ান ফ্যাশন গার্মেন্টেসের সুপার ভাইজার হিসেবে কর্মতর ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি (তদন্ত) মো. মইন উদ্দিন জানান, দুপুরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জরিনার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নিহতের গলায় শ্বাসরোধের চিহৃ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে তার স্বামী শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।

অন্যদিকে,  প্রেমিকের বিয়েতে অস্বীকার করার পর ছয় তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালানো কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে।রোববার (২০ আগস্ট) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুমা আক্তার (১৬) নামের ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়। এর আগে সকাল সোয়া আটটার দিকে বাকলিয়ার আকতার সওদাগরের মালিকানাধীন ভবনের ছয় তলা থেকে নিচে লাফ দেয় সে।রুমা আক্তার পূর্ব বাকলিয়া সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবার নাম দুলাল মিয়া। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বি-পাড়া উপজেলায়। তবে বাবা-মায়ের সঙ্গে সে নগরীর বাকলিয়া এলাকার আকতার সওদাগরের মালিকানাধীন ওই ভবনে ভাড়া থাকতো।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশের মেডিকেল ১ এর সহকারী উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘শিহাব নামের স্থানীয় এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে রুমার। সম্প্রতি শিহাব তাকে বিয়েতে অস্বীকার করে আসছিল। এ নিয়ে হতাশ ও অপমানিত বোধ করে আত্মহত্যা করতে বাড়ির ছয় তলা থেকে নিচে লাফ দেয়।পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’

আমাদের বোয়ালখালী প্রতিনিধি জানান, বোয়ালখালীতে রহস্যজনকভাবে জহুরুল আলম (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২০ আগস্ট) রাত ৭টার দিকে মূর্মূষ অবস্থায় উপজেলা হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃতঘোষণা করেন।

নিহত জহুরুল আলম পৌর সদরের পূর্ব গোমদন্ডী শাহ আহমদ চৌধুরী পাড়ার মৃত মীর আহমদের ছেলে। তিনি নগরীর সিএন্ডবি এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

নিহতের ছেলে মো.সাজ্জাদ হোসেন জানান, নাশতা শেষে সন্ধ্যায় ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন তার বাবা। বেশকিছুক্ষণ পর বাবার মৃত্যুর সংবাদ পান তারা। কি কারণে তার মৃত্যু হয়ে তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেনি।

এ বিষয়ে উপজেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাপস কান্তি মজুমদার বলেন, আবু তৈয়ব নামের এক অটোরিকশা চালক জহুরুল আলমকে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণ পর তাকে মৃতু ঘোষণা করা হয়।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জহুরুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ