চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ডেটিং স্থান, নগরীর অভয়মিত্র ঘাট !

প্রকাশ: ২০১৭-০৮-২৩ ১৩:১৮:৪০ || আপডেট: ২০১৭-০৮-২৩ ১৫:৩৮:২৫

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সকাল নয়টার পর থেকেই খোশগল্প আর আড্ডায় মেতে উঠে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা

সাঈফী আনোয়ারুল আজিম

খুব দ্রুত স্কুল কলেজের প্রেমিক যুগলদের দখলে চলে যাচ্ছে নগরীর অভয়মিত্র ঘাট। এখানেই গড়ে উঠছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের আড্ডা দেয়ার নিরাপদ আস্তানা। স্কুল কলেজের প্রেমিকযুগল এখানে এসে লোক লজ্জাকে পেছনে ফেলে অন্তরঙ্গ জড়াচ্ছে প্রকাশ্যে। একে অপরকে জড়িয়ে চুমু খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সকাল নয়টার পর থেকেই অভয়মিত্র ঘাটে খোশগল্প আর আড্ডায় মেতে উঠে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এমন খোলামেলা দৃশ্য প্রতিনিয়তই উপভোগ করছে অভয়মিত্র ঘাটের নৌযান চালক, শ্রমিকসহ হাজারো পেশার মানুষ। নিত্যদিনের এমন দৃশ্যে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারাও বিব্রত। কলেজ জীবনে নতুন পা রাখা ছাত্রছাত্রীদের আনাগোনা আর অন্তরঙ্গ হওয়ার দৃশ্য বারণ করার মতো যেন কেউ নেই।

অভিযোগ উঠেছে প্রসাশনের নাকের ডগায় নগরীর প্রাণ কেন্দ্রে এমনটি হলেও তারা রয়েছেন উদাসীন। আর এ কারণেই এখন অনেকটাই বেপরোয়া স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। স্থানীয় স্কুল কলেজের ছেলে-মেয়েরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এখানে আসে প্রতিনিয়িত। ক্লাস ফাঁকি দিয়েই অভয়মিত্র ঘাটে এসে তারা আড্ডায় সময় পার করছে। স্থানটি তাদের জন্য নিরাপদ হওয়ায় এখানে প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন নতুন জুটি। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও ভাড়া খাটা অপরিচিত প্রেমিক প্রেমিকারাও এখানে আসে অনায়সে। তাদের কাঙ্কিত এই স্থানটিতে এসে যে যার মতো প্রেমে মত্ত হয়ে মেতে উঠেন প্রকাশ্যে। স্থানীয়রা জানালেন প্রতিদিনই এখানে বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীদের প্রেম নিবেদনে মত্ত হওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে।

অভয়মিত্র ঘাটে পান বিক্রেতা আলম জানান, শিক্ষার্থীদের এসব অসামাজিক কর্মকান্ডে আমরা বিব্রত। আমরা নিজের ছেলে মেয়েদের নিয়ে অভয়মিত্র ঘাট দিয়ে বের হতে পারিনা। এগুলো বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী।


অভয়মিত্র ঘাটের একজন নৌযান শ্রমিক জানান, নগরীর এই প্রাণ কেন্দ্রটি অরক্ষিত থাকায় এখন এটি স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ অন্তরঙ্গ স্থানে পরিণত হয়েছে। ঘাটের আশেপাশের বাসিন্দারা প্রতিদিনই এমন কুরুচিপূর্র্ণ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলেও তা প্রতিকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান এই নৌযান শ্রমিক। তিনি আরও জানান, উপায়ন্তর না থাকায় এখন এমন দৃশ্য দেখেও তারা চোখ বুজে থাকার চেষ্টা করেন।

এখানকার মাছ বিক্রেতা আলমগীর জানান, প্রতিদিনই সকাল থেকে দুপুর এবং পড়ন্ত বিকেলে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী এবং প্রেমিক যুগলরা এখানে পাড়ি জমায়। ঘাট এলাকায় তেমন গাছ-গাছালি না থাকায় মেরিনার্স সড়কের জন্য নির্মিত সিসি ব্লকে বসে আড্ডায় মেতে উঠে প্রেমিক প্রেমিকরা। অনেক সময় এখানে আড্ডা করতে এসে বখাটে ও নেশাখোরদের হাতে সর্বস্ব খোয়াতে হয় অনেক প্রেমিক যুগলকে।

অভয়মিত্র ঘাট দিয়ে নিয়মিত পারাপারকারী যাত্রী কল্যাণী জানান, এখানে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বেপরোয়া দৃশ্যগুলো দেখলে লজ্জায় মুখ ফিরিয়ে নিই। তিনি এসব শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে এমন অসামাজিক কাজ করবে কেনো? । তারাতো আমাদের ভবিষ্যত ।

একই কথা অভয়মিত্র ঘাটের চা বিক্রেতা জলিল ভান্ডারীর। তিনি জানান, এখানে আগত শিক্ষার্থীদের বাচন- ভঙ্গিমা দেখে হতভম্ব হয়ে পড়ি। ভাবি ভবিষ্যত প্রজম্ম নিয়ে। উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা এখানে এসে প্রকাশ্যে দিবালোকে একে অপরকে জড়াজড়ি করে। চুমো খায়। যে ভাবে বসে গল্প করে তা দেখে লজ্জায় এখানে থাকতে মন চায় না ।অভয়মিত্র ঘাটের আচার বিক্রেতা আরজু মিয়া জানান, সকাল ৯ টার পরপরই এখানে স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা এসে জড়ো হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওরা এখানে গল্প করে সময় পার করে দেয়। তিনি জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীর চেয়ে কলেজ ছাত্র ছাত্রীরা সংখ্যা বেশি।

অভয়মিত্র ঘাটে পাঁচ বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে আসা আফরোজা বেগম জানান, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা এখানে এতই বেপরোয়া এবং উচ্ছৃঙ্খল যে এখানে কোমলমতি শিশুকে নিয়ে ভ্রমণে আসাও সম্ভব নয়। তিনি আরো জানান, জনসম্মুখে কিভাবে এসব শিক্ষার্থীরা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। এই নারী আরও জানান, অন্তত প্রত্যেক অভিভাবকের উচিৎ তার সন্তানের ক্লাসের উপস্থিতি যাচাই করা। সে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কোনো আড্ডা কিংবা বিনোদন পার্কে সময় পার করছে কিনা।

অভয়মিত্র ঘাটে দুই দিনের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় সকাল নয়টার পরপরই বিভিন্ন কলেজের ইউনিফর্ম পরিহিত ছাত্র ছাত্রীরা এসে জড়ো হয়। দুজন একসাথে জুটি জুটি করে বসে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী আবার ইউনিফর্মটি খোলে ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখে। এদের সংখ্যাও অনেক।

জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অভয়মিত্র ঘাট এলাকায় যে সকল শিক্ষার্থীরা আড্ডা দেয়। তাদের বিরুদ্ধে শিঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

১৮ Replies to “শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ডেটিং স্থান, নগরীর অভয়মিত্র ঘাট !”

  1. এটা উচিত নয়,এটা মূলত বানানো হয়েছে পর্যটকদের জন্য।
    কিন্তু এভাবে প্রেমিক যুগলদের প্রেম করার স্থান এটি নয়।
    এ ব্যাপারে প্রসাশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই

  2. দিনে যা চলছে তার চেয়ে রাতের অবস্হা আরো ভয়াবহ।আমি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসন- কে অনুরোধ করছি ঐলাকায় যেসব অন্ধকার এলাকা আছে ঐসব এলাকায় হেলোজিন লাইটের ব্যবস্থা করতে।অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধ করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

  3. এই সব স্থান এ প্রবেশ বন্ধ করে যদি এই ধরনের সমস্যা সমাধান করা যেত তাইলে আসলেই অনেক সুবিধা হত। কিন্তু এই ভাবে এই সমস্যার সমাধান কখন ও হবে না বরং তারা আরো এগ্রসিভ হয়ে হয়তো রুম ডেট বা রেষ্টুরেন্ট ডেট এ যাবে যেইখানে টাকার বিনিময়ে নষ্ট হবে আরো বেশি জীবন এবং অকালে ঝড়ে পড়বে অনেক জীবন। মানুষের যৌন চাহিদা রয়েছে এবং থাকবে চিরকাল এটা কখনই নিজ সাধ্য থাকে না তাই এই ধরনের সমস্যা সমধানে চাই ভিন্ন ব্যাবস্থা। যার মাধ্যমে সাপ ও মরবে লাঠি ও ভাঙ্গবে।

    ভুল হলে কমা প্রার্থী।

  4. সকালে চুমু খাওয়া বা অন্যান্য যা বলা হয়েছে সবটাই অনেক বাড়িয়ে… আড্ডা দেয় পাশা পাশি বসে… ঠিক আছে…. বাট বাকিটা অনেক বাড়িয়ে বলা হয়েছে অন্তত দিনের বেলা….. সঠিক খবর দিলে… মানুষের ভুল বুঝা থেকে বাচা যায়.।

  5. প্রশাসনের যথাযথ তদারকি কামনা করছি।প্রশসন যদি নিয়মিত এই এলাকাটি তদারকির মধ্যে রাখে তাহলে এটি সাধারণ মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ভ্রমণ স্থান হবে।

  6. প্রেম করছে, খুন রাহাজানি হানাহানি না! অন্তত আর ১০টা সামাজিক অপরাধের মতো না! এটা হোটেল না, জংগলও না! কাহিনী বাড়িয়ে বলার দরকার কি? আড্ডা দিচ্ছে, ঘুরছে ইচ্ছামত, কারো ক্ষতি কি করছে? মা

  7. আপনাদের মতো কিছু সংকীর্ণমনা মানুষজনের জন্য এ সমাজটা কখনো পরিবর্তনের মুখ দেখবেনা! আপনারা সবাই প্রেমের মতো পবিত্র একটি ব্যাপারকে বানিয়ে তুলেছেন নর্দমার চেয়েও দুর্গন্ধময়!! প্রেম একটি আদিম প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আমরা আলোর মুখ দেখেছি পৃথিবীর। একে অস্বীকার করার জো আমাদের নাই।
    প্রেমিক প্রেমিকারা যে কতো অপেক্ষার পর পরস্পরকে একটু কাছে পায়, তা আপনারা কখনো টের পাবেন না। কারণ প্রেমের স্বাদ আপনাদের জোটেনি। আপনাদের অন্তরে ঈর্ষা!!
    হোটেল, পার্ক, ডার্ক রেস্টুরেন্ট সবখান থেকে তাদের লাথি মেরে মেরে তাড়ানোর পরে বেচারারা কোথায় যাবে একবারো ভেবেছেন?
    শিশু পার্কে তাই আর শিশুরা যায় না, যায় প্রেমিক-প্রেমিকারা!
    ধূলোময় নগরীর ব্যস্ত পথঘাট ছেড়ে যখন তারা অভয় মিত্র ঘাটে একটু নিরালায় বসার সুযোগ পায়, তারপরো ভিখারীর টাকা, হিজড়াদের ট্যাক্স, ইভটিজিং, মানুষের কামুক চোখের ভয় সব এড়িয়ে কতোটা দ্বিধায় তারা একটি চুমু খায় সে হিসেব একজন প্রেমিক হিসেবে আমার কাছে পাবেন।

    কজন প্রেমিক-প্রেমিকা পাড়ার মাস্তানদের ট্র‍্যাপে পড়ে সব হারিয়েছে তার খবর রেখেছেন মশাই?
    আপনারা তো বলবেন, “চুমু খেয়েছে, পাপ করেছে, ঠিকই আছে, এমনটাই হওয়া উচিত”।

    কজন হিজড়ার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন আপনারা?
    আপনারা তো হিজড়া দেখে দু’হাত তুলে সিটি বাজিয়ে কেবল টিজই করেছেন। তাদের ভেতরের মানুষ্টাকে চিনবেন কেমন করে? কেনো তারা এমন পথটাকে বেছে নিলো?

    কে বা কারা অভয়মিত্র ঘাটের কোটি টাকার ড্রেজিং পাইপ পুড়িয়েছে তার সন্ধান পেয়েছেন?
    আপনারা তো বলবেন, “ওসব কর্তৃপক্ষ জানে।”
    চোর-ডাকাত, দুর্নীতি কোনটাকে সমাধান করতে পেরেছেন।
    জানি আপনারা কিছুই পারবেন না।
    কারণ আপনারা নির্বোধ।
    নিরপরাধ প্রেমিক-প্রেমিকার পিছেই লাগতে পারবেন। আপনাদের যে কপালে সুখ সয় না! ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা সুখীদের ঘাড়ে চাপাতে চান।

  8. আপনার সন্তান বেড়ে ওঠার সাথে সাথেই বুঝতে পারবে প্রেম একটি জৈবিক ও মানসিক প্রক্রিয়া। প্রেমকে ট্যাবু করে রাখবার কোন দরকার নাই। তারা উপযুক্ত শিক্ষা পায় না বলেই বড়ো হয়ে ধর্ষক, ইভটিজার, প্রতারক হয়ে ওঠে।

  9. আপনার মতো সাংবাদিকরে তো অস্কার দেওয়া উচিত। লা লিগায় গ্রিজম্যান কে রেফারী লাল কার্ড দেবার পর গ্রিজম্যান বলেছিলো, “You are a pussy!”
    এক বাংলাদেশী বিখ্যাত দৈনিক পোর্টালের রিপোর্টার ছাপিয়েছেন, “গ্রিজম্যান রেফারীকে বেড়াল বলেছেন!!”

    আপনারা হলেন সেই গোবরমাথার সাংবাদিক যারা “Pussy” শব্দের মানে বেড়াল বলেই আজ পর্যন্ত জেনে আসছেন!
    দেশের বহুবিধ সমস্যায় আপনাদের চোখ পকেটে থাকে। কিন্তু, রিকশার টায়ার পাঞ্চার হলেই সেটাকে নিউজ বানান।
    আপনি কি চান, এরা মুক্ত বাতাসে সুন্দর পরিবেশে প্রেম না করে হোটেলে যাক!! সেখানেও আপনার পাল্লা ভারি! আরো কড়া রিপোর্ট করতে পারবেন। দু পয়সা আয় হবে আর সেটা নিয়ে বদ্ধ কামরায় সুশীল ফুর্তিতে মেতে উঠবেন।
    জাতীয় প্রশ্ন, কোন যুগে প্রেম নিষিদ্ধ ছিলো? আপনিও নিশ্চয় প্রেম করেছেন। আই ভেরি মাচ ডাউটেড আপনি আবদ্ধ কামরার প্রেমিক। আপনার তো পতিতালয় পছন্দ, প্রকৃতি না!
    For your kind information, এখানে মানুষ ফ্যামিলি নিয়েও ঘুরতে আসে। আপনার জন্য দোয়া রইলো, আপনার পরিবারের কেউ যেনো এখানে প্রেম না করে আবদ্ধ কামরায় প্রেম করে। কারণ, সেটাই আপনার পছন্দের জায়গা।
    এরকম বস্তা পঁচা রিপোর্ট করার আগে ঘেঁটে দেখবেন, সমাজে সুস্থধারার প্রেম আগেও ছিলো, এবং আপনার মতো অসুস্থ রিপোর্টারের জন্যে সুস্থ প্রেম কখনো থেমে থাকবে না।

    ঝালমুড়িওয়ালা, বাদামওয়ালা টাইপ মেন্টালিটি নিয়ে রিপোর্ট করবেন না।
    লাল সালাম।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close