চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান বিএনপির

প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১০ ২২:০৪:২৮ || আপডেট: ২০১৭-০৯-১০ ২২:০৪:২৮

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা দিন দিন আমাদের জাতীয় সমস্যা হয়ে উঠছে। আমরা এ ব্যাপারে ঐক্য চাই। তাই আসুন রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। কারণ ষড়যন্ত্র হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকামী মানুষের বিরুদ্ধে।’

রবিবার (১০সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

গত ৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস ছিলো। এছাড়া ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার কারামুক্তি দিবস।

আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রের আতঙ্কে ভুগছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এরা (আওয়ামী লীগ) দুঃস্বপ্ন দেখছে। সব কিছুতেই ষড়যন্ত্রের গন্ধ পায়। তাই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিএনপি যখন কথা বলে, মানবতার পক্ষে দাঁড়ায় তখন সেখানেও তারা ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পান।’

দেশে আর একতরফা নির্বাচন করতে দেয়া হবে না-এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত। আর সরকার আবারও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটি তামাশার নির্বাচন করতে চায়। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই- আগামী দিনে বাংলাদেশে নির্বাচন হবে খালেদা জিয়ার সহায়ক সরকারের মাধ্যমে। নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া তামাশার নির্বাচন এদেশে আর করতে দেয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার টিকে আছে অস্ত্রের জোরে। তারা মিথ্যা মামলা, খুন ও গুম করে বিএনপিকে প্রতিহত করতে চান।’

ছাত্রদলের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খুন, গুমের ভয়কে জয় করে আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘১/১১ সরকারের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান প্রায় ১০ বছর ধরে নিবার্সিত জীবন যাপন করছেন।’

ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার অনির্বাচিত সরকার বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় নিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানিরা যেমন গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না তেমনি শেখ হাসিনাও গণতন্ত্র বিশ্বাস করেন না।’

শেখ হাসিনা না থাকলে ওবায়দুল কাদেরের ভবিষ্যত নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি দুই একটা সুবিধাবাদী থেকে থাকে তার মধ্যে উনি (কাদের) একজন। শেখ হাসিনা ১/১১ সরকারের সকল অপকর্মের সাংবিধানিক বৈধতা দিয়েছেন। তাই তো আওয়ামী লীগকে জিততে হলে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী থাকতে হবে।’

ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, তথ্য-বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুসহ ছাত্রদল নেতারা।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ