চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বার্মিজ পণ্য বর্জনের ডাক গণজাগরণ মঞ্চের

প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১১ ২১:৪৯:২২ || আপডেট: ২০১৭-০৯-১১ ২১:৪৯:২২

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন-হামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদে মিয়ানমারে তৈরিকৃত সব ধরনের বার্মিজ পণ্য বর্জন করতে বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকায় মিয়ানমারের দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচির আগে গুলশান-২ নম্বরে গোল চত্বরে এক সমাবেশ থেকে এমন ঘোষণা দেন মঞ্চের মুখপাত্র ড. ইমরান এইচ সরকার।

তিনি বলেন, ‘দেশজুড়ে বার্মার যেসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তা বাংলাদেশের বর্জন করবে। কারণ এসব পণ্যে রোহিঙ্গাদের রক্তের দাগ লেগে আছে। বিক্রিত এই অর্থ দিয়ে মিয়ানমার অস্ত্র কিনছে। তাই সর্বাত্মকভাবে আমরা সকল ধরনের বার্মিজ পণ্য বর্জনের ডাক দিচ্ছি। দেশের কোথাও বার্মিজ পণ্য বিক্রি হতে দেওয়া হবে না।’

মিয়ানমার বা বার্মা থেকে চাল আমদানির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার তা থেকেও সরে আসার আহ্বান জানিয়ে ইমরান বলেন, ‘মিয়ানমারের চালে মানুষের রক্তের ঘ্রাণ। রোহিঙ্গাদের রক্তমাখা চাল বাঙালি কিনবে না, খাবে না। এই চাল বাংলাদেশে ঢুকতেও দেয়া হবে না।’

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিক সহায়তায় বিশ্ববাসীর প্রশংসার কথা তুলে ধরে মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ইমরান।

অং সান সু চি’র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার নির্বিচানে গণহত্যা চালাচ্ছে। এই আচরণ মাত্রা ছাড়িয়েছে। যে দেশে এত বড় মানবতাবিরোধী অপরাধ হচ্ছে, সে দেশের প্রধান আবার শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন।’

সমাবেশ শেষে মিয়ানমারের দূতাবাস অভিমুখে রওনা হলে গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এ সময় মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চারটি দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দূতাবাসে দিয়ে আসেন।

গণজাগরণ মঞ্চের উল্লিখিত চার দাবির মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা বন্ধ করতে হবে; মিয়ানমারে ১৯৮২ সালে নাগরিক আইন সংশোধন করে তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে; বাংলাদেশের অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সম্মানের সঙ্গে ফেরত নিতে হবে এবং এই গণহত্যায় জড়িতদের অবিলম্বে যথাযথ বিচারের আওতায় আনতে হবে।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ