চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

না ফেরার দেশে চবি ক্যাম্পাসের বিখ্যাত “মউ”

প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১৫ ১৫:৫৮:৫৭ || আপডেট: ২০১৭-০৯-১৬ ১০:৩৫:৫৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মউয়ের দোকান’ এর সেই ‘মামা’ গুরা মিযা সওদাগর আর নেই।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন পেইজে শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু খবর নিশ্চিত করা হয়। বাদ আছর মদন ফকির মাজার প্রাঙ্গনে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

গুরামিয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাজে ‘মউ’(মামা) নামেই বেশি পরিচিত। হাজারো ভাগিনা-ভাগ্নি তার। রক্তের বন্ধন না থাকলেও সবার ভালবাসার মামা ছিলেন এই গুরা মিয়া। হাসোজ্জ্যল মুখ আর আন্তরিকতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সাথে তিনি গড়েছিলেন আত্নীয়তার বন্ধন।

প্রায় চল্লিশ বছর ধরে চবি শিক্ষার্থীদের কাছে খাবার বিক্রী করছেন গুরামিয়া সওদাগর। শিক্ষার্থীরা তাকে ভালবেসে মামা ডাকেন। তাই,তার চবি স্টেশনের পাশের দোকানটির নামও চট্টগ্রামের স্থানীয় ভাষায় `মউর দোয়ান’ (মামার দোকান)।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে নেমেই শিক্ষার্থীরা আসেন মউর দোকানে নাস্তা খেতে। মউর দোকানের ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক না দিলে অনেক শিক্ষার্থীর দিনটাই ভালভাবে শুরু হয় না।
চবি স্টেশনের পাশে অনেকগুলো খাবারের দোকান থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মামার দোকানই। সকাল থেকে রাত শিক্ষার্থীদের পদচারণা, আড্ডা, গান আর রাজনৈতিক স্লোগানে সবসময়েই জমজমাট থাকে তার দোকানই ।

শুধু অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাই নয়, চবির সাবেক শিক্ষার্থীরাও এ দোকানে আসেন সজীব স্মৃতিময় দিনগুলো ফিরে পেতে।

মউয়ের স্মৃতিচারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষক তার ফেসবুক স্ট্যাটাস লিখেন,  “মউ (মামা) ছিলেন আমাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কারবর্জিত আধুনিক মানুষ। ২০০৮ সালের দেশজুড়ে সেনা শাসনের জরুরি অবস্থার আগস্ট ছাত্র বিদ্রোহে মউ আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন রান্নার চুলার জন্য কেনা কাঠ! এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু পিএইচডি পণ্ডিতের লেকচার বা পৌণে পিএইচডিদের কচকচানির চাইতেও তাঁর মুখে চট্টগ্রামের ভাষায় ঝারি খাওয়া ছিলো অনেক শিক্ষণীয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি, প্রেম, সংঘাত, চ্যারিটি, পাঠচক্র বহুকিছুর কালের সাক্ষী এই মউর দোয়ান। বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়ে, না পড়িয়ে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়েই তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন এই মউ। আজ মউ আর নেই। দুনিয়াজুড়ে লাখো ভাইগনা-ভাগনি রেখে চলে গেলেন সকল লেনদেনের ওপারে। অ মউ, ভালা থাইক্ক!”

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ