চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৮

চট্টগ্রামে ৩৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে হচ্ছে ২০ তলা ওয়াসা ভবন

প্রকাশ: ২০১৭-১১-৩০ ২৩:০৫:৩৫ || আপডেট: ২০১৭-১২-০১ ০৯:৫৭:২৯

মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
স্পেশাল করেসপন্ডেট, সিটিজি টাইমস

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কেন্দ্রস্থলে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে যাচ্ছে ২০তলা ওয়াসা ভবন। যেখানে থাকবে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা। থাকবে ভবনের উপরিভাগে হেলিপ্যাড সুবিধা। ফলে ভিআইপি, সিআইপিসহ দেশ বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অনায়াসে এই ভবনে হেলিকপ্টার যোগে যাওয়া-আসার সুযোগ পাবেন।

নিরাপত্তা বূহ্য থাকবে ভবনের চারপাশ ঘিরে। এতে যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্টান এই ভবনে স্বাচ্ছন্দে কাজ করতে পারবে। অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত নান্দনিক এই ভবন পরিণত হবে আস্থার ঠিকাণায়। এমনটাই মনে করছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ওয়াসা সুত্র জানায়, নগরীর দামপাড়াস্থ ওয়াসা প্রধান কার্যালয়ের পেছনে একটি ৫ তলা ভবনের জন্য সরকার অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু এতে স্থান সংকুলান যেমন হবে না, তেমনি ওয়াসার মূল্যবান ভূ-সম্পত্তিরও যথাযথ ব্যবহার হবে না বলে মনে করেছেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ, কে, এম ফজলুল্লাহ। তাই অনেক দেন দরবার করে সরকারের কাছ থেকে ওয়াসার জন্য ২০তলা ভবনের অনুমোদন করিয়ে নেন।

ওয়াসার প্রকৌশল বিভাগ জানায়, চট্টগ্রাম ওয়াসার চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রোভমেন্ট এন্ড স্যানিটেশান প্রজেক্ট (সিডব্লিউ এসআইএসপি) প্রকল্পের আওতায় কন্সালটেন্সি প্যাকেজ এস-৩০ এর আওতায় ১.৫৮৩০ একর ভূমির উপর ৩৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে নগরীর দামপাড়াস্থ চট্টগ্রাম ওয়াসার মোড়ে প্রধান কার্যালয়। প্রাথমিকভাবে কম্পাউন্ডের অভ্যন্তরের পেছনের অংশে ১টি ২০তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মিত হবে।

এটির নির্মান সম্পন্ন হলে ওয়াসার বর্তমান প্রধান কার্যালয়টি ভেঙ্গে তদস্থলে ৬তলা বিশিষ্ট পুডিয়াম নির্মান করে এটিকে ২০তলা বিশিষ্ট মূল টাওয়ারের সাথে যুক্ত করা হবে। ইতিমধ্যে ওয়াসার বহুতল ভবন নির্মানের জন্য সকল বিধি বিধান মেনে ওয়াসার নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় সরকারের স্থানীয় বিভাগ হতে অনাপত্তি দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার ২৭তম বোর্ড সভায় তা অনুমোদন হয়েছে।

তবে (সিডব্লিউএসআইএসপি) প্রকল্প এ ধরনের ভবন নির্মানের কোন বিধান এবং অর্থায়ন না থাকায় কাজটি চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্মান বিভাগ-২ এর মাধ্যমে বাস্তাবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির পরামর্শক নিয়োগ পেয়েছে মেসার্স ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালটেন্ট লিঃ (ডিডিসি)।

প্রথম পর্যায়ে ভবনটির ফাউন্ডেশন ও দুইটি বেইজমেন্টসহ মোট তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অগ্রিম নিয়ে বাকী কাজ সম্পন্ন করা হবে। এখানে থাকবে ২৪৮টি কার পাকিং সুবিধাসহ মোট ফ্লোর স্পেস ৬ লাখ ২৯ হাজার ৯৬৮.২০ বর্গফুট। প্রথম পর্যায়ে দুইটি বেইজমেন্টের ফ্লোর এরিয়া ৪৭ হাজার ১১৪ বর্গফুট এবং তিনটি ফ্লোরে ফ্লোর স্পেস ৭০ হাজার ৬৫০ বর্গফুটসহ সর্বমোট ১১ লাখ ৭ হাজার ৭৬৪ বর্গফুট। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০তলা ভবনের ফাউন্ডেশন, ২টি বেজমেন্টসহ তিনতলা ভবনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি টাকা যা মোট ব্যায়ের ২৬ শতাংশ।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সিটিজি টাইমসকে বলেন, ‘ওয়াসার প্রধান কার্যালয় এর অবস্থানগত কারণে ভূমির মূল্য অনেক বেশি হওযায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সম্পদের টেকসই ও বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনে এবং প্রস্তাবিত ভবনের একাংশে বাণিজ্যিক ব্যবহারের ফলে চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য একটি স্থায়ী ক্যাশ ফ্লো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।” তিনি জানান, প্রকল্পের কাজ শুরু হবে আগামী বছরের এপ্রিলে। শেষ হবে ২ বছর পর ২০২০ সালের এপ্রিলে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ. কে, এম ফজলুল্লাহ সিটিজি টাইমসকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম ওয়াসার দামপাড়া প্রধান কার্যালয়টি চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে ১৫ হাজার ৮৩০ একর ভূমির উপর অবস্থিত। এই ভবনের তিন পাশে রয়েছে সুপ্রশ্রস্থ রাস্তা। সেই কথা মাথায় রেখেই ভবনের ডিজাইন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা শেখ হাসিনা পানি শোধনাগারসহ ৪টি পানি শোধনাগার নির্মান কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এতে চট্টগ্রাম ওয়াসার কলেবর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য পর্যাপ্ত অফিস প্রয়োজন। এছাড়া এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে দৈনিক বড় অংকের অর্থ ওয়াসার ফান্ডে জমা হবে। এতে চট্টগ্রাম ওয়াসা আর্থিকভাবেও শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারবে।’’

চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্মান বিভাগ-২ এর তথ্য মতে, প্রধান কার্যালয়ের মোট নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮১কোটি টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০তলা ভবনের ফাউন্ডেশন, ২টি বেজমেন্টসহ তিন তলা ভবনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ -১০০ কোটি টাকা যা মোট ব্যায়ের ২৬ শতাংশ।

বাণিজ্যিকভাবে নতুন ভবনের ফ্লোর স্পেস ভাড়া দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সে হিসেবে ভাড়াটিয়াদের থেকে পাওয়া যাবে অগ্রিম ১৪১কোটি টাকা যা মোটব্যায়ের ৩০শতাংশ। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যাবে ২৬৭ কোটি টাকা। এছাড়া প্রতিবছর ভাড়া পাওয়া যাবে ১৫১ কোটি টাকা। প্রকল্প নির্মান শুরুর ৪ বছর পর থেকে ব্যাংক ইনস্টলমেন্ট দিতে হবে ৪১কোটি টাকা হারে ।

ব্যাংক থেকে ২৬৭ কোটি টাকার বিনিময়ে ১৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে ৬২০কোটি টাকা। এছাড়া ও ভবনটির বাৎসরিক রক্ষণাবেক্ষন খাতে ব্যয় হবে সাড়ে ৭ কোটি টাকা।

আপনার মতামত দিন....

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ