চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

টেকনাফে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা বাড়লেও কমেনি ইয়াবা পাচার ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৭ ১৭:১০:২৭ || আপডেট: ২০১৭-১২-০৭ ১৭:১০:২৭

৪ মাসে ৪০১টি মামলায় ৭’শ ২৬ জনের সাজা

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহায়তা ও প্ররোচনা, মানবপাচারকারী দালাল, মাদকসেবী ও বিক্রয়ের অভিযোগে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন গত ৪ মাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৪০১ টি মামলার বিপরীতে ৭’শ ২৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছে। এছাড়া অর্থদন্ড ও যানবাহনের জরিমানা দিয়ে আদায় করেছেন ৪ লক্ষ ৫৬ হাজার ৯’শ টাকা। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহায়তা ও প্ররোচনা, মানবপাচারকারী দালাল, মাদকসেবী ও বিক্রেতা রয়েছে।

তবে সাত শতাধিক জনকে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা প্রদান করা হলেও মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও ইয়াবা পাচার অব্যাহত রয়েছে। এর বিপরীতে ইয়াবা পাচার ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদীতে মাছ শিকার গত তিন মাস যাবৎ বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু ফলাফল শুণ্য বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও নির্বাহী অফিসার জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক চলতি বছরের গত ১৫ আগষ্ট হতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে। ১৯৯০ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, ১৮৬০ সনের দন্ডবিধি ও ১৯৮৩ সনের মোটরযান আইন অনুসারে রোহিঙ্গা পারাপারের দালাল, বাসা ভাড়া ও বাণিজ্যে লিপ্ত থাকায় ৭’শ ২৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছে। এর মধ্যে আগষ্ট মাসে ১৯ জন, সেপ্টেম্বরে ২৯৩ জন, অক্টোবরে ২৫৬ জন, নভেম্বরে ৭৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান ও বাকীদের অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভুমি) প্রণয় চাকমা পৃথকভাবে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা ও অর্থ দন্ড প্রদান করেন। তাদেরকে ৪০১টি মামলার বিপরীতে ৭শ ২৬ জন দালাল ও মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে কারাগারে প্রেরণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বেপরোয়া ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহন চলাচলের কারণে ৪ লক্ষ ৫৬হাজার ৯শ টাকা নগদ টাকা জরিমানা করা হয়। এব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক জানান, সীমান্তে অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এদিকে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন যাবতীয় অপরাধ দমন করে শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসলেও মাদক চোরাকারবারীদের অপতৎপরতা বন্ধ না হওয়ায় টেকনাফের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে।

অপরদিকে নাফনদীতে জেলেদের মাছ শিকার বন্ধ রাখা হলেও মাদক চোরাকারবারীদের অপতৎপরতা বন্ধ না হওয়ায় শিগগিরই উখিয়া-টেকনাফ মাদকসেবী ও চোরাকারবারীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশংকা করছেন অনেকে। তবে সাত শতাধিক জনকে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা প্রদান করা হলেও মিয়ানমার থেকে প্রতিদিন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও ইয়াবা পাচার অব্যাহত থাকায় জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও ইয়াবা পাচার বন্ধের অজুহাতে গত তিন মাস ধরে নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে নাফ নদী নির্ভর হাজার হাজার জেলে ও পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। রোহিঙ্গাদের কারণে শ্রম বাজার তাদের দখলে চলে গেছে। বিভিন্ন এনজিও সংস্থায় স্থানীয়দের চাকুরীতে নিতে গড়িমসি করছে। ফলে এক প্রকার নিরব চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে টেকনাফ- উখিয়ার জনগনের মাঝে। তাই এ থেকে উত্তোরনে প্রকৃত অপরাধীদের দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সচেতন মহল দাবী করেছেন।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ