চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বর্ষা শেষ হলেও সংস্কার হয়নি বন্দরনগরীর সড়ক, অবর্ণনীয় দুর্ভোগ

প্রকাশ: ২০১৭-১২-১১ ১৬:৫২:১৭ || আপডেট: ২০১৭-১২-১১ ১৭:০১:১৫

আখতার হোসাইন

টানা বর্ষার মৌসুম শেষে হলেও এখনো সংস্কারের মুখ দেখেনি চট্টগ্রাম নগরীর অনেক সড়ক। বর্ষায় ভেঙ্গে যাওয়া সড়ক এবং বি টুমিন উঠে যাওয়া অংশে রিপেয়ারিং করলেও পুরো সড়ক সংস্কারে কোন উদ্যোগে নজরে পড়ছে না। নগরীর বেশ কটি প্রধান প্রধান সড়কের বেহাল দশার কারণে যাত্রীদের চলাচলে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর-অক্সিজেন ও ষোলশহর ২নং গেইট- অক্সিজেন, বহদ্দারহাট-কালুরঘাট এবং বহদ্দারহাট থেকে নতুনব্রীজ এই প্রধান প্রধান সড়ক গুলো চলাচলের অনুপযুক্ত হলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগে নেয়া হচ্ছে না। সারা বছর হয় ওয়াসা, না হয় টিএন্ডটি কিংবা গ্যাস- এসব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের খোঁড়াখুঁড়ি লেগেই আছে। আছে আবার নগরীর প্রধান সড়কজুড়ে উড়াল সেতু নির্মাণের কাজ। সেবা প্রদানকারী সংস্থা গুলোও একে অপরেরর দোষ চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। এই সড়ক গুলোতে অনেকাংশে ওয়াসার কাজ শেষ হলেও সেখানে রাস্তা মেরামতের কাজ করা হয়নি। ফলে দুর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

চট্টগ্রামে সেবাদান ও উন্নয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত অধিকাংশ সংস্থাই একে অপরের দায় বা অভিযোগ তুলে দিয়ে নিজেদের দায় দায়িত্ব শেষ করতে ব্যস্ত। বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে প্রচন্ড রকমের সমন্বয়হীনতার কারণে চট্টগ্রামবাসীকে তো চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছেই, পাশাপাশি অন্য জেলা থেকে যারা চট্টগ্রামে বেড়াতে বা কাজে ভ্রমণ করছেন তারাও বিরক্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে চট্টগ্রামের এসব ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটের সংস্কারের জন্য না চট্টগ্রামের রাজনৈতিক দল, না সামাজিক-সাংস্কৃতিক, না কথিত সচেতন সুশীল সমাজ কারো পক্ষ থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগে কোনো গ্রহণযোগ্য জনজাগরণও সৃষ্টির চেষ্টা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম নগরী ও নগরী থেকে বের হয়ে উপজেলা বা অন্য জেলাগুলোতে যাওয়ার জন্য যেসব সড়কগুলো রয়েছে সেগুলোরও চরম বেহাল দশা। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সড়কগুলো নির্মাণ ও তদারকির দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মূলত পরিকল্পিত নগর নির্মাণে বিল্ডিংসহ অবকাঠামো উন্নয়নে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে থাকে। পাশাপাশি নতুন সড়ক নির্মাণ করে তা সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে দেখভাল করার জন্য। তাই স্বাভাবিকভাবেই নগরীর রাস্তাঘাট ভেঙে গেলে তা পুনঃসংস্কার করার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের ওপরই বর্তায়। অধিকাংশ সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী হলেও এসব রাস্তা দিয়েই বাধ্য হয়ে চালাতে হচ্ছে যানবাহন। আর এতে করে প্রতিনিয়ত হচ্ছে দুর্ঘটনা। পাশাপাশি কমছে গাড়ির আয়ুষ্কাল। ভাঙাচোরা সড়কে যানচলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

এ সব ভাঙাচোরা সড়কে যানবাহন চলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। ৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লাগছে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা। সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। নগরীর বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। এ ছাড়া অক্সিজেন থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত হাটহাজারী সড়ক এবং কালুরঘাট সড়কের অনেকাংশে ওয়াসার কার্যক্রম শেষ বা অনেক জায়গায় শেষ হলেও তা ভরাট করা হয়নি। নতুন ভাবেও বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। তবে এটি ঠিক, ওয়াসা, টিএন্ডটি, গ্যাস কর্তৃপক্ষ বা অন্য কেউ সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন সড়ক খুঁড়ে কাজ শুরুর আগেই তা মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সিটি কর্পোরেশনকে পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু এরপর সেসব খোঁড়াখুঁড়ির জায়গাগুলোর মেরামতের দায়িত্ব থাকে সিটি কর্পোরেশনের ওপর।

এই ভাঙা রাস্তার জন্য অনেক গাড়ি নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তেই শুধু নয় নগরীর ভেতরেও অনেক জায়গায় যেতে চায় না। গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশও নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রীদের শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের যেমন দুর্ভোগ বাড়ছে তেমনি অভিভাবকদেরও দুর্ভোগের শেষ নেই। চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়কে অবস্থিত চুয়েট থেকে নগরীতে আন্দরকিল্লা বা নিউমার্কেট পৌঁছতে স্বাভাবিক সময়ে লাগত এক থেকে দেড় ঘণ্টা যেখানে এখন কখনো কখনো ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময়ও ব্যয় হয়ে যায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কর্পোরেশনের অধীনে চট্টগ্রাম মহানগরীতে মোট ১ হাজার ১৭৪ কিলোমিটারের এক হাজার ৪০টি সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৬২০ কিলোমিটার পিচঢালা সড়ক রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে নগরীর অন্তত ৫০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়াও ওয়াসার কাজের কারণে কয়েকটি সড়কে কাজ করা যাচ্ছে না। ওয়াসার কাজ শেষ হলে দ্রুত ঐসব সড়ক মেরামের উদ্যোগ নেয়া হবে। বর্ষার ভাঙ্গা রাস্তু গুলোও ক্রমন্বয়ে মেরামত করা হচ্ছে।

One Reply to “বর্ষা শেষ হলেও সংস্কার হয়নি বন্দরনগরীর সড়ক, অবর্ণনীয় দুর্ভোগ”

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ