চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সরব মানুষটির নীরব যাত্রা

প্রকাশ: ২০১৭-১২-১৫ ১৪:৪৫:৫০ || আপডেট: ২০১৭-১২-১৫ ১৮:৩১:৪৮

সবার আগে চট্টগ্রামের উন্নয়ন-এই নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। মেয়র থাকা অবস্থায় যখন যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, চট্টগ্রামের স্বার্থে আন্দোলন করতে দ্বিতীয়বার ভাবতেন না তিনি।

কিন্তু সরব মানুষটি এই না ফেরার দেশে চলে গেলেন বিশিষ্ট রাজনীতিক এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। (ইন্নালিল্লাহি….. রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোররাতে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বন্দরনগরীর এই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনবার নির্বাচিত এই মেয়রের মৃত্যুতে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাত সাড়ে ৪টার দিকে সাবেক এই মেয়রের বড় ছেলে ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সাংবাদিকদের এ খবর জানান।

চট্টগ্রামের জনপ্রিয় এই নেতার মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান নগরবাসী। আজ শুক্রবার আসরের নামাজের পর নগরীর লালদীঘি ময়দানে জানাজা শেষে চশমা হিলের পারিবারিক কবরস্থানে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে দাফন করা হবে।

মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে হৃদযন্ত্র, কিডনি ও ডায়াবেটিস রোগের সমস্যায় ভুগছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। গতকাল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ভোররাতে তিনি মারা যান।

চট্টগ্রামের মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর খবর শুনে শত শত নেতাকর্মী হাসপাতালে ছুটে আসেন।

এর আগে গত ১১ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে চট্টগ্রামের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ১২ নভেম্বর ভোররাতে তাঁকে হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও কিডনি ও কার্ডিয়াক সমস্যার কারণে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। সেখানে তাঁর হার্টে রিং পরানো হয়। দেশে ফেরার পর নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে ডায়ালাইসিস চলছিল বর্ষীয়ান এই নেতার।

জনপ্রিয় এই নেতার মৃত্যুর খবর শুনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাসপাতালে ছুটে আসেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। বিএনপির নেতাকর্মীরাও হাসপাতালে ছুটে যান।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, এই নেতা সাধারণ মানুষকে ভালোবাসতেন। চট্টগ্রামের সব মানুষ মহিউদ্দিন চৌধুরীর জন্য কাঁদছেন। তিনি বীরের বেশে চট্টগ্রামে এসে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন। দেশবাসীর কাছে মহিউদ্দিন চৌধুরীর জন্য দোয়া চেয়েছেন স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন।

হাসপাতালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘সবার অভিভাবককে আমরা হারিয়ে ফেলেছি। চট্টগ্রামের মানুষ ভবিষ্যতে প্রত্যেকটা মুহূর্তে, প্রত্যেকটা ক্ষণে ক্ষণে মনে করবে আমাদের একজন মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রয়োজন ছিল।’

নগর আওয়ামী লীগের আরেক সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের মানুষের মাথার ওপর ছায়া হিসেবে ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে সেই ছায়া থেকে চট্টগ্রামের মানুষ বঞ্চিত হলো।

সংস্কৃতিকর্মী দেওয়ান মাকসুদ বলেন, ‘শুদ্ধ এবং আধুনিক রাজনীতির সঙ্গে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ ও সমাজ বিশ্লেষণে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের যে মহীরুহ ছিলেন, সেটা হারিয়েছি।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর রেখা আলম বলেন, ‘এই শূন্যতা মাপার কিছু আমাদের কাছে নেই। ওনার (মহিউদ্দিন চৌধুরী) যে শূন্যতা, সেটা পূরণ করার না।’

১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহীরা গ্রামে জন্ম নেন এই নেতা। ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ