চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

মার্কিন খবরদারি প্রত্যাখ্যানের সময় এসেছে

প্রকাশ: ২০১৭-১২-২২ ১৮:২৪:০৯ || আপডেট: ২০১৭-১২-২২ ১৮:২৪:০৯

ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরো একবার সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়লো বিশ্বের স্বাধীনচেতা দেশগুলো। জেরুজালেমকে দখলদার ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সদস্যরা। জংলি আইনের বিরুদ্ধে এটা আইনের শাসনের জয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বিচ্ছিন্ন ও প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘের দেশগুলো।

এর আগে যারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দেবে না, তাদের মার্কিন অর্থসহায়তা বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এটা ছিল সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর অধিকারের প্রতি একটি হুমকি। ইসরায়েলও ভেবেছিল তাদের পক্ষে মার্কিন হুমকিই যথেষ্ট হবে। কিন্তু তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তাদের ঔদ্ধত্য প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ববাসী।

ইসরায়েলের অবৈধ দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়ার ইতিহাস আছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ বিষয়ে জাতিসংঘকেও তারা বারবার তাদের পক্ষে চালিয়েছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের প্রস্তাবনা পরিত্যাগের জন্য দরিদ্র দেশগুলোকে সব সময়ই হুমকি দেয় মার্কিন প্রশাসন।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে বৃহস্পতিবারের ভোটে দেখা যায়, দিনভাগের দুইভাগ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। ৩৩টি দেশ ভোট দিয়েছে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে। আর ভোটদান থেকে বিরত ছিল ১৩টি দেশ।

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনিকে ভাগ করা পরিকল্পনা শুরুর দিকে হাইতি, লাইবেরিয়া ও ফিলিপাইন বিরোধিতা করলেও পরে ওয়াশিংটনের উচ্চ পর্যায় থেকে হস্তক্ষেপের পর তাদের অবস্থান পাল্টে যায়। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের পক্ষ থেকে এসব দেশকে সহায়তা বন্ধ করে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। বিষয়টি স্বীকার করেছেন তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ফরেস্টাল। তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদে অন্য দেশের ওপর জবরদস্তি করার কলঙ্কজনক অধ্যায় আছে যুক্তরাষ্ট্রের।

আর এই কাজের সহযোগী হয়ে বিভিন্ন সময়ে নিজের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করেছে জাতিসংঘও। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ব্যাপারে ‘সমান অধিকার ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত’ নেয়ার যে ক্ষমতার কথা জাতিসংঘ চার্টারের এক নম্বর আর্টিক্যালে বলা হয়েছে তার বারবার লঙ্ঘন করা হয়েছে।

ফরেস্টার ছাড়াও আরো অনেক মার্কিন কর্মকর্তা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে অন্যায় আচরণের কথা স্বীকার করেছেন বিভিন্ন সময়ে। এর মধ্যে সামরিক কমান্ডার ই এইচ হুচিসন একজন। ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর জর্দান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কমিশনের এই প্রধান বলেন, ‘ইহুদিবাদী ‍ওই রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল ন্যায়বিচারের প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ।’

১৯৪৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র যা করেছিল, ২০১৭ সালে এসেও তা-ই করলো। সেই সময়ের ট্রুম্যান আর আজকের ট্রাম্প- দুজনই সার্বভৌম দেশগুলোর ওপর দেশীয় নীতি চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। তবে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুঝে উঠতে পারেননি, পৃথিবী অনেকখানে বদলে গেছে। ১৯৪৭ সালে তারা জাতিসংঘের দুই-তৃতীয়াংশ দেশকে বাধ্য করেছিল ফিলিস্তিন বিভাগের পক্ষে ভোট দিতে। ঠিক ৭০ বছর পর ২০১৭ সালে এসে দুই-তৃতীয়াংশ রাষ্ট্র ভোট দিলো আইনের শাসনের পক্ষে।

জাতিসংঘে এই সিদ্ধান্তের ফলে ইসরায়েল আগের চেয়ে আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। জেরুজালেমে রাজধানী সরিয়ে নেয়ার পরিবর্তে অনেক দেশই এখন ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক শিথিল করবে। ইতোমধ্যে ইসরায়েলে নিজেদের দূতাবাসের মর্যাদা কমিয়ে একটি মধ্যস্থতাকারী দফতর হিসেবে ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

ধারণা করা হচ্ছে, জাতিসংঘে পরাজয়ের পর পদত্যাগের দাবি উঠতে পারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর। সংস্থাটিকে তিনি ‘মিথ্যার আখড়া’ বলেও অভিহিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর একচেটিয়া সমর্থন পেয়ে এসেছে ইসরায়েল। সঙ্গে ছিল আরব দেশগুলোর উদাসীনতা। বৃহস্পতিবারের ভোট আর কিছু না হোক, অন্তত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনের দিন সমাপ্তির সূচনা করলো।- ব্রেকিংনিউজ

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ