চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

‘মুখোমুখি সংঘর্ষে’ বিমান দুটি বিধ্বস্ত, ৪ পাইলট নিরাপদে

প্রকাশ: ২০১৭-১২-২৭ ২৩:০৫:৫২ || আপডেট: ২০১৭-১২-২৭ ২৩:০৫:৫২

কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে বিমানবাহিনীর দুটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান আকাশে পাশাপাশি সংঘর্ষের পর বিধস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিমানে উড়ন্ত অবস্থায়ই আগুন ধরে যায়। দুটি বিমানের একটি মহেশখালীর পুটিবিলার ইয়ার মোহাম্মদ পাড়ার আব্দুল কাদেরের রান্নাঘরে ও অপরটি ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের লম্বাগোনা কম্বনিয়া পাহাড়ি এলাকার পানের বরজে বিধস্ত হয়।

বিধবস্ত হওয়া স্থান দুটির মধ্যে গড়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরত্ব রয়েছে। বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার আগেই দুই বিমানের চার জন পাইলট নিরাপদে অবতরণ করেছেন বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) বেকিংনিউজকে নিশ্চিত করেছে।

খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মেডিকেল টিম,ফায়ার সার্ভিসের দল এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিস।

সূত্র জানায়, দুই বিমান বিধস্ত হওয়ার ৫০ মিনিট আগে চট্টগ্রামের বিমান বাহিনীর জহিরুল ইসলাম বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়ন করার পর বিমান দুটি ওই টাওয়ারের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। ৫০ মিনিট পরে বিমান দুটির সাথে রাডারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

দুই বিমানে পাইলট ছিলেন গ্রæপ ক্যাপ্টেন শরীফ মোস্তফা, উইং কমান্ডার আজিম, উইং কমান্ডার রাজিব ও স্কোয়াড্রন লিডার মনির হোসেন। রাশিয়ার তৈরি এই যুদ্ধ বিমান দুটি দুই বছর আগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে প্রশিক্ষণের জন্য যুক্ত হয়। দুই মাস আগে কক্সবাজারে ইয়াক-১৩০ মডেলের আরও একটি যুদ্ধ বিমান বিধস্ত হয়েছিল।

কুতুগজোম খন্দকার পাড়ার একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সন্ধ্যা ৬ টা ৫০ মিনিটের দিকে আকাশে বিকট শব্দ হয়। এ সময় আগুনের কুন্ডলী দেখতে পান। তা খুব দ্রুত নিচে নেমে মাটিতে বিধস্ত হয়। ইয়ার মোহাম্মদ পাড়ার আব্দুল কাদেরের রান্নাঘরে আগুনের কুন্ডলী আকারে বিমানটি বিধস্ত হয়।

বিধস্ত হওয়া বিমান দুটির কোনও একটি বিমানের দুইটি অংশ শহীদুল্লাহ মাঝির বাড়িতে পড়ে। পুটিবিলার দাসি মাঝি পাড়ার নবী হোসেনের ঘরের ছাউনির ওপর ছোট্ট দুইটি অংশ পড়ে। এত চারদিকে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রতন দাস গুপ্ত, মহেশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম, মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভায়।’

আইএসপিআর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদুল হাসান বলেন, ‘দুটি (ইয়াক-১৩০) বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দুটি বিমানে চার জন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় বিমান দুটি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। তাই দুর্ঘটনার কারণ জানা যাচ্ছে না। চার পাইলট নিরাপদে আছেন।’

মহেশখালীর গোরকঘাটা এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর তারা বিকট একটি শব্দ শোনেন। এর পরপরই পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সরওয়ার আজমের বাড়ির পেছনে খালি জায়গায় আগুন জ্বলে উঠতে দেখা যায়।আগুন দেখে ও শব্দ শুনে বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে ভিড় করেন। ফায়ার সার্ভিসের মহেশখালী ইউনিটের সদস্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ