চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮

রাখাইনে শান্তিরক্ষী বাহিনী চায় রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ২০১৮-০১-২৬ ১৭:২৩:৩৬ || আপডেট: ২০১৮-০১-২৬ ২২:১২:৩৮

ফিরে যাওয়ার আগে নিরাপত্তার জন্য মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে দেশটিতে নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। আজ শুক্রবার বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া রোহিঙ্গা পরিচয়ে নাগরিকত্ব প্রদান, নিজস্ব জমি বসত ভিটা ফেরত,মিয়ানমারে অন্যান্য গোষ্ঠীর মতো সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা, হত্যা ধর্ষণের বিচার ও ক্ষতিপূরণ, আগের সহিসংতার ঘটনায় না ফাঁসানো, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধি নিযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের জোবেদা খাতুন বলছিলেন, অনেক কষ্ট করে আমরা এসেছি। এখন আর যেতে চাই না। রোহিঙ্গা কার্ড দিতে হবে। নিরাপত্তা দিতে হবে। জাতিসংঘের আর্মি দিতে হবে। বিচার করতে হবে।

কুতুপালং লাম্বাসিয়ার রকিমা এবং সুরত আলমেরও স্পষ্ট বক্তব্য এখন তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে প্রস্তুত নন।

গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা।

সেনাবাহিনীর ওই অভিযান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে শরণার্থীদের ফেরত নিতে সম্মত হয় মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার পথ তৈরি করতে গত ২৩ নভেম্বর নেপিদোতে দুই দেশের মধ্যে একটি সম্মতিপত্র সই হয়।

সেখানে বলা হয়, প্রথম দফায় শুধু এবার আসা শরণার্থীদেরই ফেরত নেবে মিয়ানমার। ওই সম্মতিপত্র স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহের মধ্যে ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করে দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে সই করবে দুই দেশ।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কীভাবে ফেরত পাঠানো হবে- তা চূড়ান্ত করে গত ১৬ জানুয়ারি একটি চুক্তিতে সই করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ।

এই ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ অনুযায়ী, প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সম্মত হওয়ার সময় থেকে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে দেড় হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয় মিয়ানমার।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close