চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

চট্টগ্রামে ষাট লাখ মানুষের গণপরিবহন ৩৮৭৯টি

প্রকাশ: ২০১৮-০১-৩০ ২৩:৫৯:৩৮ || আপডেট: ২০১৮-০১-৩১ ১২:৪৭:০৫

প্রধান প্রতিবেদক
সিটিজি টাইমস

ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের পাশাপাশি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জনসংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় বাড়ছে না গণপরিবহন। বর্তমানে এ নগরীর জনসংখ্যা ৬০ লাখেরও বেশি। অথচ তাদের জন্য গণপরিবহন রয়েছে মাত্র ৩৮৭৯টি।

গণপরিবহনের এ সংখ্যা মোট নিবন্ধিত যানবাহনের মাত্র ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এরমধ্যে বাস ১ হাজার ৪৯৬টি ও মিনিবাস ২ হাজার ৩৮৩টি। যা প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক কম। ফলে এই কম সংখ্যক গণপরিবহন নগরীর যানবাহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে নাজুক করে তুলছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিবন্ধিত গণপরিবহন রয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৮৭৯টি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রায় ২ লাখ ৯৮৫টি যানবাহন নিবন্ধিত রয়েছে। যা প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সড়কের তুলনায় অনেকগুণ বেশি। যার অধিকাংশই প্রাইভেট কার, পণ্যবাহি ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ নানা রকম ব্যক্তিগত যানবাহন।

আর গণপরিবহনে তিন যুগ ধরে নিবন্ধন হওয়া যানবাহনের মধ্যে বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার ৮৭৯টি। যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ইতোমধ্যে পরিত্যক্তও হয়ে গেছে। তবুও লক্কর-ঝক্কর চেহারা নিয়ে এসব গণপরিবহন চলছে ৬০ লাখ মানুষের এই চট্টগ্রাম শহরে।

ফলে এত কম সংখ্যক গণপরিবহন ও অধিক সংখ্যক ব্যক্তিগত যানবাহন চট্টগ্রাম মহানগরীর যানবাহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে নাজুক করে তুলছে।

সচেতন মহলের ভাষ্য, বন্দরনগরীতে সড়ক সম্প্রসারণ, ফ্লাইওভার নির্মাণসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সত্ত্বেও যানজটের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। সারা দেশের ব্যবসায়ী, ভ্রমণ-পিপাসু মানুষ এমনকি বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা বেড়ানো কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করলেও শহরটির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সেকেলেই রয়ে গেছে।

ট্রাফিক বিভাগ বিভিন্ন সময়ে তদারকির মাধ্যমে যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও একটি আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এজন্য গণপরিবহনের অপ্রতুলতাকেই দায়ী করছেন অনেকেই।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভাগের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী রাশেদুল আলম বলেন, একটি বর্ধিষ্ণু নগরে শক্তিশালী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ন্যুনতম ১০ শতাংশ গণপরিবহন প্রয়োজন। চট্টগ্রামে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও গণপরিবহনের সংখ্যা খুবই কম। যেসব যানবাহন তুলনামূলক কম যাত্রী পরিবহন করে এবং সড়কের বেশির ভাগ অংশজুড়ে চলাচল করে, সেসব যানবাহনই অধিক বাড়ছে। একটি সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য গণপরিবহন বাড়ানোর বিষয়ে সরকার ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ১০ বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। খসড়া এ মহাপরিকল্পনায় দেখানো হয়েছে, চট্টগ্রাম শহরের ৭৫ শতাংশ যাত্রীই গণপরিবহন বা বাস সার্ভিস ব্যবহার করেন বা করতে চান, যদিও বাস সড়কের মাত্র ১৭ শতাংশ ব্যবহার করে। অন্যদিকে প্রাইভেট কার চট্টগ্রাম শহরের মাত্র ৫ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করলেও সড়কের ২৯ শতাংশ দখল করে থাকে। এছাড়া রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৬ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের বিপরীতে ২৭ শতাংশ সড়কজুড়ে বিচরণ করে।

চট্টগ্রাম মহানগর ট্রাফিকের এক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, গণপরিবহনের ব্যাপক চাহিদা সত্ত্বেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা ও প্রাইভেট কার নগরীর মাত্র ১১ শতাংশ যাত্রীর পরিবহন চাহিদা মিটিয়ে ৫৬ শতাংশ সড়ক দখলে রেখেছে। যা চট্টগ্রাম শহরের আধুনিক ও নির্বিঘ্নে ট্রাফিক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়।

গণপরিবহন বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, আঞ্চলিক ট্রান্সপোর্ট কমিটির (আরটিসি) নিয়মিত সভায় পরিবহন মালিকদের উপস্থিতিতে গণপরিবহনে বিনিয়োগের বিষয়ে তাগাদা দেয়া হয়। কিন্তু লোকসানের অজুহাত তুলে ব্যবসায়ীরা বড় যানবাহন বা গণপরিবহনে বিনিয়োগের বিষয়ে অতটা উদ্যোগী নন। তবে সীমিত পরিসরে হলেও আগের তুলনায় বাসের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের চলাচল সীমিত করার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় চলতি বছরের শুরু থেকেই গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে বাস ও মিনিবাস চলাচলের রোড রয়েছে ১৩টি। হিউম্যান হলারের ১৬টি ও অটোটেম্পো চলাচলের ১৮টি রোড রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রোডে বাস-মিনিবাস, হিউম্যান হলার ও টেম্পো সার্ভিসের নির্ধারিত সিলিংয়ের সংখ্যা ৫০৭৯টি হলেও এক-তৃতীয়াংশই খালি থাকে বিভিন্ন সময়ে।

এছাড়া বাস-মিনিবাসের জন্য চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০ নম্বর রুটে (কালুরঘাট থেকে সি-বিচ পর্যন্ত) সর্বোচ্চ ২৫৬টি বাসের সিলিং রয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। এছাড়া শিল্প-কারখানা ও ইপিজেডের জন্য ২০০টি বাসের সিলিং নির্ধারিত থাকলেও ৬০টি সিলিং খালি রয়েছে। ফলে সকাল ও বিকালের বিভিন্ন সময়ে শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের জন্য অন্যান্য রুটের বাসগুলো চলে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা বিভিন্ন সময়ে চরম যানবাহন সংকটে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ