চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮

হালদা নদী থেকে মৃত ডলফিন উদ্ধার

প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৩ ১৭:৪৬:২৫ || আপডেট: ২০১৮-০১-০৩ ২১:৪১:৫০

হালদা নদীর গড়দুয়ারা এলাকা থেকে বুধবার একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগকে অবহিত করলে তারা ডলফিনের আকৃতি দেখে বিশ^বিদ্যালয়ে সংরক্ষণের স্থান হবে না বলে জানান। এটিকে মাটি চাপা দিয়ে রাখার পরামর্শ প্রদান করেন তারা। মৃত ডলফিনটি প্রায় সাত ফিট লম্বা, ওজন ৪০ থেকে ৫০ কেজি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিদ্যা বিভাগে ডলফিন সংরক্ষণের যে স্থান রয়েছে সেখানে পাঁচ ফিট আকৃতির ডলফিন রাখা যাবে। বড় সাইজের এ আকৃতির ডলফিন সংরক্ষণ করতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হবে। এইদিকে ডলফিনটি হাটহাজারী কলেজে সংরক্ষণ করতে চাইলেও আকৃতি বড় হওয়ায় সেখানেও সংরক্ষণ করা যায়নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, এক হিসাব অনুসারে বাংলাদেশে ১ হাজার ২৫০ টির মত ডলফিন রয়েছে। তারমধ্যে তিনশ’র মত হালদা নদীতে রয়েছে। এ প্রজাতির ডলফিনকে গাঙ্গেয় ডলফিন বলা হয়। এ ডলফিন পরিবেশ নির্দেশক। পরিবেশ উপযোগী হলে এ ডলফিন হালদা নদীতে থাকবে। অন্যথায় পরিবেশ যখন প্রতিকুল হবে ডলফিন এ নদীতে থাকবেনা।

তিনি বলেন, বিশ্বরে উন্নত দেশে এ জাতীয় ডলফিন সংরক্ষণের জন্য সরকারি ভাবে নানা উদ্যেগ গ্রহন করা হয়ে থাকে। গাঙ্গেয় ডলফিন জলজ স্তন্যপায়ি প্রাণী। এ প্রাণী অন্যান্য মাছের মত ডিম ছাড়ে না। এ গুলো বাচ্চা প্রসব করে। বাচ্চা গুলো মার দুধ পান করে বেঁচে থাকে। গত তিনমাস আগে কাগতিয়া এলাকায় ও একটি ডলফিন মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, বড় আকৃতির হওয়ায় এ ডলফিন কে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয়। পরে এ মৃত ডলফিনের হাড় গুলো সংযুক্ত করে কঙ্কাল হিসাবে রাখা যাবে। কয়েক বছরে প্রায় দশটি ডলফিন মারা গেছে। নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ নির্দেশক ডলফিনগুলো মারা যাচ্ছে। ডলফিন ড্রেজারের আঘাত মোটেও সহ্য করতে পারেনা।

এভাবে যদি ডলফিন মারা যায় হালদা নদীতে এক সময় মাছের অভয়ারন্য থাকবে কিনা এতে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close