চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮

চট্টগ্রামে অপরিকল্পিত উন্নয়ন, স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে নগরবাসী

প্রকাশ: ২০১৮-০১-০৯ ১২:৪৯:০৫ || আপডেট: ২০১৮-০১-০৯ ১৮:০৬:২৩

মীম ওসমান
বিশেষ সংবাদদাতা

রাস্তাঘাটের অপরিকল্পিত উন্নয়ন কাজে সৃষ্ট ধুলোবালির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নগরবাসী। সেবা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথেও কোন ধরনের সমন্বয় নেই । এতে সব বয়সী মানুষের সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, নিউমোনিয়া, চর্মরোগ, কিডনি জটিলতা সহ নানা জটিল রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। শীতকালে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বাতাসে রোগ-জীবাণরু সাথে ধুলোবালি মিশে যাওয়ায় বায়ু দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে নগরীতে রোগবালাই বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অসুস্থ রোগীদের ভিড় বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে বেশি।

নগরীর বিভিন্ন সড়কে চলছে সংস্কার কাজ। ফ্লাইওভারসহ রাস্তাঘােেট চলছে খোঁড়াখুড়ি। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন সড়কে পাইপ লাইন স্থাপন করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এতে করে ধুলোর প্রকোপ বেড়েছে নগরীর বেশিরভাগ এলাকায়। এলাকাগুলো হচ্ছে, নগরীর নতুনব্রিজ থেকে বহদ্দারহাট সড়ক, নতুনব্রিজ থেকে কোতয়ালী মোড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে একে খান গেট, সল্টগোলা ক্রসিং থেকে নিউমার্কেট, দুই নম্বর গেট থেকে অক্সিজেন মোড়, শেরশাহ এলাকা, বন্দর এলাকা, ইপিজেড এলাকা, বিমানবন্দর সড়ক।

এ থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ঠদের পরামর্শ হচ্ছে, ধুলোবালিপ্রবণ এলাকায় সেবা সংস্থাগুলো দিনে দুইবার পানি ছিটানো, নিয়মিত রাস্তা পরিষ্কার করা, পরিসেবার সংযোগ মেরামত, নতুন সংযোগ স্থাপনের সময় রাস্তা খননে সৃষ্ট মাটি সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে ফেলা, অবকাঠামো তৈরির সময় নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার উপর বা রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় না রাখা। ধুলা সৃষ্টিকারী কোনো সামগ্রী বহনের সময় সঠিক আচ্ছাদন ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া। ড্রেনের আবর্জনা রাস্তার পাশে জমিয়ে না রাখা।

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনায় রয়েছে, উন্নয়নমূলক কাজ চলাকালে চারপাশ ঢেকে রাখা ও পানি ছিটানো, রাস্তা খোঁড়ার সময় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঢেকে রাখা এবং দূষণ রোধে নিয়মিত মেনটেন্যান্স করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কেউ যদি বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ অমান্য করে, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ২ বছরের দ-, সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। পরবর্তী প্রতি অপরাধের জন্য দুই থেকে ১০ বছর কারাদন্ড বা ২ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা অর্থন্ড বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।

আইনে এমন কথা উল্লেখ থাকলেও নগর উন্নয়নে কোন সেবা সংস্থা তা মানছে না। সেই সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরও দায়সারা ভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান বলেন, রাস্তার ধুলো নগরীতে ছড়িয়ে পড়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সব বয়সের মানুষের বিশেষ করে শিশুদের নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে। আর চোখে ও কানে ইনফেকশন হয়। সর্দি, কাশি, চর্মরোগ, ব্রঙ্কাইটিসসহ নানা জটিল রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close