চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮

এখন সময় শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর

প্রকাশ: ২০১৮-০১-১৪ ১৯:৫৯:২৬ || আপডেট: ২০১৮-০১-১৪ ১৯:৫৯:২৬

এ.টি.এম মোসলেহ উদ্দিন (জাবেদ)
সহঃ মহাব্যবস্থাপক – মানব সম্পদও প্রশাসন (ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপ)

সারা দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীতের প্রকোপ। তীব্র শৈত্যপ্রবাহে দেশের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। গত ০৮ জানুয়ারী সোমবার সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের ইতিহাসে এটাই সর্বনিন্ম তাপমাত্রা। এর আগে ১৯৬৮ সালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দেশের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। শীতের এই তীব্রতা কম-বেশি ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শীতকাল সংকুচিত হলেও অন্তত দুই/তিন মাস এটি প্রলম্বিত থাকেই। আবহাওয়বিদগণ জানিয়েছেন, জানুয়ারি মাসে বড় ধরনের দুটি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। গেল সপ্তাহ দুয়েক ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সরকারী হিসাব মতে এখনপর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বেসরকারী হিসাব মতে এর সংখ্যা হয়ত আরো বেশি হতে পারে।

পৌষ মাস শেষ হয়ে মাঘ মাস শুরু হলো মাত্র। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্য প্রবাহ ও ঘনকুয়াশার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার যে চিত্র গণমাধ্যমে উঠে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, তীব্র শীতের কারনে সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ অসহনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নানাভাবে বিঘিœত হতে শুরু করেছে। দেশের উত্তরাঞ্চল, হাওড়াঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকাগুলো তথা গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষরা কষ্ট পাচ্ছেন। বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে যে দুর্গতি নেমে আসে তা বর্ণনাতীত। বৃদ্ধ ও শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কোল্ড ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আবার অনেকে পারিবারিকভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে। তাছাড়া খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারীদের কষ্টের শেষ নেই। তারা শীতের কষ্টে সারারাত আগুন জ্বালিয়ে কাটায়। শীতের কারণে তাদের চোখের ঘুম যেন হারাম হয়ে গেছে। দুস্থদের মধ্যে রয়েছে শীতবস্ত্রের জন্য হাহাকার অবস্থা।

তীব্র শীতের কারণে তূণমূলের মানুষজন কাজে বের হতে পারছে না। অনেকে ঠান্ডার ঝুঁকি নিয়ে বের হলেও কাজ করতে কষ্ট পাচ্ছে বা কাজ করতে পারছেন না। ঘনকুয়াশার কারনে নদীপথ, আকাশপথ, মহাসড়কগুলোতে ঠিকমত যানবাহনগুলো চলাচল করতে পারছে না। তাছাড়া যাত্রাপথে মানুষকে পড়তে হচ্ছে ঠান্ডজনিত নানাবিধ প্রতিকূলতায়। বিকেল থেকে তাপমাত্রা কমতে থাকার কারণে সন্ধ্যার পরপরই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও বিভিন্ন পাবলিক প্লেস। খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষজন। কাজে বের হতে না পারা বা কাজ করতে না পারার কারণে শ্রমজীবী মানুষজন তিনবেলা খাবার জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। শ্রমজীবী নারীদের অবস্থাও করুন, সেই সাথে শ্রমজীবী নারীদের মধ্যে যাদের ছোট ছোট বাচ্চা রয়েছে তাদের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সেই সাথে আছে শীতবস্ত্রের নিদারুন অভাব।

শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের শীতবস্ত্র বিতরণের মতো সহযোগিতামূলক কার্যক্রম শুরু করে। শীত আসলে গরিব মানুষজন এই সহায়তার আশায় থাকেন। আমরা সাধারণত শীতকালে যে শীতবস্ত্র বিতরণ করি বেশিরভাগই শহরাঞ্চলে ও শহরাঞ্চলের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে, গ্রামাঞ্চলে না যাওয়ার কারণে জেলা/ উপজেলা সদরের কাছাকাছি অবস্থান করা কিছু লোক একাধিকবার এই সহায়তা পেয়ে থাকেন। তাই এই সহায়তা কার্যক্রমের সুবিধা তৃণমূলের মানুষকে পৌঁছিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে আমাদের গ্রামাঞ্চলের গরিব মানুষদের নিকট যেতে হবে। গ্রামাঞ্চলের গরিবদের নিকট শীতবস্ত্র পৌঁছানোর উদ্যোগ হাতে নিতে হবে। তাহলে এর সুফল সমভাবে পাওয়া যাবে।

প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য ঋতুর মত শীতকালেরও আগমন হয়। মানুষের সাধ্য নেই প্রকৃতির এই নিয়ম থেকে বেরিয়ে আসার। তবে শীতের প্রকোপের কারণে যেসব দুর্যোগময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তার মোকাবেলা করার মত শক্তি-সামর্থ সৃষ্টিকর্তা মানুষকে দিয়েছেন। যেহেতু শীতের তীব্রতায় প্রতিবছরই দেশের নিদিষ্ট কিছু এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়, সেহেতু এই সময়টাতে ওই নিদিষ্ট এলাকার মানুষসহ সারাদেশের অন্যান্য শীতার্ত মানুষদের সহায়তায় সংঘবদ্ধভাবে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রত্যাশা থাকবে, যারা বিত্তশালী রয়েছেন তারা সহ সামর্থ্য অনুযায়ী সকলেই শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্রসহ আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে খাদ্যসমগ্রী পৌঁছে দেয়ার কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হবেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টা কখনো বৃথা যায় না। সবার প্রচেষ্টা হোক শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। সিটিজি টাইমস -এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই সময়ের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখার জন্য সিটিজি টাইমস কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close