চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বিএনপিকে ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয় কী করে: সিইসি

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০২ ১৪:৩২:৫৭ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৩ ১০:২৭:২১

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একতরফা হবে না বলে আশাবাদী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তার বিশ্বাস এবার ভোট হবে অংশগ্রহণমূলক। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বিএনপি না এলে ভোট অংশগ্রহণ হবে কী করে, সে প্রশ্ন রেখেছেন।

শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এসব কথা বলেন।

সকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবদুল হামিদের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এ জন্য ছুটির দিনও খোলা ছিল কার্যালয়টি আর সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিইসি নিজেও।

গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সিইসি আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে পাওয়ার আশার কথা বলছেন। যদিও বিএনপি এ বিষয়ে এখনও কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি না এলেও সমস্যা নেই। অন্য অনেক দল আসবে। ফলে ২০১৪ সালের মতো পরিস্থিতি আর হবে না। নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক।

চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন হবে, সেটি গত ১২ জানুয়ারি সরকারের চার বছর পূর্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণেই স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর গত ৩০ জানুয়ারি সিলেটের জনসভায় তিনি ডিসেম্বরে নির্বাচনে অনুষ্ঠানের কথাও জানান।

সিইসির কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, ‘আপনারা বলেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। বিএনপিকে ছাড়া কি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব?’।

জবাবে সিইসি বলেন, ‘না না, কখনও না। বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে হয় কীভাবে?’।

‘অব্যশই বিএনপি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে। তাদের ছাড়া নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না, এটা আগেও বলেছি এখনও বলছি। আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।’

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যেতে চাওয়া বিএনপির দাবি, সরকারে নির্দলীয় সরকার না থাকলে ভোট সুষ্ঠু করা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ সম্ভব হবে না।

তবে সিইসি নিশ্চয়তা দিচ্ছেন নির্বাচনে কারও প্রতি পক্ষপাত হবে না। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হবে। সব দলই সমান সুযোগ পাবে।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হবে কি না, জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ ৫ জানুয়ারি। আমরা জানি না আর কেউ মনোনয়ন পত্র জমা দেবে কি না।’

‘মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার জন্য তো প্রস্তাবক হিসেবে এমপিদের স্বাক্ষর লাগে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়া পরে সাত তারিখ আমরা যাচাইবাছাই করব এরপর একক প্রার্থী থাকলে আমরা বিজয়ী ঘোষণা করব।’

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের দিন নির্ধারিত আছে। ১৯৯১ সালের পর অবশ্য কোনো কখনও রাষ্ট্রপতি পদে ভোট করতে হয়নি। একজন মাত্র প্রার্থী থাকায় ক্ষমতাসীন দলের মনোনীতরা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হলেন সংসদ সদস্যরা। আর সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে অন্য কারও নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই। এবারও আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী দেয়ার আগ্রহ নেই।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ