চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

খালেদার রায়: চট্টগ্রামে নাশকতার ‘আশঙ্কা’, ৬ স্পটে অবস্থান নেবে বিএনপি

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৪ ১৫:৪৯:৩৬ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৪ ১৫:৫৭:২০

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮ ফেব্রুয়ারির রায়কে কেন্দ্র করে বৃহত্তর চট্টগ্রামে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি রাজপথ দখলে রাখতে প্রতিদিনই নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। আর নাশকতা প্রতিরোধে পরিকল্পনা নিচ্ছে পুলিশ। একই সাথে রেললাইন ভিত্তিক নাশকতা প্রতিরোধেও নেয়া হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এদিকে, মামলায় দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হলে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। ওইদিন চট্টগ্রাম নগরীর ৬টি স্পটে অবস্থান নেবে বিএনপির নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের এদিন রাজপথে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিতে দলের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অপর দিকে মামলার রায়কে সামনে রেখে হঠাৎ পুলিশি গ্রেফতার অভিযানে শীর্ষ ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেফতার অভিযান শুরু হওয়ার পর ৮ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে কৌশল পাল্টে মাঠে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, রায়ের দিন নেতাকর্মীকে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। রায় বিরুদ্ধে গেলে রাজপথে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানানো হবে। প্রতিটি নেতাকর্মী যাতে ওইদিন রাজপথে থাকে সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে নগরীর ৬টি স্পটে দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেবেন বলে জানান ডা. শাহাদাত।

প্রসঙ্গত, বিএনপি-জামায়াতের নানা নাশকতার কারণে ২০১৩ এবং ১৪ সালে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছিলো এক আতংকের জনপদ। গাড়িতে আগুন দেয়া, প্রকাশ্যে বোমাবাজি, পুলিশের উপর হামলাসহ সব ধরণের নাশকতাই ঘটেছে। গত তিন বছর অন্তত এ ধরণের নাশকতার ঘটনা না ঘটলেও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এখানকার রাজনীতির অঙ্গন।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর বলেন, ‘আমরা অহিংস কর্মসূচি পালন করবো। জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা রাজপথে নেমে আসবো।’

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন,’ খালেদা জিয়াকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়। আর সরকার যদি জগদ্দল পাথরের মতো থাকার জন্য সাজা দিতে চায় তাহলে চট্টগ্রামবাসী রাজপথে নেমে আসবে।’

৮ ফেব্রুয়ারির রায় বিপক্ষে গেলে বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এধরনের অন্তত একশ পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। সে সাথে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় থাকছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ।

সিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাসুদ উল হাসান বলেন, ‘যেসব পয়েন্টগুলোতে কিছু হতে পারে সেই সব স্থান আমাদের সার্ভে করা আছে। যেকোন নাশকতায় ঘটনায় আমাদের পুলিশ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।’

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, ‘আমরা পূর্বে ইতিহাস থেকে দেখেছি, সীতাকুণ্ড, লোহাগড়া, সাতকানিয়া,পুটিয়া, হাটাজারিতে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার ওই এলাকাসহ অন্য এলাকাগুলোতে আমাদের নজরদারি রয়েছে।’

বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার বড় একটি অংশ ছিলো রেল যোগাযোগ। তাই এবার রেল লাইন কেন্দ্রিক নাশকতা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে রেলওয়ে পুলিশ।

জিআরপি পূর্বাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেন বন্ধ করে ফেলা, রেললাইন উপরে ফেলা এই সব কারণে আমরা আগে থেকে তাদেরকে নজরদারির মধ্যে রেখেছি। যাতে তারা কিছু করতে না পারে।’

২০১৩ এবং ১৪ সালে নাশকতার ঘটনায় বৃহত্তর চট্টগ্রামে আড়াইশ’র বেশি মামলা হয়। আসামি রয়েছে জামায়াত-বিএনপি’র প্রায় ৫০ হাজার নেতা। কিন্তু এখন পর্যন্ত নাশকতার কোনো মামলারই বিচার সম্পন্ন হয়নি।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ