চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বিএনপিকে ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৩ ২২:০১:১৪ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৪ ১২:০৭:৩৯

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে সারাদেশে উত্তেজনা আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

আদালতের রায়ে যদি খালেদা জিয়ার শাস্তি হয় তাহলে বিএনপি যেন দেশে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও রয়েছে সতর্ক অবস্থানে। ক্ষমতাসীনরা বিএনপিকে এই দিন এক চুলও ছাড় দেবে না।

৮ ফেব্রুয়ারি যেন দেশের কোথাও কোনও প্রকার বিশৃঙ্খলা বিএনপি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য ইতোমধ্যে তৃণমূলে বার্তা পৌঁছে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। যেন সব জায়গায় নেতাকর্মীরা পাহারায় থাকে। ঘোষণা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও থাকবে সতর্ক অবস্থানে।

এদিকে, সব জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সবসময় সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশনা পাঠিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত শনিবার পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা শনিবার রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দলটির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী নির্বাচনী কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন, নির্বাচনী পোলিং এজেন্টদের ট্রনিংয়ের জন্য কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা, বিএনপি ও জামায়াত জোটের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও গণবিরোধী রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ, সতর্ক করা এবং সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

ওবায়দুল কাদেরের পাঠানো চিঠিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্যও তাগিদ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচন নিকটে চলে এসেছে, ফলে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করা যাবে না।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতারাসহ মন্ত্রী এমপিরাও বিভিন্ন সভা সমাবেশে নেতাকর্মদের সতর্ক থাকার আহবান জানাচ্ছেন। এমনকি বিএনপিকে কঠোর হাতে দমন করার হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন তারা। যেন বিএনপি দেশে কোনও ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে। দেশ যেন কোনওভাবেই আবারও অস্থিতিশীল হয়ে না ওঠে।

গত বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে এক অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘২০১৪ সালে আপনারা শেখ হাসিনাকে উৎখাত করতে চেয়েছিলেন, পারেননি। আজও পারবেন না। যেখানেই কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে। ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির বিচার তো হবেই। আপনারা বলবেন দেশে আইনের শাসন চাই। আবার রায় আপনাদের বিরুদ্ধে গেলেই বলেন আইন মানি না। তাই আপনাদের বলতে চাই অ্যাকশন দেখে রি-অ্যাকশন দেব।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার আহবান জানিয়ে দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আগামী ৭, ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি রাজপথে থাকতে হবে। বিএনপি যেন কোনও ধরনের সহিংসতা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর যদি সাধারণ মানুষের ওপর পেট্রোল বোমা হামলা করা হয় তাহলে শুধু প্রতিহত করবো না, তাদের ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেবো।’

একই দিন রাজধানীর শনির আখড়ায় ফুট ওভার ব্রিজ উদ্বোধন করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘৮ তারিখে আমাদের কোনও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নেই। তবে বিশৃঙ্খলা হলে এর জবাব জনগণই দেবে। আর রাস্তায় যদি কোনও বিশৃঙ্খলা হয় এটা মোকাবিলা করবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিশৃঙ্খলার জবাব দেবে। পরিস্থিতিই বলে দেবে কি করতে হবে।’

শনিবার চট্টগ্রামেও এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার রায়ের দিন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন ‘নেতাকর্মীদের এমনভাবে সজাগ থাকতে হবে, যাতে ৮ তারিখ বাটি চালান দিলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের খুঁজে পাওয়া না যায়।’

আর এসব কারণেই ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন- খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে আবারও কি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে?

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ