চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

চট্টগ্রামে কিন্ডারগার্টেন প্রধানরা অধ্যক্ষ! নেই শিক্ষার পরিবেশ

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৪ ১০:৩২:৩১ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৫ ০১:০৪:২৮

ইমরান এমি.
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক, মহাসড়ক, পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে হাঁটতে গেলে চোখে পড়বে ইংরেজী ও বাংলা নামের অসংখ্য কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সাইনবোর্ড। এগুলোর প্রায় সবগুলোর নিজস্ব কোন জমি বা স্থাপনার উপর গড়ে উঠেনি। এই স্কুলগুলো কর্তৃপক্ষ বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। লিখা আছে স্কুল এন্ড কলেজ অথচ তারা ক্লাস নেয় অষ্টম শ্রেনী না হয় দশম শ্রেনী পর্যন্ত। এসব ঝুপড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকগণ নিজেদের দাবি করছে অধ্যক্ষ আর প্রিন্সিপাল হিসাবে, সাথে থাকে ভাইস প্রিন্সিপালও।

নগরীর চকবাজার কেবি আমান আলী রোডের সিলভার স্কাই স্কুল এন্ড কলেজ, লোটাস গার্ডেন স্কুল এন্ড কলেজ, বাকলিয়া প্রিমিয়ার স্কুল এন্ড কলেজ, সিটি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, শুলকবহর এলাকার মেট্রোপলিটন স্কুল এন্ড কলেজ, চট্টলা আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজ, রেনেসাঁ স্কুল এন্ড কলেজ, পাঁচলাইশের ব্রাই ভিউ স্কুল, বাকলিয়ার পোর্ট সিটি স্কুল এন্ড কলেজ, নাছিরাবাদের ইডেন গ্রামার স্কুল, ভিক্টোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, পাহাড়তলীর সাউথ এশিয়াটিক স্কুল এন্ড কলেজ, অক্সিজেন স্কুল এন্ড কলেজ, চাঁন্দগাঁওয়ের ন্যাশনাল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, হলি চাইল্ড স্কুল এন্ড কলেজ, অরবিট রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। এরূপ কতগুলো স্কুল এন্ড কলেজ রয়েছে নগরীতে তার কোন পরিসংখ্যান চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডেও জানা নাই।

এসব কিন্ডারগার্ডেনের প্রধানরা ব্যবহার করছে অধ্যক্ষ পদবী, অথচ পাঠদান নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউ অধ্যক্ষ পদপদবী ব্যবহার করতে পারবে না। এ অধ্যক্ষ পদটি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে একজন মাধ্যমিকের শিক্ষককে ১০-১৫ বছর শিক্ষকতা করে অভিজ্ঞা অর্জনের পর ক্রমানয়ে অধ্যক্ষ হতে পারেন । কিন্তু কিন্ডার গার্ডেনের প্রধানরা অনায়াসে ব্যবহার করছে, এসব কিন্ডারগার্ডেনে কোনটিতে পঞ্চম শ্রেণী, অষ্টম শ্রেনী ও নবম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাস নিয়ে লিখছে অধ্যক্ষ, অথচ তাদের লেখার কথা প্রধান শিক্ষক বা পরিচালক। এসব স্বঘোষিত অধ্যক্ষের ভিড়ে প্রকৃত অধ্যক্ষরা অসহায় হয়ে পড়ছে শিক্ষা বাজারে। শিক্ষা কার্যক্রম হলো একটি পবিত্র এবং মহৎ পেশা। কিন্তু এই পেশাটাই এখন হয়ে গিয়েছে অর্থ-উপার্জনের মাধ্যম।

এরূপ নগরীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মতো যাতে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর মত সুস্থ পরিবেশ নেই বললেই চলে। কর্তৃপক্ষ পাঠদানের অনুমতি দিলেও নির্দিষ্ট কোন নিয়মনীতি না থাকায় দিন দিন বাড়ছে শিক্ষা বাণিজ্য ও ভূঁইফোড় কিন্ডারগার্ডেনের অধ্যক্ষরে সংখ্যা। ভবনের এক রুমে লেখা থাকে অধ্যক্ষের রুম, ভিজিটিং কার্ড ও প্রচারপত্র ও মার্কসিটে লিখে যাচ্ছেন এসব কিন্ডারগার্ডেনের অধ্যক্ষরা নিজেদের সীল সাক্ষর।

এসব অধ্যক্ষরা একজনের পাশাপশি আরেকজন লিখে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ, কোন নিয়মনীতি না থাকলেও স্কুল এন্ড কলেজ লিখে র্নিদ্বিধায় স্কুল শাখায় ভর্তি করিয়ে কলেজ শাখা পর্যায়ক্রমে হবে জানিয়ে সাজছেন অধ্যক্ষ। এসব প্রতিষ্ঠানে অনেকের রয়েছে পঞ্চম শ্রেণীর অনুমতি, অনেকের অষ্টম শ্রেণরি অনুমতি রয়েছে পাঠদানের। একই এলাকায় পাশাপাশি অথবা একশ থেকে দেড়শ গজের মধ্যে বেশ কটা স্কুল। চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অভিভাবকদের আকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান আবাসন সুবিধা, শ্রেণী কক্ষে পড়াশুনা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ,সমৃদ্ধ পাঠাগার, ইন্টারনেট ব্যবহারে সুবিধা, বিনামূল্যে ল্যাপটপ ব্যবহার ইত্যাদি।

জানতে চাইলে সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের কথিত অধ্যক্ষ সৈয়দ আরিফ উদ্দীন জানান, অধ্যক্ষ লেখা যায়, পাঠদানের অনুমতি দেওয়ার সময় অধ্যক্ষ লেখার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

অন্যরা অধ্যক্ষ লিখতেছে তাই আমিও লিখেছি জানিয়ে বাকলিয়ার পোর্ট সিটি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের রুহুল আমিন আরো বলেন, আমাদের কিন্ডারগার্ডেন এসোসিয়েশনের সবাই অধ্যক্ষ লিখতেছে, তাই আমিও লিখতেছি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসরিন সুলতানা সিটিজি টাইমসকে বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের কোন শিক্ষক অধ্যক্ষ লিখতে পারবে না, কিন্ডারগার্ডেনের শিক্ষকরা তো প্রশ্নই আসে না, পাঠদানের অনুমতি ও রেজিষ্টেশনের সময় তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়, তারা যদি তা না অমান্য করে, তাহলে খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ