চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্টকে ‘অপদার্থ’ বললেন অর্থমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৫ ১৯:২১:৪৪ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৫ ১৯:২১:৪৪

রবার্ট জোয়েলিককে বাজে লোক ও অপদার্থ বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ে সোমবার এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের একজন সভাপতি ছিলেন, রবার্ট জোয়েলিক। অসম্ভব বাজেলোক, অত্যন্ত অপদার্থ। সেই অপদার্থটি চাকরির শেষ দিন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল, পদ্মা সেতুতে কোনো একটি পরামর্শক নিয়োগ করার জন্য চক্রান্ত করছি। ঘুষ নেওয়ার চক্রান্ত। ঘুষ-টুষ তো পায় নাই। কিন্তু চক্রান্ত হচ্ছে-সে কথা বলে পদ্মা সেতুর ঋণ বাতিল করে দিলো জোয়েলিক। বোর্ডের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই সে কাজটি করল। আমাদের সৌভাগ্য সেই বদমাইশটি সেদিনই বিদায় হয়।’

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় তার পাশে বসে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ বাতিলের ঘটনায় এই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল।

বিষয়টি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা চারজন জোয়েলিকের চক্রান্তের মধ্যে পড়ে যাই। অবশ্য প্রকাশ্যভাবে পাঁচজন চিহ্নিত হই। প্রথমজন হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। দ্বিতীয় আমি। তৃতীয় সৈয়দ আবুল হোসেন। চতুর্থ মশিউর রহমান। পঞ্চম মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, তিনি ছিলেন যোগাযোগ সচিব। বিশ্বব্যাংককে সন্তুষ্ট করার জন্য আমরা অনেক কিছু করেছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও আমি যুদ্ধ চালিয়ে যাই। অবশেষে বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রেসিডেন্ট এক থেকে দেড় বছর পর সিদ্ধান্ত বললেন, ঋণ বাতিল করা ভুল ছিল। তবে নতুন করে কিছু শর্ত দিল। তাতে আরও এক বছরের বেশি সময় লেগে যেত। তখন আমরা পদ্মা সেতুর প্রকল্পটি আমরা নিয়ে নিলাম। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, নিজেদের অর্থায়নে করব।’

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘খুশির খবর হলো পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে। আগামী বছরের জুনে আপনারা অবশ্যই পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যেতে পারবেন। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেব চেয়েছিলেন চলতি বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করতে। তবে সেটি সম্ভব হবে না। কারণ সবগুলো স্প্যান এখনো বসে নাই।’

আজকের অনুষ্ঠানে গত বছরের ঢাকা সিটি করপোরেশনের সর্বোচ্চ আয়কর প্রদানকারী ও ঢাকা জেলার কর বাহাদুর পরিবার হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট দেয় এনবিআর। অর্থমন্ত্রীর হাত থেকে সনদ ও ক্রেস্ট নেন সৈয়দ আবুল হোসেন।

এ ছাড়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় সর্বোচ্চ মূল সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) প্রদানকারী হিসেবে ১০ প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। ৩৫ দিনের বাণিজ্য মেলায় সর্বোচ্চ ভ্যাট দিয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। দ্বিতীয় র‍্যাংগস ইলেকট্রনিকস ও তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে হাতিল কমপ্লেক্স। আরও পুরস্কার পেয়েছে সিপি বাংলাদেশ, আরএফএল, বাটারফ্লাই মার্কেটিং, ডিউরেবল প্লাস্টিক, আকতার ম্যাট্রেস, রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এগ্রিকালচারাল মার্কেটিং কোম্পানি লিমিটেড।

/এনএস

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ