চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

চকরিয়ায় ভাবীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলে লামার আ.লীগ নেতা আহসান

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৫ ২০:০১:১৮ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৫ ২০:০১:১৮

উদ্দেশ্য ছিল কোলের শিশু কেড়ে নেওয়া

এম মনছুর আলম
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ এইচ এম আহসান উল্লাহকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার পুলিশ। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় আহসানের কেয়ারটেকার ওসমান গণিকেও।

গত রবিবার রাতে চকরিয়া পৌরশহর চিরিঙ্গা থেকে ইয়াবাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উদ্দেশ্য ছিল এই ইয়াবা দিয়ে আহসানের বড় ভাই আহমদ উল্লাহর স্ত্রীকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা। কারণ পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আহমদ উল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে স্ত্রী শেফায়েতুন্নেছা শেফা। কিন্তু শেফার ঘরে জন্ম নেয় আতিক নামের এক পুত্র সন্তান। বর্তমানে শিশুটির বয় ১৬ মাস। সেই কোলের দুগ্ধ শিশু কেড়ে নিতেই এই ঘটনার জন্ম দেয় আওয়ামীলীগ নেতা আহসান উল্লাহ ও তার বড় ভাই আহমদ উল্লাহ। আর শেফার ভ্যানিটি ব্যাগে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিতে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয় কেয়ারটেকার ওসমান গণিকে।

রবিবার রাতে একটি ল্যান্ডক্রুজার গাড়িসহ তাদের আটকের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসল গোমর ফাঁস করে দেয় কেয়ারটেকার ওসমান। এতে ঘটনাটি সঠিক পথে মোড় নেয়। আর নিজেদের পাঁতা ফাঁদে আটকা পড়েন আওয়ামীলীগ নেতা আহসান উল্লাহ, তার বড় ভাই আহমদ উল্লাহ ও কেয়ারটেকার ওসমান গণি। পরিত্রাণ পায় শেফায়েতুন্নেছা শেফা।

পুলিশ জানায়, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার শেখ এইচ এম আহসান উল্লাহ বান্দরবানের ফাইতং ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের ধইল্যাছড়ি গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গ্রেপ্তার আহসান উল্লাহ একজন ইয়াবা কারবারি এবং সে দীর্ঘদিন ধরে আদম ব্যবসায়ও জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।’

ওসি বলেন, ‘একটি মাসুম বাচ্চাকে মায়ের কাছ থেকে কেড়ে নিতে আহসান উল্লাহ ও তার বড় ভাই আহমদ উল্লাহ যে ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তা অবাক হওয়ার মতোই। আটকের পর প্রথমদিকে আহসান অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে শুরু করায় গভীর সন্দেহ হয়। তখন পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কেয়ারটেকার ওসমান আসল রহস্য ফাঁস করে দেয় পুলিশের কাছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরণের কা- ঘটিয়ে কাউকে অপরাধ কর্মকা-ের সঙ্গে যাতে ফাঁসাতে না পারে সেজন্য আহসান উল্লাহ, তার বড় ভাই আহমদ উল্লাহ ও কেয়ারটেকার ওসমানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। আর এই মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে শেফাকে।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ