চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

যার জন্য পালিয়ে আসলাম, সে তো চলে গেল

প্রকাশ: ২০১৮-০২-০৭ ১৯:০০:২০ || আপডেট: ২০১৮-০২-০৭ ২২:০৭:৩৮

সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

‘একদিন খুব ভোরে সেনারা আমাদের গ্রামের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। তখন আমি তিন মাসের গর্ভবতী। খুবই চিন্তিত ছিলাম। নিজের জন্য না। অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে। আমাকে সাহায্য করার মতো কেউ ছিল না। কিছু যে খাব, সে ব্যবস্থাও ছিল না। ভাত, শাকসবজি তো নয়ই। তবুও তিন দিন হেঁটে এদেশে এসেছি। গর্ভাবস্থায় পালিয়ে আসার সময়টাতে আমি একেবারে না খেয়ে ছিলাম।’

কথাগুলো বলছিলেন মিয়ানমার থেকে গত বছরের নভেম্বরে পালিয়ে এদেশে আসা মিয়ানমারের নাগরিক জাহেদা বেগম।

‘রাখাইন রাজ্যের মংডুর থানায় আমার শ্বশুর বাড়ি। সেখানে সন্তান জন্ম দেয়ার কথা ছিল আমার। কিন্তু আমার ভাগ্যে তা জুটেনি। মাইলের পর মাইল হেঁটেছি। অনাগত সন্তানকে পৃথিবীর মুখ দেখাতে।’

সোমবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গাইনী ওয়ার্ডে ফুটফুটে বাচ্চার জন্ম দেন জাহেদা। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে তার সন্তান মারা যায়। জাহেদা বলেন, যার জন্য পালিয়ে এসেছি। সে তো আমাকে ছেড়ে চলে গেল। বেঁচে থাকার আর রইল কী?’

‘প্রথম সন্তান জন্ম দেয়ার অনুভূতিটা মা ছাড়া কেউ বুঝবে না। তবুও আমি আশাহত না। সৃষ্টিকর্তা দিয়েছেন, আবার তিনি নিয়েও গেলেন।’

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট রাতে রাখাইনে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে হামলা চালায় রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন ুআরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরএসএ )। ওই হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ ৮৯ জন মারা যান বলে মিয়ানমার সরকারের ভাষ্য। এর পরই রাজ্যটিতে শুরু হয় সেনা অভিযান।

জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, সেনা অভিযানে হাজার হাজার নিরীহ রোহিঙ্গা মারা গেছে। আর প্রাণ বাঁচাতে সর্বস্ব হারিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে দশ লক্ষধিক রোহিঙ্গা। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ