চট্টগ্রাম, , রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

দলের নিষ্ক্রিয় নেতাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে নাছির

প্রকাশ: ২০১৮-০২-২৬ ২২:০১:০৭ || আপডেট: ২০১৮-০২-২৭ ১৩:০৪:৪৩

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির ‍উদ্দীন বলেছেন, পদ নিয়ে সংগঠনের দায়িত্ব পালন বা কোনো ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন না, অথচ দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টের হোলিখেলায় মেতে থাকবেন- এমন নেতা আওয়ামী লীগে প্রয়োজন নেই।

মহানগর আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্তকৃত ৪৪টি ওয়ার্ড এবং ১৫টি থানায় ধারাবাহিকভাবে একুশের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্যি অধিকাংশ কর্মসূচিতে কমিটির পদে থাকা অনেক নেতার টিকিটি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। সম্মানিত নেতৃবৃন্দ পদ নিয়ে বসে থাকবেন আর সংগঠনের দায়িত্ব পালন করবেন না- এই মানসিকতা পরিত্যাগ করুন।

সিটি মেয়র পদে থাকা নিস্ক্রিয় নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, অনেক হয়েছে আর নয়। পদে থেকে পদের অমর্যাদা আর করতে দেয়া যাবে না। মহানগর আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গৃহিত ওয়ার্ড-থানা পর্যায়ের কর্মসূচিকে আমরা নিস্ক্রিয় নেতাদের জন্য শেষ সুযোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলাম। বলেছিলাম কেন্দ্রীয়ভাবে অায়োজিত প্রোগ্রামে যখন দূরত্ব বা যোগাযোগ সীমাবদ্ধতার কারণে আপনারা উপস্থিত হতে পারছেন না। দলের কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না তখন দল সংগঠিতকরণ এবং শক্তিশালীকরণের জন্য আমরা ওয়ার্ড এবং থানা পর্যায়ে একুশে ফেব্রুয়ারিকে উপলক্ষ্ করে প্রোগ্রাম নির্ধারিত করেছিলাম।কিন্তু সম্মানিত পদধারী নেতৃবৃন্দ আগের মতই রয়েছেন। এবার নগর আওয়ামী লীগ কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে। আমরা মহানগর আওয়ামী লীগ গৃহিত থানা পর্যায়ের প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছি।পর্যবেক্ষণ করছি কারা কারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন ? সংগঠনের জন্য কাজকর্ম করছেন?

তিনি বলেন, একুশের অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত হয়ে সরেজমিন পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে নিস্ক্রিয় নেতাদের সিজার লিস্ট তৈরি করা হচ্ছে। সম্মানিত নিস্ক্রিয় নেতাদেরকে বলছি, সাংগঠনিক অব্যাহতি প্রদানের আগে আপনারা সসম্মানে দল থেকে অব্যাহতি নেন। আদর্শিক, ত্যাগী, নিবেদিত নেতাকর্মীকে মূল্যায়ন করার সংস্কৃতি আওয়ামী লীগের চিরকালিন ঐতিহ্য। আমরা লিস্টেড নেতাকর্মীকে আর সংগঠনের কোন পদে রাখবো না।

সোমবার বিকেলে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে হালিশহর থানা আওয়ামী লীগ একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে সিটি মেয়র এসব কথা বলেন।

সিটি মেয়র আরো বলেন, ভিন্ন মতাদর্শী বা বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি যাতে দলের টোকেন না পায় সেজন্য সদস্য সংগ্রহ অভিযান নিরঙ্কুশ এবং নিরপেক্ষ করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নগর আওয়ামী লীগ। সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে অনেকেই আওয়ামী লীগের টোকেন সংগ্রহের জন্য ঘাপটি মেরে রয়েছেন এবং এখন থেকেই তারা বিভিন্ন কৌশলও অবলম্বন করছে বলে অভিযোগ আছে নগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে। এ ব্যাপারে ইউনিট, ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে দায়িত্ব প্রাপ্তদেরকে এখন থেকেই নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

হালিশহর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফয়েজ আহমদের সভাপতিত্বে সভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সহ-সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, এড.সুনীল সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য বেলাল আহমেদ, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, নগর যুবলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, আবুল কাসেম, মো.জাকারিয়া প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close