চট্টগ্রাম, , রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

শ্যামল কী ফিরে পাবে না তার ডাকপিয়নের চাকরি?

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৫ ১১:৪৬:০১ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৫ ১১:৪৬:০১

সিটিজি টাইম্‌স প্রতিবেদক

‘গরীব ঘরের সন্তান। অভাবের কারণে পড়াশোনা তেমনটা করা হয়নি। হঠাৎ সুযোগ পায় ডাকপিয়নের চাকরির। যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টি। অনেক স্বপ্ন নিয়ে যোগদান করি চাকরিতে। সরকারি চাকরি পেয়েছি বলে দুঃখী মা-বাবাদের মুখে হাসি ফুটেছিল। কিন্ত কে জানতো, সে চাকরি আমার অধরা থেকে যাবে?’

কথাগুলো চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা শ্যামল চন্দ্র দে’র। ১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম জিপিওতে রিজার্ভ ডাকপিয়নের হিসেবে যোগদান করেন তিনি। কিছু না জানিয়ে দুই বছর পর তার চাকরি চলে যায়। তবে ২০০৬ সালে আবারও হাসি ফুটে শ্যামেলের মুখে। নতুন পোস্ট মাস্টার জেনারেল এসে এবার তাকে স্থায়ীতে নিয়োগ দেয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, এক বছর পর আবারো চাকরি থেকে কর্মমুক্তি। নতুন পোস্ট মাস্টার জেনারেল নিয়ম না মেনে নিয়োগের কথা বলে এ আদেশ দেয়।

এরপর কেটে যায় এগারটি বছর। কতজনের দ্বারে ঘুরেছেন শ্যামল। তার কোনো হিসেবে নেই। সঙ্গে শত লাঞ্চনা আর ভৎসনা। তবুও ফিরে পাননি তার চিটি বিলানো চাকরিটি। দুই সন্তান নিয়ে চলছে অভাব অনটনের সংসার। ছেলে সরকারি পেয়েছে বলে যে মা বাবাদের মুখে হাসি ফুটেছিল, তারাও চলে গেছেন না ফেরার দেশে। এখন বউ বাচ্চারা তার বেঁচে থাকার প্রেরণা।
তবুও হার মানতে নারাজ শ্যামল। আবার মানুষের দ্বারে দ্বারে নিয়ে যেতে চান চিটি। তাই বর্তমানে দ্বারস্থ হয়েছেন আদালতের।

শ্যামল বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। ভাইবাও দিয়েছি। এক বছর স্থায়ী নিয়োগে চাকরিতে ছিলাম। সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছি। কিন্তু ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরোধের কারণ আমি চাকরি হারিয়েছি।

এব্যাপারে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ পূর্বাঞ্চলের বর্তমান পোস্ট মাস্টার জেনারেল আনন্দ মোহন দত্ত বলেন, তৎকালীন সময়ের কিছু নিয়োগ নিয়ে ঝামেলার কথা শুনেছি। আমি ফাইলটি এখনো দেখিনি।

তিনি বলেন, রিজার্ভ হিসেবে ডাক বিভাগ কিছু ডাকপিয়ন নিয়োগ দেয়। কিন্তু পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে তাদেরকে স্থায়ী নিয়োগ দেয়া হয়। এদের সিরিয়াল অনুযায়ী নামের তালিকা করা আছে। শ্যামল যদি সেই তালিকায় থাকে, তাহলে সে সিরিয়াল অনুযায়ী নিয়োগ পাবে।

জানা যায়, বাংলাদেশে সরকার পোস্ট অফিস নিয়োগ বিধিমালা নামের একটি গেজেট প্রকাশ করে। ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল এ গেজেট প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়েছে, ১৯৮৯ সাল থেকে ২০০৪ পর্যন্ত যেসব প্রার্থী পোস্ট অফিস চাকুরির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছেন তাদেরকে শূন্য পদের বিপরীতে জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা যাইবে। ডাক অধিদপ্তর কর্তৃক কর্মরত ও কর্মহীন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার প্রার্থীর একটি তালিকা তৈরি করে রেখেছে। যেখানে শ্যামল চন্দ্র দে’র নাম রয়েছে।

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close