চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮

ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা থেকে সরে এল চট্টগ্রাম বন্দর

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৫ ১৪:১৩:২০ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৬ ১০:১৪:১৪

আমদানি-রফতানি সহজ করার মৌলিক কাজ উপেক্ষিত রেখেই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। বিদ্যমান চবক অধ্যাদেশ ১৯৭৬-এর বাইরে গিয়ে পরিকল্পনাটি করা হয়েছিল। এ কারণে সে সময় চবক অধ্যাদেশটিতে সংশোধন আনার বিষয়েও প্রস্তাব করা হয়। তবে এখন আর বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার বাস্তবায়নে যাচ্ছে না চবক। বন্দরের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ) মো. কামরুল আমিন বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বর্তমানে আমাদের কোনো চিন্তাভাবনা বা কার্যক্রম নেই। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের সংগঠন পোর্ট ইউজার্স ফোরাম ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, বহির্নোঙরে ব্যাপক জাহাজ জট, জেটিতে কনটেইনার জাহাজের জট, ইয়ার্ডে উপচে পড়া কনটেইনার নিয়ে বিড়ম্বনা চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়মিত ঘটনা। এর মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যাংক প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আজগুবি ছিল। বন্দর একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। এটা ভালো খবর যে, এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নিয়ে তারা আর অগ্রসর হচ্ছে না।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অথরিটি ফান্ড কীভাবে গঠিত হবে ও তাতে বিনিয়োগ করা যাবে, তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে চবক বিনিয়োগ নীতিমালায়। বিদ্যমান চবক অধ্যাদেশ ১৯৭৬ সংশোধনের মাধ্যমে বন্দর ব্যাংক গঠন করতে হলে শুরুতেই বড় ধরনের প্রাথমিক বিনিয়োগ করতে হতো। প্রস্তাবিত ব্যাংকের শেয়ার মূলধনে ন্যূনতম বিনিয়োগ ও আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে কমপক্ষে ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু এ পরিমাণ বিনিয়োগের পর চট্টগ্রাম বন্দর যদি প্রস্তাবিত ব্যাংকের ৫০ শতাংশের বেশি শেয়ার হাতে রাখতে যায়, তবে বন্দরের তারল্য ঘাটতি দেখা দেবে। বিপুল পরিমাণে প্রারম্ভিক বিনিয়োগের পর প্রকৃত মুনাফা অর্জনে অনিশ্চয়তা তো রয়েছেই। সে ক্ষেত্রে ব্যাংক সচল রাখার জন্য পুনরায় বিপুল পরিমাণ আর্থিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হতো।

ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বন্দর কমিটির সুপারিশেই ছিল বেশকিছু বড় প্রতিবন্ধকতা। এছাড়া লোকসানে পড়ার আশঙ্কা তো ছিলই। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠিত অধিকাংশ নতুন বাণিজ্যিক ব্যাংক কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। এছাড়া গ্রাহকদের ঋণ প্রদান করা না হলে বিপুল পরিমাণ আমানতের ওপর সুদ দিতে গিয়ে লোকসানে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছতে না পারলে শুধু বন্দরের এফডিআর, ডিপোজিটে বিনিয়োগ ও বন্দরের আর্থিক কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

সুত্রঃ বণিক বার্তা

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close