চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

এক টাকা কর দিলেও ট্যাক্স কার্ড

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৮ ১৬:১১:২২ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৮ ১৯:৪৮:৩৭

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, যারাই ট্যাক্স দেবে তাদেরই ট্যাক্স কার্ড দেওয়া হবে। সে এক টাকা ট্যাক্স দিলেও। আগামী অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রোববার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এতে সভাপতিত্ব করেন।

আলোচনায় অর্থমন্ত্রীকে আগামী বাজেটে করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। এছাড়া কর ব্যবস্থার সংস্কার করে ব্যক্তিগত আয়ের করসীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা, ব্যক্তিগত আয়ের সর্বোচ্চ শ্রেণির জন্য করের পরিমাণ কমানো, সকল নাগরিকের জন্য ট্যাক্স কার্ডের প্রচলন করা, ভ্যাট ও করের আওতা বাড়ানোসহ বেশ কিছু সুপারিশও করেছেন তারা।

আলোচনায় শিক্ষা খাতের দুরবস্থা, শিক্ষার গুণগত মান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভূক্তি, চিকিৎসক সঙ্কট ইত্যাদি বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

আলোচনায় সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, কর জাল গত নয় বছরে বাড়লেও মাথাপিছু আয়ের তুলনায় করের আদায় কম। করের আদায় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে সবার জন্য বিনামূল্যে ট্যাক্স ফাইল করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ট্যাক্স উপরের দিকে অনেক বেশি। ফলে অনেকেই ট্যাক্স ফাঁকি দেন। এটা কিছুটা কমানো হলে অনেকেই ট্যাক্স দিতে উৎসাহিত হবেন। আবার অনেক ব্যবসায়ী জনগণের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও সরকারি কোষাগারে জমা দেয় না। ভ্যাট আদায় বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

তিনি ব্যাংক ব্যবস্থার দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা সাম্প্রতিককালে আমেরিকায় অর্থনৈতিক মন্দার পেছনে মূখ্য ভুমিকা রেখেছে। তাই আমাদের সতর্ক হতে হবে। আমাদের ব্যাংকগুলোর একজন এক্সকিটিভ, এমডি, সিইও এর বেতন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীর বেতন দুই লাখ টাকা। ব্যাংকের নির্বাহীদের এই বেতন অস্বাভাবিক বেশি। এতে লাগাম টানা দরকার।

হাছান মাহমুদ উপজেলা পর্যায়ে সেরা ট্যাক্স দাতা পুরস্কার চালুর পরামর্শও দেন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম ট্যাক্সের রেট কমিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, এতে কর জালের আওতা বাড়বে এবং সবাই ট্যাক্স দিতে উৎসাহিত হবে।

৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কর মওকুফের আবেদন জানান তিনি।

পরিবেশবান্ধব গ্রীন ফ্যাক্টরি উপকারিতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের ট্যাক্স ছাড় দেয়া প্রয়োজন যাতে অন্যরা পরিবেশ উপযোগী গ্রিন ফ্যাক্টরি করতে পারে।

এসময় তিনি বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় রোধ করার জন্য সব জায়গায় সেন্সর প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মীর শওকত আলী বাদশা উপকূলীয় মাছ চাষ উন্নয়নে আরও বেশি বরাদ্দের দাবি জানান।

এছাড়া বাণিজ্যিকভাবে হরিণ চাষের অনুমতি দিতে সরকারে প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিকভাবে হরিণ চাষ করলে মাংসের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সুন্দরবনে চোরাই হরিণ শিকারের সংখ্যাও কমে আসবে।

সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি বলেন, কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা গ্রামে থাকেন না। উচ্চশিক্ষার অজুহাত এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) পরিচয়ে চিকিৎসকরা কর্মস্থলে থাকেন না। ঢাকায় চলে আসেন। এটা চরম বাস্তবতা। দেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা হাসপাতালগুলোর মধ্যে আমার উপজেলা কাপাসিয়ার অবস্থান আট নম্বরে। এতো ভালো অবস্থানের পরেও আমার উপজেলায় চিকিৎসক ধরে রাখতে পারি না। চিকিৎসক সঙ্কট দূর করার জন্য সরকারকে গভীরভাবে বিষয়টি দেখতে হবে।

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন, সংসদ সদস্য আ ফ ম রুহুল হক, মকবুল আহমেদ, মেজর জেনারেল সুবিদ আলী ভূঁইয়া, জাহিদ আহসান রাসেল, রেবেকা মোমেন প্রমুখ।

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close