চট্টগ্রাম, , রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

এবারো স্বপ্নভঙ্গ!

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৮ ২৩:৫০:৪১ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৮ ২৩:৫০:৪১

শেষ ওভারের রোমাঞ্চ। দুই বল বাকি থাকতেও পড়লো ভারতের উইকেট। কিন্তু পরের বলে দিনেশ কার্তিকের আরেকটা ছয়। এবং আরও একবার শিরোপার খুব কাছে গিয়ে ফিরে আসা বাংলাদেশের।

১৭ ওভার পরে সমীকরণ অনেকটাই সহজ হয়ে এসেছিলো বাংলঅদেশের জন্য। কারণ ১৬ তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান মনিশ পান্ডেয়ার উইকেট সহ দিয়েছেন চারটি ডট বল!

কিন্তু পরের ওভারেই রুবেল হোসেনকে তুলোধুনো করে দিনেশ কার্তিক তুলে নিলেন ২২ রান। সেখানেই আসলে হেরে গিয়েছিলো টাইগাররা।

বহুক্ষণ ধরে ভালো কোনো ওইকেডের অভাবে নাগিন নাচটা ঠিকমতো দিতে পারছিলো না টাইগাররা। সেই সুযোগটা এনে দিলেন নাগিন নাচের প্রবর্তক নাজমুল ইসলাম। এই তরুণ তুলে নিলেন সবচেয়ে মূল্রভান উইকেটটি। ৪২ বলে ৫৬ করে ফেলা রোহিত শর্মাকে ফেরালেন তিনিই।

দীর্ঘসময় ভারতীয় ব্যটসম্যানদের রান উৎসব বসে বসে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলো না প্রেমাদার বাংলাদেশী দর্শকদের। নবম ওভারে তাদের উদযাপনের মুহূর্তে এনে দিলেন রুবেল হোসেন। তুলে নিলেন নিজের দ্বিতীয় উইকেট। কে এল রাহুল প্যাভেলিয়নে ফিরলেন ২৪ রান নিয়ে।

একের পর এক চার-ছক্কার বৃষ্টিতে রোহিত শর্মা আর শিখর ধাওয়ান আড়াই ওভার যেতে না যেতেই করে ফেলেছিলেন ৩২ রান। সেই রানের রথে রাশ টানেন সাকিব আল হাসান। ফেরালেন শিখর ধাওয়ানকে। এক রান যোগ হতে না হতেই রুবেল হোসেনের শিকার সুরেশ রায়নাও।

এর আগে সাব্বির রহমানের ব্যাটে ভর করে টাইগাররা স্কোরকার্ডে জমিয়েছে ৮ উইকেটে ১৬৬ রান। এই রানকে ‘লড়াই করার মতো সংগ্রহ’ কেউ কেউ বললেও, ভারতের শক্তিধর ব্যাটিং লাইন-আপের সামনে বেশ নড়বড়েই ঠেকছে তা।

সাব্বির রহমানের ফিফটিতে ভারতকে ১৬৭ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে কলম্বোর প্রেমাদাস স্টেডিয়ামে শুরু বেশ সাবধানে করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। দারুণ কিছুর আভাস দিচ্ছেন তারা। কিন্তু, হঠাৎ-ই ধস নামে টাইগারদের ব্যাটিং অর্ডারে। দলীয় ৩৩ রানে হারাতে হয় তামিম, লিটন ও সৌম্যর উইকেট। আসরে সবচেয়ে ধারাবাহিক মুশফিকও টেকেননি বেশিক্ষণ। মুশফিক ফেরেন ৯ রান করে। দলীয় ৬৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর, সাব্বির ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ মিলে হাল ধরার চেষ্টা করেন।

কিন্তু, আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২১ রানে আউট হন। এরপর, দলের স্কোর সমৃদ্ধ করতে থাকেন সাব্বির রহমান। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি। উইকেটে জমতে পারেননি অধিনায়ক সাকিক আল হাসান। রান আউট হয়ে তিনি ফেরেন ৭ রান করে। সাকিবের আউটের পর সাব্বিরও ফিরে যাবেন। যাওয়ার আগে ৭ চার ও চার ৬-এ ৭৭ রান করেন। আর শেষ দিকে মেহেদি হাসান মিরাজের জড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ লড়াকু স্কোর পান।

স্কোর:

ভারত : ১৬ি৮/৬, ওভার ১০

বাংলাদেশ : ১৬৬/৫ তামিম ১৫, লিটন ১১, সৌম্য ১, সাব্বির ৭৭, মুশফিক ৬ মাহমুদুল্লাহ ২১, সাকিব ৭, মেহেদি ৬*, মোস্তাফিজ ০*।
ওয়াশিংটন ১/২০ চাহাল ১৮/৩

এর আগে বাংলাদেশ টি-টিয়েন্টি ও ওয়ানডেসহ পাঁচটি ফাইনাল খেলেছে। কিন্তু কখনো টাইগার সেনারা শিরোপা উঁচু করে দেখাতে পারেন নি বাংলাদেশে কোটি ক্রিকেট প্রেমীদের।

২০০৯ সালে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজে দাপুটে ক্রিকেট খেলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনাল হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় টাইগারদের। ২০১২ সালের এই মার্চ মাসে এশিয়া কাপে ফাইনাল হেরে সাকিব-মুশফিক যেমন কাঁদেন, তেমনি কাঁদেন সারা দেশের কোটি ক্রিকেট বক্তরা।

এরপর ২০১৬ সালের মার্চে মিরপুরে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালেও পাকিস্তানের কাছে হারে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের মে থেকে ২০১৮ পর্যন্ত আরও তিনটি ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে নিউজিল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। সেবারও গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু ফাইনালে গিয়ে ওই নিউজিল্যান্ডের কাছেই হেরে যায় মুশফিক-মাহমুদউল্লাহরা।

আর সবশেষ দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের স্মৃতি তো এখনও দগদগে। ‘ফেরাবিট’ হিসেবে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বাংলাদেশের।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ হেরেছে পাঁচ-পাঁচটি ফাইনাল। জয়ের কাছে গিয়েও উঁচিয়ে ধরা হয়নি শিরোপা। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচ তাই শুধু ফাইনাল ছিলো না! আগের পাঁচটি ফাইনালের হিসাব মেলানোর সুযোগও বলা চলে।

কিন্তু আরও একবার এলা না কাঙ্খিত জয়। ফাইনালে হারের বৃত্ত থেকে বেরোতে পারলো না সাকিবরা।

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close