চট্টগ্রাম, , রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

যে কারণে শিরোপা বঞ্চিত বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৯ ০০:০০:২৮ || আপডেট: ২০১৮-০৩-১৯ ০০:০০:২৮

এবারো পারল না বাংলাদেশ। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে হেরেছে। ঘরের বাইরে সাকিব-তামিমদের এটাই ছিল প্রথম ফাইনাল। আন্তর্জাতিক আসরে ফাইনালে উঠে এ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এর আগে ঘরের মাঠে চারটি ফাইনালেই হারতে হয়েছে টাইগারদের।

রবিবার কলম্বোর প্রেমাদাসা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এই ম্যাচে টস জিতে বোলিং বেছে নিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তাই বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছে। গড়তে পারেনি বড় কোনো স্কোর। বিশেষ করে দামি খেলোয়াড়রা যেভাবে আউট হয়েছে। তাতে জাতীয় দলের খেলা মনে হয়নি। বরং পাড়া-মহল্লা মানের খেলা হয়েছে।

ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লিটন দাস ভারতের ডানহাতি স্পিনার ওয়াশিংটনের হাতে ফিরেছেন। লিটন দাস দীর্ঘদিন যাবৎ ফর্মে নেই, তারপরও কোন যুক্তিতে তাকে দলে নেওয়া হয়, তার কোনো ব্যাখ্যা হয় পাওয়া যাবে না। আর এভাবেই হারতে হবে বাংলাদেশ দলকে। এটাই নিয়তি।

লিটন দাসের আউটের সে শোক কাটতে না কাটতেই তামিম ইকবালকে দারুণ এক ক্যাচে থামিয়েছেন ভারতীয় পেসার শারদুল ঠাকুর। একেবারে সীমানা থেকে তাকে দারুণ ক্যাচে পরিণত করেন শার্দুল। তামিম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একদিন চলে উঠে তো আর দশদিন খারাপ খেলা। তবে আজকে আরেকটু ধৈর্য ধরলে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন ইতিহাস গড়তে পারতো।

তামিমের পর পঞ্চম ওভারের শেষ বলে স্কয়ার লেগে শিখর ধাওয়ানকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সৌম্য সরকার (১)। সে তো লিটন দাসের মতো একেবারে ফর্মে নেই, তার পরও অদৃশ্য কোনো এক কারণে সে ঠিক দলে তো বটে, মূল একাদশেও জায়গা পেয়ে যায়। ভাবটা দেখে মনে হয় ১৮ কোটি মানুষের দেশে যেন আর কোনো খেলোয়াড় নাই।

এর পর ভাল খেলে নাগিন নাচকে বিখ্যাত করে তোলা মুশফিকুর রহিম দারুণ দৃঢ়তা দেখান সাব্বির রহমানকে সাথে নিয়ে। কিন্তু আজ আর পারলেন না। দরকার ছিল জ্বলে উঠার। ফাইনালে কোথায় একটু ভাল খেলার প্রত্যাশা জাতির তাও হল না। একেবারে বাজে আউট বলতে যা বুঝায় তাই করলেন মুশফিকুর রহিম। দারুণ ফর্মে থকা মুশফিক এদিন নিজেই বিপদ ডেকে আনেন। স্টাম্পের অনেক বাইরে থাকা মারতে গিয়ে আউট হন তিনি।

অতপর মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে আশা। কিন্তু সাব্বির রহমানের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি খেসারত দিয়ে আউট হন আগের ম্যাচ বাংলাদেশকে নাটকীয় জয় এনে দেওয়া এ ব্যাটসম্যান। মূলত ভারতীয়দের উইকেট উপহার দেন তারা। এরপর রান আউটের ফাঁদে পরে ফিরে যেতে হয় সাকিব আল হাসানকে। তার নামের সাথে খেলার মান মিলেনি। মনে হয় মানসিকতার সমস্যা।

একাই লড়াই চালিয়ে যান সাব্বির। ১৯তম ওভারে উনাদকাটের বলে বোল্ড হওয়ার আগে দলকে সম্মানজনক স্থানে নিয়ে যান তিনি। ৫০ বল মোকাবেলা করে ৭৭ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান তিনি।

ম্যাচের শেষ দিকে ২ চার ১ ছক্কায় ৭ বলে মেহেদী হাসান মিরাজের ১৯ রানে লড়াকু সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ভারতের পক্ষে চাহাল ৩টি ও উনাদকাট ২টি উইকেট নেন।

অন্যদিকে ফিল্ডিং করতে নেমে একেবারে খারাপ করেনি, শেষ দিকে তো ভালভাবে চেপে ধরতে সক্ষমও হয় কিন্তু তার পরও জয় অধরা থেকে যায়। আর ১৮ কোটি মানুষের বেদনা দীর্ঘায়িত হয়।

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close