চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮

চট্টগ্রামে ধর্ম পরিবর্তন করেও রক্ষা পেল না খুনি

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২০ ২১:১১:৫৪ || আপডেট: ২০১৮-০৩-২১ ১২:২৯:০৭

চার বছর আগের একটি হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে রেহাই পেতে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেছেন প্রদীপ চৌধুরী।নিজেকে তৈরি করেছেন আল আমিন হিসেবে। হত্যাকাণ্ডের আসামি প্রদীপ চৌধুরী চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় আল আমিন হয়ে বসবাস করছিলেন ।

মঙ্গলবার এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।

রোববার ১৮ই মার্চ রাতে ঢাকার বাড্ডা এলাকা থেকে আল আমিন ওরফে প্রদীপ গ্রেপ্তার করে পিবিআই সদস্যরা।

প্রদীপ (৩২) চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার মৃত নিরঞ্জন চৌধুরীর ছেলে। চার বছর আগের একটি হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এ ঘটনা বের হয়ে আসে। প্রদীপ হিন্দু থেকে মুসলিম হয়ে আল আমিন নাম নিয়ে ঢাকায় মুদি দোকান করছে, এমন তথ্য পান পিবিআই কর্মকর্তারা।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ছিনতাই করতে গিয়ে কিশোর মো. আলাউদ্দিনকে (১৬) হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে আল আমিন ওরফে প্রদীপ।

“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, মামলা থেকে রেহাই পেতে ধর্ম পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম ছাড়ে সে। ঢাকায় গিয়ে বিয়ে করে এবং সেখানে থাকতে শুরু করে।”

রোববার রাতে বাড্ডা ভুঁইয়া বাড়ি এলাকা থেকে আল আমিন ওরফে প্রদীপকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ চাকমা।

২০১৪ সালের ৩ মার্চ গভীর রাতে নগরীর বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজারে ইসলামী সমাজকল্যাণ মসজিদ লাগোয়া খালপাড়ে কিশোর মো. আলাউদ্দিন ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মারা যায়। আলাউদ্দিন স্থানীয় আবুল হোসেন ও আলেয়া বেগমের সন্তান। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হলে পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়।

পিবিআই কর্মকর্তা সন্তোষ চাকমা জানান, শুরুতে পুলিশ তদন্ত করলেও পরে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শেষে অন্য দুই আসামির নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

“প্রদীপের ঠিকানা-পরিচয় সনাক্ত করতে না পারায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদনও করা হয় ওই অভিযোগপত্রে। মহানগর হাকিম শাহাদাত হোসেন ভুঁইয়া তার ঠিকানা সন্ধান করতে মামলাটি পিবিআইর মাধ্যমে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।”

সন্তোষ চাকমা জানান, প্রদীপের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্য দিতে না পারলেও এক পর্যায়ে তার ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিয়ের খবর পান তারা।

“এরপর তার স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালকের তথ্য সংগ্রহ করি। পরে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close