চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮

চট্টগ্রামে চাক্তাই খাল আগামী বর্ষায় রুদ্ররুপের অপেক্ষা

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২২ ১০:৪২:৪৬ || আপডেট: ২০১৮-০৩-২২ ১৮:০২:৩৭

জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগই সীমাবদ্ধ

আখতার হোসাইন

জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পেতে চট্টগ্রামবাসীর কান্না যেন কেউ শুনছে না। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে হাজারো নিউজ, টকশো আর গণমাধ্যমে নেতা-নেত্রীদের বড় বড় কথা, বিশাল বিশাল বরাদ্দ ইত্যাদি কাগজেই রয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীর চাক্তাই খালসহ শাখা-প্রশাখা মিলিয়ে ১১৮টি খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮২.২৫ কিলোমিটার। এর অধিকাংশ দখল,দুষণ আর ভরাট হয়ে আছে। সংস্কার কিংবা খননের জন্য প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২৩ কোটি টাকার বেশী খরচ হলেও তার সুফল পাচ্ছে না জনগণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহেশখালের মাটি খালেই রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছে খালের দু’পাড়ে খালের মাটি রেখে খালটিকে আরো ছোট করে ফেলা হয়েছে। একটি মহল খালের মাটি দিয়ে ভরাট করা দু’পাড়ে অবৈধভাবে দোকানপাট বসানোর পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে বলে জানান সচেতন নাগরিকরা।

ময়লা-কর্দমাক্ত কালো পানিতে পলিথিন, আবর্জনার স্তুপ। দু’পাড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে দোকান, ঘর, কারখানা। বহদ্দারহাট-চকবাজার, মিয়াখান নগর ঘুলে কর্ণফুলীর সাথে মিশে আছে এই চাক্তাই খাল।

চাক্তাই খাল নয় নগরীর প্রায় সব কটি খালের তলা ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতি বর্ষায় খালের দুপাড় উপচে পানিতে তলিয়ে যায় আশপাশের এলাকা। চাক্তাই খাল এখন ‘চট্টগ্রামের দুঃখ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জে চলাচলরত নৌযানের জন্য গভীরতা দরকার কমপক্ষে ১০ ফুট। চাক্তাই খালের সর্বোচ্চ গভীরতা এখন মাত্র ৪ থেকে ৫ ফুট (কিছু অংশে)। ১৫-২০ বছর আগেও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোর আশপাশের খাল ব্যবহার করে প্রতিদিন ৫০টির বেশি নৌযান পণ্য আনা-নেওয়া করত বলে জানান মাঝিরা।

এক সময় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা ভোগ্যপণ্য চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে এই খাল দিয়ে নৌযানে করে কর্ণফুলী নদী হয়ে সারা দেশে পরিবহন করা হতো। সুদূর বান্দরবানের থানচি ও রুমা উপজেলা পর্যন্ত নৌযানে করে পণ্য নেওয়া হতো বলে জানান খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী আহমদুর রহমান।

বারাইপাড়া থেকে খালটি সরু হতে হতে বাদুরতলা জঙ্গিশাহ মাজার এলাকায় দুষণে ভরাট হতে চলছে। কাপাসগোলা এলাকায় আবার একটু প্রসস্ততা দেখা যায়। প্রস্থ যেখানে কম সেখানে খালের মধ্যে ময়লা-আবর্জনার পাশাপাশি মাটির স্তূপ জমে রয়েছে।

কাপাসগোলা, চকবাজার, ডিসি রোড, দেওয়ান বাজার, মাষ্টারপুল, বউ বাজার, মিয়াখান নগর, ভাঙ্গারপুল, চাক্তাই এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, এই খালটি কোথাও সরু আবার কোথাও প্রসস্ত। মিয়াখান নগর এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, আমরা দীর্ঘদিন থেকে দেখে আসছি বাসা-বাড়ীর ময়লা গুলো সবাই খালেই পেলে যার ফলে বর্ষার মৌসুমে পুরো এলাকাবাসী পানি বন্দী জীবনযাপন করে। চাকবাজারের বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র সেন জানান বর্ষাকাল নয় জোয়ারের সময়ও চকবাজারসহ পুরো এলাকা পানিতে থইথই করে। নাম মাত্র খনন করা হলেও তা কাজে আসছে না।

নগরীর প্রধান প্রধান খাল গুলো হচ্ছে চাক্তাই খাল, মির্জা খাল, রাজা খাল, চশমা খাল, নাছির খাল, বির্জা খাল, খন্দকিয়া খাল, কাজির খাল, গয়নাছড়া খাল, বামনশাহী খাল, কাট্টলী খাল, ত্রিপুরা খাল, ডোম খাল, শীতল ঝর্ণা ছড়া খাল, মায়া খাল, হিজড়া খাল, মহেশখাল, ডাইভারশন খাল, মরিয়ম বিবি খাল, সদরঘাট খাল, রামপুরা খাল, পাকিজা খাল, মোগলটুলী খাল।

এছাড়াও ছোট ছোট অনেক শাখা খাল রয়েছে যার সব গুলোই ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। ফলে এ বছর বর্ষার মৌসুমেও নগরবাসীর তাদের দু:খ থেকে রেহাই পাবে না।

গতবছর বর্ষার শেষে বিশাল প্রকল্প সিডিএ কর্তৃপক্ষকে দেয়া হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। সিটি কর্পোরেশনকে কাজ না দেয়ায় তাদের নিয়মিত কাজ গুলোও ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। যার দরুন নিয়মিত ড্রেজিংও হয়নি অধিকাংশ খালের। যে টুকু হয়েছে তা নামমাত্র বলে দাবী করেছেন বারাইপাড়া নিবাসী আবদুল মাবুদ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকার সময় ২০০৩-০৪ সালে সাড়ে ৯ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত গভীরতা রেখে চাক্তাই খালের বেশির ভাগ অংশের তলদেশ পাকা করা হয়। কিন্তু দুই-তিন বছর পর পাহাড়ি বালু, মাটি ও আবর্জনা জমে খালটি আবার ভরাট হয়ে যায়। এরপর খনন করা হয়নি। একপর্যায়ে খালের গভীরতা দাঁড়ায় ৩ থেকে ৪ ফুটে।

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close