চট্টগ্রাম, , রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

চট্টগ্রামে রোগী ও মরদেহ পরিবহন নীতিমালা ঘোষণা

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২২ ১৮:০০:০৮ || আপডেট: ২০১৮-০৩-২৩ ০০:২০:২৫

কোনো নিয়মনীতি না থাকায় রোগী ও লাশ পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে নানা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছে সাধারণ রোগীরা।

ভুক্তভোগীদের এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তি দিতে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসকে নিয়মের আওতায় বা শৃঙ্খলায় আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী’র উদ্যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিআরটিএ, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন(বিএমএ), অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সকলের মতামত-সম্মতিতে প্রণীত হলো ‘রোগী ও মরদেহ পরিবহন নীতিমালা’।

জনস্বার্থে প্রণীত এ নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জনহয়রানি এবং জনভোগান্তির একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু সমাধান হতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার চসিক কেবি আবদুচ ছাত্তার মিলনায়তনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও দৈনিক আজাদী’র যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন “রোগী ও মরদেহ পরিবহন নীতিমালা” ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেছেন।

নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি আহ্বায়ক চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কমিটির সদস্যবৃন্দ দৈনিক আজাদী পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, চমেক অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডা. মো.ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, বিআরটিএ উপপরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

এই নীতিমালা প্রাথমিকভাবে পাইলট হিসেবে তিনমাস চালু থাকবে।পরবর্তীতে পুনঃমূল্যায়নের ভিত্তিতে এটি চূড়ান্ত করা হবে বলে মেয়র জানান।

নীতিমালার সুপারিশসমূহ হলো- আগ্রহী পরিবহন সার্ভিসকে হাসপাতাল প্রশাসন কর্তৃক নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। অনিবন্ধিতরা কোনো ধরনের রোগী বা মরদেহ পরিবহন করতে পারবে না। চমেক হাসপাতাল প্রশাসন কর্তৃক একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে একজন কর্মচারী পরিবহন সমূহের তালিকা, ঠিকানা, মালিক বা চালকের ফোন নাম্বার সংরক্ষণ করবে। সর্বোচ্চ ‍৫টি পরিবহন হাসপাতালের পার্কিংয়ে থাকতে পারবে। আনজুমান মফিদুল ইসলাম, সিটি কর্পোরেশন এবং অন্যান্য রেজিস্টার্ড-সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের পরিবহন নীতিমালার আওতামুক্ত থাকবে। নিবন্ধন পেতে আগ্রহী পরিবহনসমূহের বৈধ মালিকানা, হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সনদ, গাড়ি মরদেহ পরিবহনের নকশা অনুযায়ী হতে হবে। গন্তব্যে যাওয়া-আসার পথে ব্রীজ, ফ্লাইওভার বা রাস্তার প্রয়োজনীয় টোল গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে। ফ্রিজার, এসি এবং নন এসি ক্যাটাগরিতে পরিবহন সিরিয়াল থাকবে। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে গাড়ির নিবন্ধন বাতিল ও কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। গ্রাহকের অভিযোগ জানানোর সুবিধার্থে একটি হেল্পলাইন চালু করা হবে। ৫ কি.মি (আসা-যাওয়া ১০ কি.মি), ১০ কি.মি (আসা-যাওয়া ২০ কি.মি), ১৫ কি.মি, বিমান বন্দর আসা যাওয়া ৪৫কি.মি এবং আন্তনগর নন এসি ছোট গাড়ি প্রতি কি.মি ১৪ টাকা,বড় গাড়ি প্রতি কি.মি ১৭ টাকা,এসি ও ফ্রিজার ভ্যান প্রতি কি.মি ১৯ টাকা, পাহাড়ি অঞ্চলে কি.মি প্রতি ১০ শতাংশ হারে ভাড়া নির্ধারিত হবে। অক্সিজেনের প্রযোজন হলে প্রতি সিলিন্ডার ২২০ টাকা হারে গ্রাহককে দিতে হবে।

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close