চট্টগ্রাম, , রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

শোকে পাথর মাহি

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২৪ ১১:৩০:১৯ || আপডেট: ২০১৮-০৩-২৪ ১১:৩০:১৯

ক্যাপ্টেন বাবা আবিদ সুলতানকে হারানোর ১১ দিনের মাথায় মা আফসানা খানমকেও হারিয়ে শোকে ‘পাথর’ হয়ে গেছে তানজিদ সুলতান মাহি। তার যেন চোখে পানি নেই। ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে তার মহাঘোর। কারো সাথে কোনো কথা নেই।

১২ মার্চ নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় মারা যান মাহির বাবা পাইলট আবিদ সুলতান। শুক্রবার সকালে না ফেরার দেশে চলে গেলেন মা আফসানা খানমও। এ শোকে স্তব্ধ মাহি কারও সঙ্গে কোনো কথা বলছে না, এমনকি কান্নাও করছে না।

স্বজনরা জানান, বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর এখন মাহি তার চাচা খুরশিদ মাহমুদের কাছে থাকবেন। খুরশিদ মাহমুদ একজন চিকিৎসক। তিনি পরিবার নিয়ে পল্লবীতে থাকেন।

আফসানার চাচা ইয়াদ আলী বলেন, মায়ের মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ হয়ে গেছে মাহি। ওকে আমরা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।

পাইলট আবিদের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত আফসানা
স্বামীর পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন স্ত্রী আফসানা খানম। ইউএস-বাংলার নিহত পাইলট আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানমকে বনানীর সামরিক কবরস্থানে স্বামীর কবরের পাশেই দাফন করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে শেরেবাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে তার মরদেহ বের করে অ্যাম্বুলেন্সে করে উত্তরার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন আফসানা ও আবিদের স্বজনরা।

উত্তরায় স্বজনদের কাছে নেওয়ার পর আফসানার নামাজে জানাজা পার্শ্ববর্তী মসজিদ প্রাঙ্গণে সম্পন্ন হয়। এরপর বনানীর সামরিক কবরস্থানে স্বামী আবিদের কবরের পাশেই চিরশায়িত করা হয় তাকে।

মাগরিবের নামাজের পর তাকে দাফন করা হয়। নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম শুক্রবার সকালে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিএস২১১ এর পাইলট ছিলেন আবিদ। দুর্ঘটনার পর থেকেই ভীষণ চিন্তিত ছিলেন আফসানা। প্রথমে তাকে বলা হয়েছিল, আবিদ আহতাবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কিন্তু পরে তার মৃত্যুর খবর আসে। এতে ভেঙে পড়েন আফসানা।

মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রণাবোধ হলে ১৮ মার্চ তাকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন জানানো হয়, তিনি ব্রেন স্ট্রোক করেছেন। সবশেষ ২০ মার্চ হাসপাতালের তরফ থেকে জানানো হয়, আফসানার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ও অপরিবর্তিত রয়েছে। তার ব্রেইন কাজ করছে না। ন্যাচারাল ডেথ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ডেথ ঘোষণা করা যাচ্ছে না।

এর আগে তার অবস্থা দিন দিন আরো অবনতির দিকে যাচ্ছিল। স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় ছয় দিন ধরে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের আইসিইউতে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম আফসানার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানোই গেলো না। আবিদ ও আফসানা দম্পতির এক পুত্র সন্তান রয়েছে। নাম তানজিদ সুলতান। সে উত্তরায় নানার বাসায় থাকছে।

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close