চট্টগ্রাম, , রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

আজ হতে পারে ঝড়-বৃষ্টি

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২৬ ১৯:১৬:৫২ || আপডেট: ২০১৮-০৩-২৬ ১৯:১৬:৫২

ফাল্গুন বিদায় নিয়ে চৈত্র মাস চলে এলেও দেশের কোথাও এখন পর্যন্ত কালবৈশাখীর দাপট কিংবা ঝুম বৃষ্টি খুব একটা দেখা যায়নি। তবে আজ সোমবার ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে দু-এক জায়গায় দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঝড়-বৃষ্টি না হওয়ায় গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা বেশ বেড়েছে। রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলেছে। তবে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে গতকাল রোববার রাতের ছিটেফোঁটা বৃষ্টি। রাজধানী ঢাকায় ২ মিলিমিটার পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহে ১৪ মিলিমিটার। এ ছাড়া শ্রীমঙ্গলে ১৩, নওগাঁর বদলগাছীতে ১০, বগুড়ায় ৯ এবং কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির প্রভাব সোমবার সকাল থেকেই ছিল। ঝাঁজালো রোদ নেই। আকাশও রয়েছে গুমোট। দুপুরের পর থেকে গুমোট ভাবটা আরও বেড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সোমবার সকালে পূর্বাভাস দিয়েছে যে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে দু-এক জায়গায় দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। দমকা হাওয়া ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে শিলাবৃষ্টি।

এদিকে মার্চ মাসের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, তখন দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। কিন্তু এবার এর চেয়েও ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে। এ ছাড়া মার্চ মাসের শেষের দিকে দেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে একটি মৃদু তাপপ্রবাহ (৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং একটি মাঝারি (৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) মাত্রার তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

গরমের সঙ্গে সঙ্গে কালবৈশাখীর ঝাপ্টাও আসবে। সঙ্গে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। ১ মার্চ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, মার্চে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে এক-দুই দিন শিলাবৃষ্টিসহ মাঝারি ও তীব্র কালবৈশাখী, বজ্র-ঝড় ও দেশের অন্যান্য এলাকায় চার-পাঁচ দিন শিলাবৃষ্টিসহ হালকা অথবা মাঝারি কালবৈশাখী, বজ্র-ঝড় হতে পারে। এ ছাড়া মার্চ মাসে দেশের আটটি বিভাগে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। তবে সিলেট বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে ১১০ থেকে ১৩০ মিলিমিটার।

আবহাওয়াবিদেরা জানান, শীতকালে সূর্য কিরণ বাংলাদেশের দক্ষিণ দিক থেকে পড়ে থাকে। তখন দিন ছোট থাকে, রাত হয় দীর্ঘ। ২২ ডিসেম্বর থেকে সূর্য কিরণ উত্তর দিক থেকে পড়তে শুরু করে। উত্তরায়ণের জন্য মার্চ থেকে মে মাসে সূর্য কিরণ সরাসরি এ দেশের ওপরে পড়ে। এই তিন মাস সময়কে গ্রীষ্ম মৌসুম বলা হয়। এর মধ্যে এপ্রিল মাসে সূর্য কিরণের তেজের জন্য ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত থাকে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে সূর্যের কিরণ দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে অপেক্ষাকৃত বেশি তির্যকভাবে পড়ে। এর সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস বয়ে আসে। এই বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে। এর সঙ্গে আরব সাগরের দিক থেকে আসা বাতাসেও থাকে জলীয় বাষ্প। সে কারণে রাজশাহী, রংপুরের মতো উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকে। তবে সাগর থেকে আসা বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকায় খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল অঞ্চলে অস্বস্তি বেশি অনুভূত হয়।

আবুল কালাম মল্লিক আরও বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা বাতাস মিশে গেলে কালবৈশাখী, বজ্র মেঘ, শিলাবৃষ্টি হয়। মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের দিকে কালবৈশাখী বেশি হয়।

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close