চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮

ফোরজি চালুর পরে মোবাইল নেটওয়ার্ক খারাপ, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২৯ ১৫:১৯:৩৪ || আপডেট: ২০১৮-০৩-২৯ ১৮:০৩:০৭

মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক এখন অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় খারাপ। হঠাৎ হঠাৎ ‘নো সার্ভিস’ হয়ে যাওয়া, কথা বলার সময় ‘কল কেটে যাওয়া’, ‘কথা শুনতে না পাওয়া’, ‘মোবাইল হ্যাং’ হয়ে যাওয়ার হার বর্তমানে অনেক বেশি। ফলে গ্রাহকের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। আর এই ভোগান্তির শুরু ফোরজি সেবা চালু হওয়ার পর থেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছুদিনের মধ্যে এই সমস্যা দূর হয়ে যাবে। গ্রাহকরা আরও উন্নত সেবা পাবেন।

এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে ফোরজি চালু হয়েছে। এ সময়ে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক দিন দিন খারাপ থেকে আরও খারাপ হচ্ছে। অনেকে এসব সমস্যাকে ফোরজি চালুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। গ্রাহকদের অভিযোগ—কোথায় ফোরজি চালু হয়েছে, উন্নত নেটওয়ার্ক পাবো, ইন্টারনেটে উচ্চগতি পাবো তা নয়, মোবাইল ব্যবহার করাই বিরক্তিকর হয়েছে উঠেছে। কোথাও কোথাও ফোরজি নেটওয়ার্কে প্রবেশ করলে ২জি দেখাচ্ছে। থ্রিজিও পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ হঠাৎ নেটওয়ার্ক ফেল করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটা প্রযুক্তি থেকে আরেকটা প্রযুক্তিতে প্রবেশের সময় মোবাইলে এ ধরনের কিছু সমস্যা হতে পারে, যা সাময়িক। শিগগিরই এসব সমস্যা কেটে যাবে।

ফোরজির লাইসেন্স হস্তান্তর ও চালুর অনুষ্ঠানে (গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছিলেন, ‘গ্রাহকদের মোবাইল সেবায় ত্রুটি থাকবে, এটা মেনে নেওয়া যাবে না। আমার কাছে গুণগত মানই প্রথম অগ্রাধিকার।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমরা টেক নিউট্রালিটি (প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা) দিয়েছি, তরঙ্গ দিয়েছি। এখন আর আপনারা বলতে পারবেন না, এগুলো নেই, তাই মোবাইল সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে।’ মোবাইল অপারেটরগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা গ্রাহক বাড়াচ্ছেন, কিন্তু তরঙ্গ বাড়াচ্ছিলেন না। এই নেই নেই অবস্থা এখন আর নেই। আপনারা যদি বিষয়টি উপলব্ধি করেন, তাহলে ভালো হয়।’ মন্ত্রী নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে বলেন, ‘মোবাইল ফোন সেবায় অনেক সমস্যা রয়েছে। এরমধ্যে কলড্রপ একটি বড় সমস্যা। এমনও দেখা গেছে বাসা থেকে অফিস পর্যন্ত আসতে আটবার পর্যন্ত কলড্রপ হয়েছে। এটা চলতে দেওয়া যাবে না। এসব সমস্যা দূর করতে হবে।’

মন্ত্রী এসব কথা বলার পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। মোবাইল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ—অবস্থা তো ভালো হয়ইনি, আরও খারাপ হয়েছে। গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংকে এই সমস্যা বেশি। টেলিটক এখনও ফোরজি চালুর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়নি। ফলে এই অপারেটরটির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ কম বলে জানা গেছে।

এখনকার অবস্থা জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘মোবাইল সেবাদানের বিষয়ে অপারেটরগুলোর সঙ্গে আমরা কোনও ধরনের আপস করছি না। কোনও সুযোগও নেই। সেবার মান ভালো করতেই হবে। তবে তাদের সময় দিতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী তারা নেটওয়ার্ক রোলআউটের জন্য ছয় মাস সময় পাবে। এই সময়টা তাদের দিতে হবে। আমরা এখন সেই সময় অতিক্রম করছি। সমস্যা যা হচ্ছে, তা দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’

জানতে চাইলে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবির বলেন, ‘দেশ এখন প্রযুক্তিগত ট্রানজিশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে কিছু কিছু জায়গায় নেটওয়ার্কজনিত সমস্যায় পড়ছেন গ্রাহকরা।’ এছাড়া, টেক নিউট্রালিটিও করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিগগিরই এসব সমস্যা দূর হয়ে যাবে।’
অ্যামটবের মহাসচিব উল্লেখ করেন, শুধু ফোরজি চালুর সূত্রে যে ট্রানজিশন পিরিয়ড চলছে বলেই সমস্যা হচ্ছে তা নয়। কিছুদিন ধরে দেশে খারাপ আবহাওয়া বিরাজ করছে। এটাও সমস্যা তৈরির একটা কারণ। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু রেডিও কমিউনিকেশনে আবহাওয়ার মতো অনেক ফ্যাক্টর কাজ করে। ফলে সেসব বিষয়ও দেখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ফোরজির মতো ভালো সেবা পেতে হলে সময় দিতে হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফোরজি রোলআউটে সরকার অপারেটরগুলোকে ছয় মাসের সময় বেঁধে দিয়েছে। অপারেটররা এখন সেই সময়ের মধ্যেই আছে।’ খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যা দূর হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রবি সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে অপারেটরটির ১৬ হাজার সাইট (বিটিএস বা টাওয়ার) রয়েছে। এরমধ্যে ৩ হাজার ৯০০টির বেশি সাইটে ফোরজি চালু করা হয়ে গেছে, যা অন্য অপারেটরগুলোর চেয়ে বেশি। রবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কিছু সমস্যা আছে। এটা অপারেটরটির ইচ্ছাকৃত নয়। সমস্যাটা প্রযুক্তিগত। সমস্যা দূর হতে কিছুটা সময় দিতে হবে। -বাংলা ট্রিবিউন

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close