চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণে গতি পাচ্ছে

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-৩০ ১০:৫১:৫৭ || আপডেট: ২০১৮-০৩-৩০ ২১:৩৬:৫৪

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ হয়ে আনোয়ারা উপজেলা পর্যন্ত টানেল নির্মাণে নতুন করে গতি পাচ্ছে।

এই প্রকল্পের জন্য চায়না এক্সিম ব্যাংক থেকে ১১০০ কোটি টাকা ছাড় পাওয়ার পর টানেল নির্মাণের মূল কাজ আগামী দুই মাসের মধ্যে শুরু হতে পারে বলে প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কর্ণফূলী টানেল প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. অনুপম কুমার সাহা জানান, চট্টগ্রামে কর্ণফূলী টানেল প্রকল্পটি চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্নের প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে চট্টগ্রাম এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়নচিত্র। এই প্রকল্পের আওতায় কর্ণফূলী নদীর তলদেশে তিন দশমিক চার কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল নির্মাণ করা হবে। টানেলের সঙ্গে সংযুক্ত করতে টানেলের পূর্বপ্রান্তে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ও পশ্চিমপ্রান্তে ৭৪০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে।

এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেবে চীন। বাকি অর্থ সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় (এডিপি) এই প্রকল্পে ১ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয় ১ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।

উপ-প্রকল্প পরিচালক আরো জানান, প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করতে গত ডিসেম্বর মাসে চায়না এক্সিম ব্যাংক ঋণের অর্থের ১১০০ কোটি টাকা ছাড় দিয়েছে। এই অর্থ প্রকল্পের চায়না ঠিকাদারি সংস্থাকে ইতিমধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ আগামী দুই মাসের মধ্যে শুরু হয়ে যাবে। তবে প্রকল্পের মূলকাজ নদীর তলদেশ বোরিং করে টানেল নির্মাণ শুরু হতে আরো চার থেকে পাঁচ মাস লেগে যেতে পারে। নদীর তলদেশে বোরিং করার প্রধান মেশিনারিজ আগামী এক মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, নদীর তলদেশে এর গভীরতা হবে ৩৯ ফুট (১২ মিটার) থেকে ১১৮ ফুট (৩৬ মিটার)। মোট দুটি টিউব নির্মিত হবে। এর একটি দিয়ে গাড়ি শহরপ্রান্ত থেকে প্রবেশ করবে, আরেক টিউব দিয়ে আনোয়ারা উপজেলাপ্রান্ত থেকে শহরের দিকে আসবে। এ ভেতর দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইতিমধ্যে টানেল নির্মাণের প্রাথমিক ও পারিপার্শ্বিক কাজগুলো চলছে। বিশেষ করে প্রকল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সাবস্টেশন স্থাপন, প্রকল্পের ঠিকাদার, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের জন্য ক্যাম্প, আবাসন, গভীর নলকূপ স্থাপন, সাইট অফিস নির্মাণসহ ইত্যাদি। প্রকল্পের জন্য পতেঙ্গা ও আনোয়ারা অংশে জমি অধিগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে কর্ণফূলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close