চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮

এপ্রিলেই লন্ডনে হাসিনা-মোদির বৈঠক

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-০১ ১১:৪৫:৪৬ || আপডেট: ২০১৮-০৪-০১ ১৩:৪০:৩২

চলতির মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাজ্যে তাদের মধ্যে এই বৈঠকের সম্ভাবনার খবর দিয়েছে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা। এতে বলা হয়েছে, এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

ওই সময় চোগাম (কমনওয়েলথ হেড অব গভর্নমেন্ট মিটিং)-এ যোগ দিতে ব্রিটেনে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। একই সম্মেলনে অংশ নিবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ওই সম্মেলনের ফাঁকে দু’নেতার মধ্যে একটি বৈঠকের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে উভয় দেশ।

এক বছর আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির শীর্ষ বৈঠক হয়েছে। এরপর তৃতীয় কোনো দেশেও তারা মুখোমুখি হননি।

দু’টি দেশেই নির্বাচন কড়া নাড়ছে। লন্ডনের বৈঠকটি সম্ভব হলে কূটনৈতিক শিবিরের হিসাব মতো বর্তমান সরকারের আমলে এটাই দু’দেশের শেষ শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হবে।

ফলে আনন্দবাজার পত্রিকার ভাষ্যে, এই বৈঠকের গুরুত্ব গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই যথেষ্ট। সম্প্রতি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বিমস্টেকের নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠকে যোগ দিতে ঢাকা সফর করেছেন। এরপর যাবেন পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বক্তব্য, বাংলাদেশ সরকারের আরও বেশি আস্থা অর্জন করাটাকে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সাংস্কৃতিক দৌত্যের মাধ্যমে ‘ট্র্যাক টু’ কূটনীতির দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১০ এপ্রিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে একটি আলোচনাসভায় যোগ দিতে ঢাকা যাবেন রবীন্দ্রভারতীর ভিসি সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী এবং বিশ্বভারতীর ভিসি সবুজকলি সেন।

সূত্রের খবর, লন্ডনে বৈঠক হলে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী। তবে বরাবরের মত ওই বৈঠকে তিস্তা নিয়ে কোনো পাকা কথা দেওয়া সম্ভব হবে না মোদির পক্ষে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি আটকে রয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিস্তা ছাড়াও আরও অনেকগুলো দিক রয়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভারত পাশে রয়েছে। যে কাজগুলো ইতোমধ্যে চলছে তার পাশাপাশি, নতুন কোনো ক্ষেত্রে সমন্বয় বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কথা বলবেন মোদি-হাসিনা।

কথা হবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও। কট্টর মৌলবাদ এবং সন্ত্রাসের মোকাবিলা করতে পারস্পরিক সহযোগিতা আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রে নির্বাচনের মুখে হিংসার ঘটনা বাড়লে তার প্রভাব সীমান্তে পড়তে পারে— এই উদ্বেগ রয়েছে নয়াদিল্লির। নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও আঁটোসাঁটো করা নিয়ে কথা চলছে দু’দেশের।

তবে তিস্তা নিয়ে আশু নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য ভারত যে ঐকান্তিক, এবার সে কথা স্পষ্টভাবেই জানানো হবে ঢাকাকে।

রাখাইন প্রদেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে ঢেলে সাজার জন্য কী পদক্ষেপ করলে সুবিধা হয়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে ভারত।

গত বছরের শেষে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জেলা রাখাইনের উন্নয়নের জন্য একটি চুক্তিপত্রে সই করেছে ভারত। সেখানে প্রস্তাবিত আবাসন তৈরির প্রকল্পগুলো শুরু করে দিতে সক্রিয় হচ্ছে মোদি সরকার। প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট রসদ রাখাইন প্রদেশে রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close