চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮

চিকিৎসা সংকটে রামগড়ের একটি অসহায় পরিবার

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-০২ ১৫:৩১:৩৬ || আপডেট: ২০১৮-০৪-০৯ ২০:৫৩:০৮

করিম শাহ
রামগড় (খাগড়াছড়ি) থেকে

মালেকা-সুরুজ চার সন্তানের একটি দরিদ্র দম্পতি। অন্যের জমিতে ঘর বেঁধে দিন মজুরের কাজ করে কোন মতে জীবন নামের সংসার পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে চলছিলো যাদের জীবন সংসার। কিন্তু একের পর এক সন্তানদের দুর্ঘটনা বশত মৃত্যু ও চিকিৎসা সংকটে জীবন নামের সংগ্রামের সাথে যুদ্ধে তিলে তিলে হেরে যাচ্ছে পরিবারটি। সুখেই ছিলো দরিদ্র পরিবারটি কোন দিন ভাবেনি একটা কালো মেঘের আধাঁরে ডেকে দুমড়ে মুছড়ে যাবে ছোট ছোট স্বপ্নগুলি।

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলাধীন পাতাছড়া ইউনিয়নের দুর্গম বুদংছড়া এলাকার মালেকা বেগম ও সুরুজ মিয়ার অসহায় পরিবারটির কথা বলছি। গত ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই সবজি ক্ষেতে জন্য বাড়িতে সংরক্ষিত রাখা হয়েছিলো বিষের বোতল নিজের অজান্তে তাঁদের ছোট মেয়ে রহিমা আক্তার সেবনের ঔষুধ ভেবে খেয়ে পেলে তাৎক্ষণিক অসুস্থ রহিমাকে রামগড় হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

একটি শোক কেটে উঠতে না উঠতে একই বছরের ২৬ নভেম্বর সকাল ৯টার দিকে পরিবারের ছোট ছেলে মোঃ মোজাম্মেল হোসেন নাকাপা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ১ম শ্রেণীর ছাত্র মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে অপরদিক থেকে আসা একটি ট্রাক কেড়ে নেয় ছোট মোজাম্মেলের প্রাণ। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায় পরিবারটি অপর দুই সন্তানকে নিয়ে স্বপ্নহীন বেঁচে থাকার অবলম্বনে আরো বড় ধাক্কা লাগে অপর ছেলে আবদুল মালেকের দুর্ঘটনার পর। ১০ বছর বয়সী আবদুল মালেক যখন পড়ালেখা ও খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকার কথা ঠিক তখন একটি দুর্ঘটনা ধীরে ধীরে অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে মালেকের জীবন। বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানির নিচে পুঁতে রাখা বাঁশের কঞ্চি ডুকে পড়ে মালেকের পুরুষাঙ্গ চেদ করে তলপেটে। অন্য শিশুদের চেচামেচিতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অচেতন অবস্থায় মালেককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রেফার করা হয় কুমিল্লার একটি হাসপাতালে। জীবন ফিরে পেলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি মালেক। ধার-দেনা করে অপারেশন করলেও তার পুরুষাঙ্গটি আর আগের জায়গায় প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়নি, সংযোগ করে দেয়া হয়েছে নাভির সাথে। আর সাথে নিয়মিত ঔষুধ ও নির্দিষ্ট সময়ে প্রায় ২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে আরো ২টি অপারেশন করার কথা থাকলেও বর্তমানে আার্থিক সংকটে সময়মত মালেকের অপারেশন নিয়ে শংকায় আছেন অসহায় পরিবারটি ফলে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে এখন দাঁড়িয়ে আছে মালেকের জীবন।

এদিকে এতোসব দুর্ঘটনার পর স্বামী সুরুজ মিয়া মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন তবে সন্তানের চিকিৎসায় হাল ছাড়েননি মা মালেকা বেগম। তিনি মনে করেন সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ভিক্তবানদের একটু সহানুভুতি ফেলে তাঁর মালেক আবারো ফিরে পাবে নতুন জীবন। মালেকের চিকিৎসায় তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার কিছু উদ্যমী যুবক চিকিৎসা ব্যয়ে তহবিল সংগ্রহ করছেন। চাইলে আপনিও মালেকের চিকিৎসা ব্যয়ে অংশ নিতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে বিকাশ: 01820732547 (পারসোনাল), রকেট: ০১৫৮০২৪২৫৫৫-৫ (এজেন্ট)।

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close