চট্টগ্রাম, , রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন-ফ্রান্সের হামলা

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-১৪ ১০:৫৩:০৪ || আপডেট: ২০১৮-০৪-১৪ ১০:৫৩:০৪

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় গত সপ্তাহের রাসায়নিক অস্ত্র হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেন বাশার সরকারের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করেছে। দেশ তিনটি একযোগে সিরিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে।

শুক্রবার জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন সেনাবাহিনীকে সিরিয়ায় হামলা চালানোর এই নির্দেশ দিয়েছেন।

ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, সিরিয়ার বাশার সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেন যৌথ অভিযান শুরু করেছে।

পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোট তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। একটি হচ্ছে দামেস্কের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র প্রস্তুতকারী একটি গবেষণাগার। অন্য দুটি হোমসে রাসায়নিক অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও রাসায়নিক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ রক্ষণ কেন্দ্র।

হামলায় মার্কিন টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, সিরিয়া সরকারের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যে এই আঘাত হানা হচ্ছে। এই হামলা ততদিন পর্যন্ত চলবে যতদিন না পর্যন্ত আসাদ বাহিনী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার বন্ধ না করবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কিছুক্ষণ আগে আমি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের রাসায়নিক হামলার সঙ্গে জড়িত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাবার আদেশ দিয়েছি।

রাসায়নিক হামলার জন্য আসাদকে দায়ী করে ট্রাম্প বলেছেন, এই ধরনের হামলা কোনো মানুষের কাজ নয়, একটি অসুরের করা অপরাধ। রাসায়নিক অস্ত্রের উৎপাদন, বিস্তার এবং ব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে বাধা দেওয়াই আজকে রাতে আমাদের নেওয়া সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।

রয়টার্স জানিয়েছে, সিরিয়াতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হওয়ার কথা জানতে পেরেছে তারা। হোয়াইট হাউসে ধারণ করা ভিডিওচিত্রে ট্রাম্প নিজেই সিরিয়াতে হামলা চালানোর খবর জানিয়েছেন।

রয়টার্স লিখেছে, ট্রাম্প যখন বক্তব্যব রাখছিলেন তখন সিরিয়াতে বিস্ফোরণের শব্দ শুরু হয়ে গেছে। শনিবার ভোরে সিরিয়ার দামেস্কে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ হওয়ার কথা রয়টার্সকে তাদের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, রাজধানীর পূর্ব দিকে ধোয়ার কুণ্ডলীও দেখা গেছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বাসার আল আসাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া। রাসায়নিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা করা হতে পারে সিরিয়ায়, এমন বক্তব্যের জবাবে রাশিয়া বলেছিল, সিরিয়াতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে রাশিয়া সেই ক্ষেপণাস্ত্রকে বিস্ফোরিত তো করে দেবেই, একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের স্থানেও পাল্টা হামলা চালাবে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার এক টুইটার বার্তায় লিখেছিলেন, ‘মিসাইল আসছে, তৈরি থেকো রাশিয়া।’ উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে আসাদ বাহিনীর রাসায়নিক হামলায় ৬০ জনের মৃত্যুর খবর জানা গিয়েছিল।

এদিকে, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় বিমান হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার মস্কোর জাতিসংঘ দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ‘এখন সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়ানো।’

নেবেনজিয়া বৈশ্বিক শান্তি ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেয়ার দায়ে ওয়াশিংটনকে অভিযুক্ত করে বলেন, পরিস্থিতি ‘খুব বিপজ্জনক’।

সূত্র: সিএনএন

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close