চট্টগ্রাম, , রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

‘শুভ নববর্ষ’

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-১৪ ১০:৫৮:২৬ || আপডেট: ২০১৮-০৪-১৪ ১৩:৫৮:০৯

পুরনোকে বিদায় জানিয়ে এসছে নতুন বছর ১৪২৫। আজ পহেলা বৈশাখ। সময়ের ধাপ ডিঙিয়ে দিনটি এখন পরিণত হয়েছে বাঙালির প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসবে।পুরনো বছরের সকল দুঃখ-কষ্ট আর হাসি-কান্নার যতো লেনদেন চুকিয়ে বাংলা নতুন বছরকে আপন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বরণ করে নিতে প্রস্তুত গোটা জাতি। আজ সবাই দিনভর মেতে রইবে নাচে-গানে, উৎসবে-আমোদে।

পয়লা বৈশাখ বাংলাদেশের চিরন্তন উৎসব, বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। পয়লা বৈশাখ আমাদের আপন শিকড়ের প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত হওয়ার দিন, বাঙালির প্রাণের উৎসবের দিন। আবহমান লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যে বর্ষবরণ উৎসবে মেতে ওঠে শহর-গ্রাম-নগর-বন্দর। রাজধানীতে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান রমনা বটমূল ছাড়িয়ে এখন ছড়িয়ে পড়েছে নগরজুড়ে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ঢাকা পরিণত হয় উৎসবের নগরীতে। বর্ষবরণের আনন্দ-উৎসবে মুখরিত থাকে সমগ্র দেশ।

আবহমান কাল ধরেই চলছে বৈশাখ বরণের আনুষ্ঠানিকতা। প্রকৃত রূপটি দৃশ্যমান হয় গ্রামে। একসময় গ্রামবাংলায় চৈত্রসংক্রান্তি ছিল প্রধান উৎসব। বছরের শেষ দিনে তেতো খাবার খেয়ে শরীর শুদ্ধ করতেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। নির্মল চিত্তে প্রস্তুত হতেন নতুন বছরে প্রবেশ করার জন্য। এখনও বৈশাখ বরণের অংশ হিসেবে বাড়িঘর ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করেন গৃহিণীরা। অদ্ভুত মুন্সিয়ানায় আল্পনা আঁকেন মাটির মেঝেতে। খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন সবাই। স্নান সারেন। নতুন পোশাক পরেন। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়িতে বেড়াতে যান। ঘরে ঘরে সাধ্যমতো বিশেষ খাবার রান্না করা হয়। থাকে পিঠা-পুলির আয়োজন। আজ হাটে-মাঠে-ঘাটে বসবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। নানা রকম কুটির শিল্প, খেলনা, মিষ্টিসহ বাহারি পণ্যে স্টল সাজানো হবে।বছরের প্রথম দিনে আজ নতুন নতুন স্বপ্ন বুনবে বাংলার কৃষক। হালখাতা খুলবে ব্যবসায়ীরা। সরকারী ছুটির দিনে রাজধানীসহ সারাদেশে একযোগে চলবে লোকজ ঐতিহ্যের নানা উৎসব অনুষ্ঠান।

রাজধানীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ সূর্যোদয়ের সময় রমনা বটমূলে ছায়ানটের, শাহবাগে ঋষিজের এবং শেরেবাংলানগরে সুরের ধারার শিল্পীদের বৃন্দসংগীত— ‘এসো, এসো হে বৈশাখ…’ ‘হে নূতন, এসো তুমি সম্পূর্ণ গগন পূর্ণ করি…’। এ ছাড়া শাহবাগে চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের বর্ণাঢ্য মঙ্গলশোভাযাত্রা। পুরান ঢাকায় হালখাতা, ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবর, বসুন্ধরা, উত্তরা, বনশ্রী, বনানী ও গুলশানসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বৈশাখী মেলায় ঢাকা পরিণত হয় আনন্দ নগরীতে। বাংলা নববর্ষ উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খই-মুড়ি-মুড়কি-বাতাসা মিষ্টান্নের পাশাপাশি হরেক রকম বাংলা খাবার। বাঙালি ভূরিভোজের জন্য উপলক্ষ খোঁজে। আর পয়লা বৈশাখ এরকমই একটা উপলক্ষ। আজ ঘরে ঘরে তিনবেলা হরেক রকম খাবারের আয়োজন তো থাকবেই। সেই সঙ্গে খাদ্যরসিকদের মিলনমেলায় পরিণত হবে নগরীর বড় হোটেল থেকে বনেদি রেস্তোরাঁ, নগরময় গড়ে ওঠা হালফ্যাশনের ফুডকোর্টগুলো। চায়নিজ রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড শপে থাইস্যুপ-চাউমিনের বদলে আজ মিলবে পান্তা-ইলিশ, গজাল মাছের শুঁটকি আর চিতল মাছের কোপ্তা। আজকের দিনটিতে কেউ ডায়েট, ডায়াবেটিস আর ব্লাড প্রেশারের তোয়াক্কা করে না।

আপনার মতামত দিন...

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close