চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮

চট্টগ্রামে হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের ‘জাদু’য় নবজাতকের লিঙ্গ বদল!

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-১৮ ১০:৪৫:৪৩ || আপডেট: ২০১৮-০৪-১৮ ১৭:০২:৫২

জীবিত কন্যা সন্তান রেখে মৃত পুত্র সন্তান দেয়ার অভিযোগ উঠেছে নগরের বেসরকারি চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে সিএমপি পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ করেছেন শিশুটির চাচা আলমগীর হোসেন। থানা অভিযোগটি সাধারণ ডাইরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করেছে। পাঁচলাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে ডিএনএ টেস্ট করিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চট্টগ্রাম নগরের চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার এক দম্পতি। তাদের অভিযোগ, নোয়াখালীর মাইজদীতে ১৪ এপ্রিল একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অসুস্থতার কারণে শিশুটিকে প্রথমে নোয়াখালীর মা ও মণি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে নিউমোনিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চাইল্ড কেয়ারে ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সেখানে ভর্তি থাকাকালে বেসরকারি রোগনিরূপণ কেন্দ্র শেভরন ও ট্রিটমেন্টে রিপোর্টে শিশুটিকে মেয়ে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চারদিন আগে সেনবাগের বাসিন্দা রোকসানা বেগম এক নবজাতকের জন্ম দেন। নিউমোনিয়া আক্রান্ত হওয়ায় আধাঘণ্টার মধ্যেই বাচ্চাটিকে নোয়াখালী মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ছয় ঘণ্টা পর সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ যে কোনো উন্নত হাসপাতালে নবজাতকটিকে রেফার করা হয়।এরপর ওই বাচ্চাকে আনা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে একদিন রাখার পর তাকে ভর্তি করা হয় চাইল্ড কেয়ারে। এরপর মঙ্গলবার শিশুটিকে চাইল্ড কেয়ার কর্তৃপক্ষ মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সেনবাগে শিশুটিকে নিয়ে যান তার বাবা-মা। সেখানে গিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে তারা দেখতে পান নবজাতক ছেলেসন্তান। এরপর ওই নাবজাতককে নিয়ে রাতে তারা পাঁচলাইশ থানায় এসে অভিযোগ করেন।

বাচ্চার চাচা আলমগীর হিরু বলেন, আমার ভাই দুবাই প্রবাসী মহিউদ্দিনের বিয়ের ৫ বছর পর প্রথম বাচ্চা হয়। সেটি চুরি করে আমাদের সঙ্গে চরম প্রতারণা করেছে যা ক্ষমার অযোগ্য। যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের শিশুকে ফেরত চাই।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে আমরা শিশুটির ডিএনএ টেস্ট করব। তারপর মামলা নেওয়া হবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফাহিম হাসান রেজা বলেন, এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি। প্রতিটি শিশুর সঙ্গে ট্যাগ লাগানো থাকে। আমাদের রেজিস্ট্রারে এটি ছেলেই ছিল। কোনো জায়গায় ভুল হচ্ছে। রিসিপশনে ভুল করতে পারে। কিন্তু রেজিস্ট্রারে ভুল হতে পারে না। ডাক্তার দেখেই রেজিস্ট্রার তৈরি করেন।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালী উদ্দিন আকবর বলেন, ‘মারাত্মক ধরনের নিউমোনিয়া আক্রান্ত নাবজাতকটিকে প্রথমে নোয়াখালী মা ও শিশু হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল, তারা ওই নাবজাতকের লিঙ্গ পরিচয় লিখেনি। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তারাও লিঙ্গ পরিচয় উল্লেখ করেনি। পরে চাইল্ড কেয়ারে ভর্তির সময় তারা ছেলেসন্তান লিখে ভর্তি করে। এরইমধ্যে শেভরণে ওই বাচ্চার একটি পরীক্ষা করানো হলে সেখানে মেয়ে লেখা হয়। এখন বাবা-মা দাবি করছে, তাদের মেয়েসন্তান ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত ছেলেসন্তান তাদের হাতে তুলে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন কথা হচ্ছে, নবজাতকটির শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এই ধরনের অবস্থায় সাধারণত শিশু বাঁচে না। এখন এ ধরনের অসুস্থ বাচ্চা কেউ তো বদল করবে বলে মনে হয় না। এরপরও অভিযোগ যেহেতু এসেছে, আমরা নবজাতক ও তার মায়ের ডিএনএ টেস্ট করবো। না মিললে চাইল্ড কেয়ার হোক বা অন্য কোনো হাসপাতাল আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

আপনার মতামত দিন...

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

Open

Close