চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৬ মে ২০১৮

যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন রনি

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২০ ১৪:১৭:৫৩ || আপডেট: ২০১৮-০৪-২০ ১৪:১৭:৫৩

অধ্যক্ষকে পেটানোর পর আবারও কোচিং সেন্টারের মালিককে পেটানো ও চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনিসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

মামলা রেকর্ড হওয়ায় এখন যেকোনো সময় তারা গ্রেফতার করা হতে পারেন বলে জানিয়েছেন থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালী উদ্দিন আকবর জানান, কোচিং সেন্টারের মালিককে পেটানো ও চাঁদা দাবির অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে রনির বিরুদ্ধে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আব্দুল ওয়ারীশ খান বলেন, কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়া রনি ও তার বন্ধু নোমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে অভিযোগটি মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে।

এদিকে,  একের পর এক নেতিবাচক ঘটনায় নাম আসা ছাত্রলীগকে নিয়ে বিব্রত আওয়ামী লীগ সহযোগী এই সংগঠনটি নিয়ে নতুন করে ভাবছে। এ কথা জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী সম্মেলনে সংগঠনটির নতুন মডেলে দাঁড় করানো হবে।

চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীকে ছাত্রলীগ নেতার চড় মারার ভিডিও প্রকাশ এবং টঙ্গীতে এক ছাত্রলীগ নেতার ইয়াবাসহ ধরা পড়ার পরদিন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এ কথা বলেন।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন কাদের। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রাথমিক স্বীকৃতিপত্র পাওয়ার বিষয়ে এই সেমিনারের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি।

সেমিনারে ছাত্রলীগ নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। জানান, সংগঠনটির আগামী জাতীয় সম্মেলনের পর নতুন চেহারা দেখা যাবে।

আগামী ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন হবে। এই সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব বাছাই করা হবে। সংগঠনের বর্তমান কমিটি এই সম্মেলনে রাজি ছিল না। তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর সম্মেলনে আগ্রহী ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কড়া নির্দেশে সম্মেলনের তারিখ দিয়ে সংগঠনের নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান কমিটি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগ নিয়ে আমরা নতুন করে ভাবছি। সামনে তাদের কনফারেন্স (জাতীয় সম্মেলন) আছে। সেই কনফারেন্সে আমরা স্টাকচারাল লিডারফিপ এবং ছাত্রলীগকে নতুন মডেলে বিকাশ করার একটা নির্দেশনা আমাদের নেত্রীর রয়েছে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। একটু ধৈর্য ধরুন, অপেক্ষা করুন।’

বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন, স্বাধীকারের দাবি প্রতিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান এবং এরশাদের সেনা শাসনবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও ইদানীং সংগঠনটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে সদস্যদের নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।

গত নয় বছর ধরে চাঁদাবাজি, মারামারি, মাদক সম্পৃক্ততা, সংঘর্ষ, খুনসহ নানা ঘটনায় বারবার নাম এসেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নাম। নানা সময় সাংগঠনিক এবং আইনি ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। একাধিক নেতা-কর্মীর ফাঁসি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশও এসেছে। তারপরও অপকর্ম এবং সমালোচনা চলছে সমান তালে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকেই সরকারকে নানা সময় ছাত্রলীগের নানা কর্মকাণ্ডে বিব্রত হতে হয়েছে। আর ক্ষমতার শেষ বছরে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মীদের অপকর্ম সরকারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

২০১৭ সালের ২৪ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা ‘নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম না হওয়ার’ শপথ নেন। তারপরও নানা সময় নেতিবাচক সংবাদ হয়েছে ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখানে কিছু অ্যাম্বারেসিং (বিব্রতকর) ব্যাপার ঘটে। এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। ছাত্রলীগ হোক, আওয়ামী লীগ হোক, আমাদের যেকোনো সংগঠনের কেউ অপরাধ অপকর্ম করে পার পায় নাই।’

‘এখানে কোনো ইনফিউনিটি কালচার গড়তে দিইনি। এ ব্যাপারে আমাদের নেত্রীর জিরো টলারেন্স অবস্থান। কোন অপরাধের শাস্তি হয় না? আমাকে বলুন প্রমাণ করুন। আমাদের কত কর্মী কারাগারে। অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে এমন কালচার আওয়ামী লীগে নাই, বিএনপির থাকতে পারে।’

আপরদিকে,  মামলা রেকর্ড হওয়ায় ছাত্রলীগ থেকে সদ্য অব্যাহতি দেয়া নুরুল আজিম রনি যেকোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন বলে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এর আগেও অধ্যক্ষ জাহেদ খানের দায়ের মামলায় রনিকে গ্রেফতারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ রনিকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোহাগ বলেন, ‘বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে পদ থেকে সাসপেন্ড (বহিষ্কার) করা হয়েছে। তার অব্যাহতির কোনও সুযোগ নেই।’

চট্টগ্রাম নগরীতে এক অধ্যক্ষকে মারধর নিয়ে সমালোচনার রেশ না কাটতেই এবার এক কোচিং সেন্টারের মালিককে পেটানোর অভিযোগ ওঠে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির বিরুদ্ধে। মারধরের সিসি টিভির ভিডিও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে মারধরের ঘটনায় রাশেদ মিয়া নামের ওই ভুক্তভোগী বাদি হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে রনি ও তার বন্ধু নোমানকে আসামি করা হয়েছে।

আপনার মতামত দিন...

Open

Close