চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৬ মে ২০১৮

পাহাড়ে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টির দাবিতে মহাসমাবেশ

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১৩ ১৬:৪৫:৫২ || আপডেট: ২০১৮-০৫-১৩ ১৬:৪৫:৫২

আলমগীর মানিক
রাঙামাটি থেকে

পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ অব্যাহত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি,খুন-গুম ও অপহরণসহ সশস্ত্র সন্ত্রাস বন্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযান যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে, পাহাড়ের আঞ্চলিকদলীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। “পার্বত্যাঞ্চলে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করাসহ পাহাড়বাসীর স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই” এই দাবিতে রোববার রাঙামাটি শহরে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচীতে সচেতন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ এই দাবি জানিয়েছেন। এরআগে সকালে শহরের পৌরসভা প্রাঙ্গন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে নিউ মার্কেট চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়।

সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(জেএসএস) সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অব্যাহত সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বৃদ্ধিসহ তাদের হাতে জাতীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত উপজাতীয় ব্যক্তিদের খুন, অপহরণসহ প্রতিটি উন্নয়ন কাজে চাঁদাবাজি বন্ধসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন, সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য দীপংকর তালুকদার।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো: মূছা মাতব্বর, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলালসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এই কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে রোববার সকাল থেকেই রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার নারী-পুরষের উপস্থিতি ছিলো লক্ষ্যণীয়। বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্রব নাঘটে সেলক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল ১০টার পর রাঙামাটিতে যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে সকলেই উক্ত কর্মসূচীতে একাত্মতা প্রকাশে যোগদান করে। এদিকে সমাবেশ শেষে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামনুর রশিদের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করেন সচেতন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার হত্যার পর আমরা দেখেছি কোন উপজেলা চেয়ারম্যান বা উপজেলা পরিষদের কমিটি নিন্দা জানায়নি, কারণ তারা আতংকগ্রস্ত। শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য শেষে আসার সময় ব্রাশফায়ার করে আরো ৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে যাদের মধ্যে একজন নিরীহ মাইক্রোবাস চালক সজিব হাওলাদার ছিল। সে কি দোষ করেছিল?? সে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিল না তাহলে তাকে হত্যা করা হল কেন? আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। বক্তারা বলেন, আমরা অতীতে লক্ষ্য করেছি যখনি পাহাড়ি বাঙালী একটি দাবী নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হন, তখনি দেখা যাচ্ছে এখানে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, মৌলবাদীরা যেমনি ভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে আমাদের মধ্যে বিভক্তি সৃস্টি করছে ঠিক তেমনি করে পার্বত্য চট্টগ্রামে আমাদের আন্দোলনকে ব্যাহত করার জন্য এখানকার আঞ্চলিকদলগুলো অত্রাঞ্চলে সেনাবাহিনীর নামে, পুলিশের নামে ও প্রশাসনের নামে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং এতে করে তারা সফলতা অর্জন করতে নাপেরে তখন তারা আমাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে করে সশস্ত্র সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিত এই আন্দোলন ভেস্তে যায়। এইরকম একটি পরিস্থিতিতে আমরা আপনাদের প্রতি আহবান জানাবো, যেকোন মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতি বজায় রাখুন এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন।

আপনার মতামত দিন...

Open

Close