চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২৬ মে ২০১৮

মামলা ও হয়রানীর কারনে কেএসআরএম এমডির সহায়তা বন্ধের শঙ্কায় সংকিত এলাকার মানুষ

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১৫ ২৩:৫৯:৫৩ || আপডেট: ২০১৮-০৫-১৬ ১৫:২৭:৩৪

শহীদুল ইসলাম বাবর
বিশেষ প্রতিনিধি

ওনি (শাহজাহান সাহেব) আছে বলেই আমার ছেলে গুলো ভাল চাকুরী করে সংসার চালাতে পারছে। শুধু আমি নই হাজারো মানুষ তার ফ্যাক্টরীতে চাকুরী করে সংসার চালাচ্ছে। তিনি প্রতি বছর স্থানীয় লোকজনসহ দুর-দুরান্ত থেকে আগত গরীব লোকজনকে সহায়তা দিয়ে থাকে। এখন শুনছি তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, আমাদের জীবিকা নির্বাহের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে নাতো ?

গতকাল সাতকানিয়ার পূর্ব গাটিয়াডেঙ্গা গ্রামে সরেজমিন পরির্দশনকালে উপরোক্ত কথা গুলো বলেছিলেন স্থানীয় সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আলী হোসেন। শুধু আলি হোসেন নয়, এ গ্রামের অধিকাংশ সাধারণ জনগনের বক্তব্যই এ রকম।

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল উদ্দিন জানান, মঙ্গলবারও বিভিন্ন এলাকা থেকে দু:স্থ লোকজন সাহায্য নিতে এসেছিল। কিন্তু এখানে সাহায্য দেওয়ার কোন আয়োজন নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত শাহজাহান সাহেব সাহায্য দেওয়ার জন্য এসেছে তিনি কাউকে ঘোষনা দিয়ে সাহায্য বিতরণ করেননি। অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালেই তিনি সাহায্য বিতরন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। নারী নিহত হওয়ার ঘটনাটি নিচক দূর্ঘটনা বলেই মনে করেন তারা।

এদিকে ইফতার সামগ্রী ও যাকাতের পন্যে সংগ্রহ করতে গিয়ে সাতকানিয়ায় পদদলন ও হিটস্ট্রোকে হতাহতের ঘটনায় নিহত এক নারীর স্বামী বাদি হয়ে কবির স্টীল রি-রোলিং মিল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহানকে প্রধান আসামী করে অবহেলাজনিত কারনে মৃত্যু উল্লেখ করে সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। নিহত হাসিনা আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ ইসলাম বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে এ মামলাটি দায়ের করেন।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ জানায়, গত ১৪ মে সোমবার দুপুরে কেএসআরএম এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহানের পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকার দু:স্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী ও যাকাতের কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতনের আয়োজন করা হলে সেখানে অর্ধ লক্ষের কাছাকাছি সংখ্যক নারী পুরুষ তা সংগ্রহে সাতকানিয়া উপজেলার পূর্ব গাটিয়াডেঙ্গা কাদেরীয়া মঈনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানার মাঠে জড়ো হয়। সেখানে প্রচন্ড ধাক্কাধাক্কিতে পদদলন ও শ্বাসরোধ হয়ে অন্তত ৯ নারী নিহত হয়। এ ঘটনায় নিহত হাসিনা আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ ইসলাম বাদী হয়ে ৩০৪ (ক)/ ৩৪ ধারায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নাম্বার-১৭ তারিখ-১৫/০৫/১৮ ইং। থানার পরিদর্শক তদন্ত মুজিবুর রহমান মামলাটি তদন্ত করছেন। এদিকে গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে তাদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) মুজিবুর রহমান বলেন, সবে মাত্র মামলা দায়ের হলো। মামলায় প্রধান আসামী হিসেবে কেএসআরএম এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহানকে প্রধান ও অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের আসামী করা হয়েছে। শীঘ্রই মামলার তদন্ত কাজ শুরু হবে।

এদিকে গতকাল দুপুুরে সরেজমিন পরির্দশন কালে দেখা যায়, কাদেরীয়া মঈনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা ও হেফজখানা ও এতিমখানার মাঠে গত সোমবারের চিত্র আর নেই। বিতরনের জন্য জমায়েত করা ইফতার সামগ্রী ও যাকাত সামগ্রীর স্তুপ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টাঙানো সামিয়ানা খুলে নিয়ে যাচ্ছে ডেকোরেটার্সের লোকজন।

গাটিয়াডেঙ্গা এলাকার সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি শুধু নিজের জন্য সম্পদ অর্জন করেন না। তার অর্জিত সম্পদ এলাকাবাসীর উন্নয়নেও ব্যাহত করেন। তার টাকায়হাঙ্গরমুখে ডলু নদীতে বাধ তৈরী হয়েছে। না হয় অনেক আগেই আমাদের ঘর বাড়ি ডলু নদীতে তলিয়ে যেত।

আপনার মতামত দিন...

Open

Close